দ্রুত এগোচ্ছে পদ্মা সেতুর কাজ

মূল অংশের ১৩.৫৭ শতাংশ কাজ শেষ। সংযোগ সড়কের বাকি ৫০ শতাংশ

দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বহুল আলোচিত স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ। এখন পর্যন্ত সেতুর মূল অংশের ১৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া গত আগস্ট পর্যন্ত সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের কাজ শেষ হয়েছে ৪৮ ও ৫০ শতাংশ। শীত মৌসুমে মূল সেতুর কাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে বলে আশা করছেন সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা। ফাস্ট ট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলোর এক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্প পর্যালোচনা সভার কার্যপত্রের একটি কপি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এদিকে, এ প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার পর গত তিন বছরে মোট বরাদ্দের ৩৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় হয়েছে। আর প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ২৫ শতাংশ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো ওই কার্যপত্রে বলা হয়, বৃহৎ এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। মূল অংশের কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিসহ আনুষঙ্গিক মালামাল ইতিমধ্যে আমদানি করা হয়েছে। এসব কেনাকাটাকে বিবেচনায় নিলে এ অংশের কাজ প্রায় ১৪ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। আসন্ন শীত মৌসুম শুরুর আগেই প্রধানমন্ত্রী মূল সেতুর কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ সূচনা করবেন।

সেতু বিভাগের একটি সূত্র জানায়, আসন্ন শুষ্ক মৌসুম থেকে সেতুর মূল অংশের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ জন্য অর্থের জোগানে কোনো সমস্যা হবে না বলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানিয়েছে অর্থ বিভাগ। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটে পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। আর গত আগস্ট পর্যন্ত এ বরাদ্দের বিপরীতে ১ হাজার ৭৯৬ কোটি টাকা অবমুক্ত করেছে অর্থ বিভাগ। এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জীভূত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩৬৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। পদ্মা সেতু নির্মাণে সর্বশেষ সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। বিশ্বব্যাংক তাদের অর্থায়ন বাতিল করার আগ পর্যন্ত পদ্মা সেতুর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা। সময় অতিবাহিত হওয়ায় এবং নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরুতে বিলম্ব হওয়ায় ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে ২৪ হাজার কোটি টাকা। আর ২০১৮ সালের আগেই প্রকল্প শেষ হবে বলে আশা করছে সরকার। এদিকে পদ্মা সেতু প্রকল্পের নদীশাসন কাজের জন্য সেতু কর্তৃপক্ষ তিনটি ড্রেজার, তিনটি অ্যাংকার বোট, একটি টাগ বোট, একটি মালিপারপাস জাহাজ, ২৫টি কন্টেইনারসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। আর নদীশাসন কাজের ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পরিবেশ কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রকল্প এলাকা মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরে সরকার ১ হাজার ৫৯৯ হেক্টর জমির বিপরীতে ১ হাজার ২৩০ হেক্টর জমি অধিগ্রহণ করেছে। এ ছাড়া ২ হাজার ৫৯২টি প্লটের মধ্যে ১ হাজার ৩৩১টি প্লট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬২টি প্লট দেওয়া হয়েছে ভূমিহীনদের মধ্যে। প্রকল্প এলাকার ভাঙন ঠেকাতে ও পরিবেশ রক্ষায় ৬৭ হাজার ৫৫০টি বিভিন্ন প্রকার গাছের চারা লাগানো হয়েছে। সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, আগামী শুষ্ক মৌসুমে প্রকল্পের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হবে। প্রকল্পের সব কাজ এগিয়ে চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।পদ্মা সেতুর কাজ ২৫ ভাগ সম্পন্ন : সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, পদ্মা সেতুর কাজ এরই মধ্যে ২৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজেরও ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, সেতু প্রকল্পের যন্ত্রপাতি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় মূল সেতুর পিলার পাইলিং ও নদী শাসনের কাজ এই অক্টোবরে শুরুর কথা থাকলেও তা আগামী নভেম্বরে শুরু হবে। এ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মন্ত্রী গতকাল মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকায় পদ্মা সেতু প্রকল্প এলাকায় কর্মরত দেশি-বিদেশি কর্মকর্তা ও কর্মীদের সঙ্গে নিরাপত্তাবিষয়ক আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করার সময় এ কথা বলেন। বেলা ১টার দিকে তিনিসহ পদ্মা সেতু প্রকল্পের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় মন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন সেনাবাহিনীর ৯৯ ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুল হক (পিএসএফ), পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রজেক্ট ম্যানেজার দেওয়ান আবদুল কাদের, নির্বাহী প্রকৌশলী (পুনঃ) তোফাজ্জল হোসেন, প্রজেক্ট ব্যবস্থাপক ও চায়না মেজর ব্রিজ কোম্পানির প্রকৌশলী মি. লিও, চায়নার সিনোহাইড্রো সিকোরেটি চিফ মি. কিংকুম, সহকারী পুলিশ সুপার সামুজ্জামান, লৌহজং থানার ওসি জাকির হোসেন প্রমুখ।