দ্রুততম প্রবৃদ্ধিতে ভারতের পরেই বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী পৃথিবীতে দ্রুততম প্রবৃদ্ধির অঞ্চলে পরিণত হয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। বর্তমান বছরে এই অঞ্চলের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি আয় ২০১৬ সালে ৭ দশমিক ৪ এ উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০১৫ সালের হিসেবে দ্রুত বর্ধনশীল এই অঞ্চলে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে শীর্ষে থাকা ভারতের পরেই ৬ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ রয়েছে দ্বিতীয় অবস্থানে।

‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক ফোকাস’ নামের ওই প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, ২০১৬ সালে ভারতের প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে অপরিবর্তিত থাকবে।

চলতি বছর এপ্রিলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ গতিশীলতা এসেছে বলে বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়। কৃষিতে সন্তোষজনক উৎপাদন এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণে সক্ষমতা অর্জন প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বলে মনে করে বিশ্ব ব্যাংক। তবে অস্থিতিশীলতা, রপ্তানিখাতে স্থবিরতা, মধ্যম মাত্রার রেমিটেন্স প্রবাহ এবং বেসরকারিখাতে চলমান দুর্বলতা নিয়ে শংকার কথাও উঠে এসেছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনটির সঙ্গে প্রকাশিত ফ্যাক্ট শিট অনুযায়ী বর্তমান প্রবৃদ্ধির মাত্রায় পরাশক্তি হয়ে ওঠা ভারত আগামী বছরও শীর্ষ অবস্থান বজায় রাখবে।

দেশটির অগ্রসরমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় আগামী বছর মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি দাড়াবে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। বর্তমান প্রবৃদ্ধির হার ধরে রাখবে বাংলাদেশ। সংকটে থাকা আফগানিস্তান, ভূমিকম্প বিধ্বস্ত নেপাল এবং শ্রীলংকার সংশোধন কর্মসূচীতে প্রবৃদ্ধির কাক্সিক্ষত লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হবে বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংক প্রতিবেদনে জানানো হয় সেবাখাত ও কর্মক্ষেত্র বৃদ্ধি, ক্রমবর্ধনশীল ভোক্তা শ্রেণী এবং পাল্লা দিয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সার্বিক গতি এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে । বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে খাদ্য ও নিত্যপণ্যের দাম কম হওয়ায় মুদ্রাস্ফীতির চাপও কম। তবে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে দক্ষিণ এশিয় রাষ্ট্রগুলোর জন্য প্রতিবেদনে অবকাঠামোগত সংস্কারের পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ মার্টিন রামা মনে করেন এই অঞ্চল শক্তিশালী অবস্থানে থাকলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় রপ্তানি এবং বিনিয়োগ বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। তাই বৃহত্তর প্রতিযোগিতার স্বার্থে প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে অবকাঠামোগত বাধা দূর করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছেন বিশ্বব্যাংকের এই অর্থনীতিবিদ।