আর নয় স্কুল ফাঁকি বায়োমেট্রিক প্রযুক্তিতে এসএমএস যাবে অভিভাবকদের কাছে

স্কুল পালানো প্রতিরোধ এবং স্কুলের বিভিন্ন বিষয় অভিভাবকদের অবহিত করতে এবার চট্টগ্রামে স্কুলে চালু করা হয়েছে নতুন প্রযুক্তি। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন পরিচালিত কুসুম কুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রথমবারের মতো বসানো হয়েছে এই প্রযুক্তি। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে স্কুলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও স্কুল ত্যাগের বিষয়টি যেমন জানতে পারবেন শিক্ষকরা, তেমনি অভিভাবকরাও। এসএমএসের মাধ্যমে অভিভাবকদের মোবাইলে পেঁৗছে যাবে এ তথ্য। আবার একই প্রযুক্তি দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মনিটর করা যাবে শিক্ষকদেরও। এই প্রযুক্তির নাম বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি।

জানা গেছে, কোন শিক্ষক কোন সময়ে স্কুলে এলেন-গেলেন কিংবা যথাসময়ে শ্রেণীকক্ষে গেলেন কি-না তাও নিশ্চিত করা যাবে বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির মাধ্যমে। স্কুলে বিশেষ ক্লাস বা মডেল টেস্ট এবং পরীক্ষার ফলও অভিভাবকদের জানানো যাবে বিশেষ এ প্রযুক্তির মাধ্যমে। এ প্রযুক্তি ব্যবহারে সফলতা পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে নগরীর অন্য স্কুলগুলোতেও তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সিটি করপোরেশনের। কুসুম কুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চম্পা মজুমদার সমকালকে বলেন, ‘ছেলেমেয়েরা স্কুলে ঠিকমতো পেঁৗছেছে কি-না এবং ঠিকমতো ক্লাস করছে কি-না তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকেন অভিভাবকরা। বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি তাদের এ উদ্বেগ অনেকটাই নিরসন করবে। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে জানা যাবে এসব বিষয়। শারদীয় দুর্গাপূজার বন্ধের পর বায়োমেট্রিক প্রযুক্তি চালু করা হবে। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের ফিঙ্গারপ্রিন্টসহ প্রয়োজনীয় ডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে।’

কুসুম কুমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের উদ্যোগটি নিয়েছেন সিটি করপোরেশনের স্থানীয় কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ করছে ডবি্লউথ্রিএক্সপ্লোরার্স বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠান।

সিটি করপোরেশনের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সমকালকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ক্লাসে শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পাইলট প্রকল্প হিসেবে এ প্রযুক্তি বসানো হচ্ছে। যদি এ প্রকল্প সফল হয় তাহলে পর্যায়ক্রমে সিটি করপোরেশনের সব স্কুল-কলেজে এ প্রযুক্তি বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগতভাবে পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের জামাল খান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন।