দুই বছরে ১২ হাজার কোটি টাকা মুনাফার লক্ষ্য

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে মুনাফা হয়েছে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। অর্থবছরের বাকি সময়ে আরো ৫ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করতে চায় বিপিসি। সব মিলিয়ে দুই বছরে তাদের মুনাফার লক্ষ্য ১২ হাজার কোটি টাকা।

চলতি বছরের শুরুর দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে রেকর্ড পতন হয়। অর্ধেকে নেমে আসে পণ্যটির দাম। দেশের বাজারে দাম সমন্বয় না হওয়ায় গত জানুয়ারি থেকে মুনাফায় ফিরতে শুরু করে বিপিসি।

বিপিসির চেয়ারম্যান এএম বদরুদ্দোজা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বর্তমান ধারায় থাকলে তাদের মুনাফা অব্যাহত থাকবে। সরকার যদি আগামী জুন পর্যন্ত তেলের দাম না কমায়, তাহলে বিপিসির মুনাফা ৭ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়াবে। গত অর্থবছর তাদের মুনাফা হয়েছে ৫ হাজার কোটি টাকা।

জ্বালানি বিভাগ সূত্র জানায়, জ্বালানি তেলের দাম কমালে তা সাধারণ মানুষের ওপর প্রভাব পড়বে না। কৃষক কিছুটা লাভবান হলেও কমবে না পরিবহন ভাড়া। তাছাড়া দাম কমালে প্রতিবেশী দেশে জ্বালানি তেল পাচারেরও ঝুঁকি থাকবে। এ কারণে সরকার এ বিষয়ে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করছে। তাছাড়া ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে চার অর্থবছরে সরকার জ্বালানি তেলে ভর্তুকি বাবদ বিপিসিকে ৩৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা দিয়েছে। এ ঘাটতি মেটানোর জন্যও সরকার সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করছে।

বিপিসি জানায়, গত ডিসেম্বরে লোকসান থেকে বেরিয়ে আয়-ব্যয়ে ভারসাম্য আনে প্রতিষ্ঠানটি। আর জানুয়ারি থেকে মুনাফার ধারায় ফেরে। এখন পর্যন্ত এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বর্তমান ধারায় স্থিতিশীল থাকলে বিপিসির আগের ঘাটতি কমিয়ে আনা যাবে। পাশাপাশি কিছু উন্নয়ন প্রকল্পে হাত দিতে পারবে।

বিশ্বব্যাংকের এক হিসাবে দেখা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে পেট্রোল ও অকটেনে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করেছে বিপিসি। এছাড়া ফার্নেস অয়েলে মুনাফা হচ্ছে ৪৮, জেট ফুয়েলে ৩৪, ডিজেলে ২৭ ও কেরোসিনে ২৫ শতাংশ। গত অর্থবছরের শেষ দিকে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রকারভেদে ৪৫-৪৮ ডলারে ওঠানামা করে। লন্ডনের ইন্টার কন্টিনেন্টাল এক্সচেঞ্জে (আইসিই) নভেম্বরে সরবরাহ চুক্তিতে গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অয়েলের দাম কমে দশমিক ৯ শতাংশ।