ফ্লাইওভার হচ্ছে শান্তিনগর থেকে ঝিলমিল পর্যন্ত

নভেম্বরে দরপত্র কাজ শুরু জানুয়ারিতে

আগামী বছরের জানুয়ারিতেই দেশের দীর্ঘতম ফ্লাইওভার শান্তিনগর-ঝিলমিল প্রকল্পের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। নভেম্বরের দিকে দরপত্র আহ্বান করা হবে। ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। লে-আউট প্ল্যান ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটির (ডিটিসিএ) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ২০ সেপ্টেম্বর এ নিয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) এবং ডিটিসিএ প্রকল্প-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেছে। এ মাসের মধ্যে লে-আউট প্ল্যানের অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। আর এ অনুমোদন পেলেই মূল নকশা প্রণয়নের কাজ শুরু হবে। এসব কাজ চলতি বছরের মধ্যেই শেষ করতে চায় সরকার। আর ফ্লাইওভারটি যুক্ত হবে মাওয়া ঘাট থেকে ঢাকার দিকে আসা পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কের সঙ্গে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে শান্তিনগর-ঝিলমিল ফ্লাইওভার প্রকল্পের পরিচালক রায়হান আল ফেরদৌস বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আশা করছি আগামী বছরের জানুয়ারিতেই কাজ শুরু করা যাবে।’ কাজ শুরুর দিন থেকে পরবর্তী দুই বছরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে জানান তিনি। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পদ্মা সেতুর সঙ্গে সরাসরি ঢাকাবাসীর সংযোগ সৃষ্টি হবে। কেননা ঝিলমিলে যে সরকারি আবাসিক প্রকল্পের কাজ চলছে, সেখান থেকে খুব কাছাকাছি জায়গা পর্যন্ত পদ্মা সেতুর সংযোগ সড়কটি আসবে। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মানুষ পদ্মার ওপারে চলে যেতে পারবে, যা পদ্মা নদীর ওপারের জেলা শহরগুলোতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে সময় কমিয়ে আনবে বলে মনে করেন তিনি। রাজউক সূত্র জানায়, শান্তিনগর থেকে ঝিলমিল পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হবে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) মাধ্যমে। এ প্রকল্পের আওতায় পুরান ঢাকার যানজট নিরসনে গোলাপ শাহ মাজার সার্কেল (গুলিস্তান) থেকে বাবুবাজার ব্রিজ পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজউক। এর সঙ্গে পল্টন থেকে গোলাপ শাহ মাজার-বাবুবাজার হয়ে ঝিলমিল আবাসিক এলাকা পর্যন্ত আরেকটি ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হবে।

শান্তিনগর-ঝিলমিল ফ্লাইওভার প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৬৭০ কোটি টাকা। এটি হবে একটি নান্দনিক ফ্লাইওভার। এর মোট দৈর্ঘ্য হবে ১৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার। প্রশস্ত হবে ৯ দশমিক ১০ মিটার (দুই কিংবা চার লেনও হতে পারে)। তবে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কোথাও কোথাও চার লেন করা হবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া থাকবে দুই লেনযুক্ত র‌্যাম্প, যা এই স্থাপনাটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেবে। ফ্লাইওভারটি পল্টন ইন্টারসেকশন এবং ফুলবাড়িয়া ইন্টারসেকশন অতিক্রম করবে। প্রকল্পের আওতায় কদমতলী গোলচত্বর থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১০০ ফুট প্রশস্ত একটি সড়কও নির্মাণ করা হবে। যাত্রাবাড়ীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের সঙ্গে যুক্ত করতে বাবুবাজার সেতুর পাশে চতুর্থ বুড়িগঙ্গা সেতু নির্মাণ করা হবে। বুড়িগঙ্গার নতুন সেতু অতিক্রম করেই ঝিলমিলে মিলিত হবে ফ্লাইওভারটি। এতে পরিবহন ও মানুষ যাতায়াতের জন্য মোট আটটি পথ থাকবে। এ ছাড়া সার্বিকভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং ঢাকার পাশে কেরানীগঞ্জ, দোহার ও নবাবগঞ্জের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগ সহজ হবে। ঢাকার অদূরে দোহার অঞ্চলে পদ্মা নদীর পারের আশপাশে একটি আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশন সেন্টার তৈরির চিন্তা করছে সরকার। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ইতিমধ্যে সম্ভাব্য স্থানও পরিদর্শন করেছেন একাধিকবার। এ ক্ষেত্রে কনভেনশন সেন্টার হলে যেসব বড় অনুষ্ঠান বা সম্মেলন সেখানে অনুষ্ঠিত হবে, এর অতিথি বা অংশগ্রহণকারীরাও এ ফ্লাইওভার ব্যবহার করে খুব সহজেই ঢাকা থেকে সম্মেলন কেন্দ্রে পৌঁছতে পারবেন। এটি পদ্মাপারের মানুষকে এক অনন্য ঢাকার সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবে বলে মনে করে সরকার। এ ছাড়া পুরান ঢাকার ঘিঞ্জিবাসীকে এবং বুড়িগঙ্গা নদীর অন্য পারকে আধুনিক ঢাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া দিতে এ ফ্লাইওভার খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করে রাজউক।