সন্ত্রাস-নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে অভিযান

চব্বিশ ঘণ্টায় ২৩শ গ্রেফতার অস্ত্র-গুলি উদ্ধার

দেশব্যাপী সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও নাশকতাকারীদের বিরুদ্বে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে বিশেষ করে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনার পর পুলিশ জোর অভিযানে নামে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশেষ অভিযানে ১৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০টি অন্য অস্ত্র, ৩৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়াও ১১টি ককটেল ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।অভিযানের সময় অস্ত্র মামলার আসামি ৯ জন, সাজাপ্রাপ্ত ৪০ জন, গ্রেফতারি পরোয়াভুক্ত ১৬৩২ জন গ্রেফতার হয়েছে। বিভিন্ন অপরাধে মোট ২৩৪০ ব্যক্তিকে নানা অপরাধে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা, পুরনো নাশকতার মামলার পলাতক আসামিরা নানাভাবে অপরাধ করছে বলে পুলিশের উচ্চপর্যায় থেকে বলা হয়। অপরাধীরা ঘন ঘন আস্তানা পরিবর্তন করে সংগঠিত হয়ে সন্ত্রাস করছে। এসব বিষয় নিয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়েছে। অভিযানে সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, অস্ত্র মামলার আসামি ও নাশকতার মামলার পলাতক আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত করে গ্রেফতার চালাচ্ছে। গ্রেফতার অভিযান চালানোর কারণে সন্ত্রাসীরা অপরাধ না করে গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে যাবে অথবা পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হবে। একই সঙ্গে অপরাধীরা যাতে অস্ত্র বহন করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে অপরাধ ঘটাতে না পারে তার জন্য পথে পথে চেকপোস্ট ও তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। মোটরসাইকেলে অপরাধ করছে এমন আশঙ্কা থেকে মোটরসাইকেলে তল্লাশি অভিযানে বেশি নজর দেয়া হচ্ছে।সূত্র মতে, সংঘবদ্ধ চক্র আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটিয়ে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তারা আন্তর্জাতিকভাবে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার টার্গেট নিয়ে আরও বড় ধরনের অপরাধ ঘটাতে পারে। এছাড়াও দেশের কারাগারগুলোতে আটক ফাঁসির আসামিসহ সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা ষড়যন্ত্র করে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে বিশৃঙ্খলা ঘটাতে ষড়যন্ত্র করতে পারে। এমন আশঙ্কা থেকে অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশ হার্ডলাইনে অবস্থান নিয়েছে। এ নিয়ে পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে জরুরি বৈঠকের পর শনিবার রাত থেকে সারাদেশে তালিকাভুক্ত অস্ত্রধারী আসামি গ্রেফতারে নামে পুলিশ।সূত্র মতে, বোমাবাজ ও নাশকতার মামলার অনেক আসামি দীর্ঘদিন পলাতক ছিল। গত রমজান ও কোনবানির ঈদের সময় অনেকেই আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এসে আবার সংঘবদ্ধ হচ্ছে। তারা মোবাইল ফোনে তাদের সহযোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। অনেকেই নতুন করে আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। এই সুযোগে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে এবং দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। ষড়যন্ত্রের সর্বশেষ কৌশল হিসেবে বিদেশি নাগরিকদের টার্গেট করা হয়েছে।জেলা পুলিশের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, গুলি করে হত্যা বেড়ে যাওয়ায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। অস্ত্রধারীদের তালিকা অনুযায়ী অভিযান চলছে। আর সন্দেহভাজন নাশকতাকারীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। সন্ত্রাসী যেই হোক কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। এই টার্গেট নিয়ে জেলায় জেলায় সন্ত্রাস দমনে ও অস্ত্রধারী গ্রেফতারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।জেলার একজন এসপি সংবাদকে জানান, জেলায় জেলায় অস্ত্রধারী গ্রেফতার ও মোটরসাইকেল তল্লাশি অভিযান চলছে। তিনজন মোটরসাইকেলে দেখলে মোটরসাইকেল থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়াও গাড়ি পোড়ানো ও নাশকতার মামলার বহু আসামি পলাতক থেকে নানা তৎপরতা চালাতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।উল্লেখ্য, অভিযানের পাশাপাশি দেশজুড়ে আগাম তথ্য সংগ্রহে গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধ দমনে পদক্ষেপ নেয়া হবে।