বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে নেওয়া হবে পোশাক কারখানা

পোশাক কারখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে কারখানা স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের ওপর আয়োজিত ‘নিরাপদ জ্বালানি ভবিষ্যৎ : বিদ্যুৎ ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এবং টুভ সুড সাউথ এশিয়া (প্রাইভেট লিমিটেড) যৌথভাবে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। ডিসিসিআই সহসভাপতি মো. শোয়েব চৌধুরীর সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান এ আর খান এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. থমাস প্রিঞ্জ প্রমুখ।

তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, পোশাক খাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কিছু বড় বড় কারখানাকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পাশে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। যাতে তারা সরাসরি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লার থেকে বিদ্যুৎ পেতে পারে। তিনি আরো বলেন, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারে দেশ অনেক এগিয়েছে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের দেশ। বর্তমানে দেশে ৩২ লাখ সৌর প্যানেল ব্যবহার হচ্ছে।

তৌফিক-ই-এলাহী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির অনগ্রসরতার সঙ্গে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই আমাদের সরকারের অঙ্গীকার ছিল ২০২১ সালের মধ্যে সবার জন্য বিদ্যুৎ নিশ্চিত করা। তবে আমরা আশা করছি ২০২১ নয়, এর আগেই ২০১৮-২০১৯ সালের মধ্যেই দেশের সব মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে পারব।’

এ আর খান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে এবং যার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস থেকে আসবে ছয় হাজার মেগাওয়াট।

ড. থমাস প্রিঞ্জ জানান, দীর্ঘ চার দশক ধরে বাংলাদেশ ও জার্মানি জ্বালানি খাতের উন্নয়নে একযোগে কাজ করে আসছে। দুই দেশের চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মধ্যে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, বাংলাদেশ ও জার্মানির যৌথ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামে ২০ হাজার ইলেকট্রিক প্রি-প্রেইড মিটার স্থাপনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।