অস্ট্রেলিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের চেয়েও এগিয়ে বাংলাদেশ

গ্যালাপের ‘বৈশ্বিক আইনশৃঙ্খলা সূচক-২০১৫’

ব্যক্তিগত নিরাপত্তা প্রশ্নে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩০তম। নিরাপত্তার দিক থেকে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স ও ভারতের চেয়েও ভালো অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের একটি জনপ্রিয় জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গ্যালাপের এক জরিপ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর ‘বৈশ্বিক আইনশৃঙ্খলা সূচক-২০১৫’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী নিরাপত্তা প্রশ্নে ঝুঁকি বিবেচনা করে পশ্চিমা দেশগুলো বিশ্বের দৃশ্যত নিরাপদ দেশগুলোর যে মানচিত্র তৈরি করেছে তাতেও বাংলাদেশের নাম রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকদের বাংলাদেশ সফরে আসতে কোনো ধরনের নিষেধাজ্ঞাও দেওয়া হয়নি তাদের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দফতরের হালনাগাদ পরামর্শে। প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কেন নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে অস্ট্রেলিয়া তার ক্রিকেট দলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত করেছে। অস্ট্রেলীয়দের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে আফগানিস্তান, বুরুন্ডি, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, চাঁদ, ইরাক, লিবিয়া, মালি, নাইজার, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, ইয়েমেনের মতো ১৩টি দেশ সফরের ক্ষেত্রে। এর চেয়ে কম মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ সৌদি আরব, পাকিস্তান, বাহরাইন, মিসর, ইরান, লেবাননসহ ১৭টি দেশ সফরের ক্ষেত্রে ‘রিকনসিডার ইয়োর নিড টু ট্রাভেল’ (ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা পুনর্বিবেচনা করুন) পরামর্শ রয়েছে অস্ট্রেলীয়দের জন্য।

জরিপে ৮৯ স্কোর পেয়ে তালিকায় সিঙ্গাপুর সবার ওপরে রয়েছে। আগের বছরও দেশটি শীর্ষে ছিল। তালিকায় ৩০ নম্বরে থাকা বাংলাদেশের স্কোর ৭৮। জাপান ও নিউজিল্যান্ডের স্কোরও তাই। ৩৮ নম্বরে থাকা যুক্তরাষ্ট্র এবং ৩৯ নম্বরে থাকা অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৭৭। ৪৪ নম্বরে থাকা ফ্রান্সের স্কোর ৭৫। ৬৩ নম্বরে থাকা ইতালির স্কোর ৭১ এবং ৭৭ নম্বরে থাকা ভারতের স্কোর ৬৭।

অস্ট্রেলিয়ার এমন পরামর্শ বলবৎ আছে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ অ্যাঙ্গোলা, বেনিন, বলিভিয়া, ব্রাজিল, মিয়ানমার, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, আইভরি কোস্ট, জিবুতি, ডমিনিক প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গ্যাবন, গুয়াতেমালা, গায়ানা, হাইতি, হন্ডুরাস, ইন্দোনেশিয়া, ইসরায়েল, ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীর, জ্যামাইকা, জর্দান, কেনিয়া, কসভো, কুয়েত, কিরগিজ প্রজাতন্ত্র, লেসেথো, লাইবেরিয়া, মাদাগাস্কার, মেক্সিকো, মরক্কো, মোজাম্বিক, নিকারাগুয়া, পানামা, পাপুয়া নিউগিনি, প্যারাগুয়ে, পেরু, ফিলিপিন্স, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেনেগাল, দক্ষিণ আফ্রিকা, তাজিকিস্তান, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, তিমুর লেস্তে, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, তুরস্ক, উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভেনিজুয়েলা ও জিম্বাবুয়ে অর্থাৎ বিশ্বের অন্তত ৫৯টি রাষ্ট্রের ক্ষেত্রে।

পরামর্শের তালিকা থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডাসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর নামও বাদ যায়নি। ওই দেশগুলোসহ মোট ৮৩টি রাষ্ট্র বা ভূখণ্ড সফরের সময় অস্ট্রেলীয়দের ‘সাধারণ মাত্রার সাবধানতা’ অবলম্বন করার কথা বলছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। ওপরের চারটি নিরাপত্তা পরামর্শ থেকে কোনো দেশই বাদ যায়নি। বরং ওই চারটি নিরাপত্তা ঝুঁকির মাত্রায় (উচ্চ থেকে নিম্ন) বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে আছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ৩৯টি দেশের বিষয়ে ‘ট্রাভেল ওয়ার্নিং’ এবং ছয়টি দেশের বিষয়ে ‘ট্রাভেল অ্যালার্ট’ রয়েছে। এর কোনোটিতেই বাংলাদেশ নেই। ‘ট্রাভেল ওয়ার্নিং’-এর মেয়াদ কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে। সাধারণত অস্থিতিশীল সরকার, গৃহযুদ্ধ, ভয়াবহ অপরাধ বা সহিংসতা অব্যাহত থাকা কিংবা প্রায়ই সন্ত্রাসী হামলার প্রেক্ষাপটে ‘ট্রাভেল ওয়ার্নিং’ দিয়ে মার্কিন নাগরিকদের সে দেশে না যেতে জোরালোভাবে উৎসাহিত করা হয়। আফগানিস্তান, পাকিস্তান, নেপাল, সৌদি আরবের মতো দেশের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ট্রাভেল ওয়ার্নিং’ রয়েছে। অন্যদিকে ‘ট্রাভেল অ্যালার্ট’ হয় স্বল্প মেয়াদে। নির্বাচন, বিক্ষোভ, সমাবেশ, সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব এসব কারণে সাধারণ ‘ট্রাভেল অ্যালার্ট’ দেওয়া হয়। তিউনিসিয়া, তানজানিয়ার মতো দেশের ক্ষেত্রে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের এমন অ্যালার্ট রয়েছে।