ফেলিক্স থেকে চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ প্রধানমন্ত্রীর যত অর্জন

জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘চ্যাম্পিয়ন্স অব দ্য আর্থ’ অর্জন নিঃসন্দেহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতার একটি অংশ। বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার প্রাপ্তি জাতিকে গর্বিত করে। তিনি যে একজন দূরদৃষ্টিসম্পন্ন নেত্রী তার প্রমাণ তিনি রেখেছেন সেই ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই। তাঁর পরিকল্পনা এবং দৃঢ় নেতৃত্বের স্বীকৃতি পেয়েছেন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে। ১৯৯৮ সাল থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পাওয়া অর্জনগুলোর একটি খণ্ডচিত্র।

১৯৯৮
শান্তিবাদী উন্নয়নমূলক কাজে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো প্রদত্ত ফেলিক্স শান্তি পুরস্কার অর্জন। একই বছরে নিখিল ভারত শান্তি পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত মাদার তেরেসা পুরস্কার এবং নরওয়ের এম কে গান্ধী ফাউন্ডেশন কর্তৃক প্রদত্ত এস কে গান্ধী পুরস্কার পান।

১৯৯৯
ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক কর্মসূচি সম্মানজনক সেরেস পদক অর্জন।

২০০৯
ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার অর্জন।

২০১০
বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এশিয়ান-ওশেনিয়া কম্পিউটিং ইন্ডাস্ট্রি অর্গানাইজেশন প্রদত্ত আইটি পুরস্কার লাভ করেন। একই বছর শিশুমৃত্যু হ্রাস সংক্রান্ত এমডিজি-৪ অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতিসংঘ কর্তৃক এমডিজি অ্যাওয়ার্ড-২০১০ পুরস্কার পেয়েছেন।

২০১১
প্যারিসের ডাউফিন ইউনিভার্সিটি মর্যাদাপূর্ণ স্বর্ণপদক ও ডিপ্লোমা পুরস্কার প্রদান করে। আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ), সাউথ-সাউথ নিউজ ও জাতিসংঘের আফ্রিকা সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কমিশন কর্তৃক যৌথভাবে প্রদত্ত ‘সাউথ সাউথ অ্যাওয়ার্ড ২০১১ :ডিজিটাল ডেভলপমেন্ট ফর ডিজিটাল হেলথ’ শীর্ষক পদক লাভ করেন। একই বছর ইংল্যান্ডের হাউস অব কমনসের স্পিকার জন বারকো এমপি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে দূরদর্শী নেতৃত্ব, সুশাসন, মানবাধিকার রক্ষা, আঞ্চলিক শান্তি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধিতে তার অনবদ্য অবদানের জন্য ‘গ্লোবাল ডাইভারসিটি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করেন।

২০১২
বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে বিশেষ অবদানের জন্য ইউনেস্কো কর্তৃক ‘কালচারাল ডাইভারসিটি পদক’ লাভ করেন। একই বছর ভারতের স্বনামধন্য সংবাদপত্র তাঁকে টাইমস অব ইন্ডিয়া ‘আর্থ কেয়ার’ পুরস্কার প্রদান করে এবং এইচএসবিসি-ডেইলি স্টার ক্লাইমেট অ্যাওয়ার্ড পান।

২০১৩
জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা দারিদ্র্য, অপুষ্টি দূর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করায় বাংলাদেশকে ‘ডিপ্লোমা অ্যাওয়ার্ড’ পদকে ভূষিত করে। সেইসাথে দেশে খাদ্য নিরাপত্তা ও দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর সাউথ সাউথ কো-অপারেশনের ‘সাউথ-সাউথ অ্যাওয়ার্ড-২০১৩’ পুরস্কার লাভ করেন তিনি।

২০১৪
নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী শিক্ষার উন্নয়নে অবদানের জন্য ইউনেস্কো পিস ট্রি পুরস্কার পেয়েছেন।

২০১৫
নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন ও লিঙ্গ বৈষম্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় এ বছর উইমেন ইন পার্লামেন্ট গ্লোবাল ফোরাম অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন।

এছাড়া বিশ্বের স্বনামধন্য অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে তাঁর পরিবেশ বিষয়ক নীতি নির্ধারণ, শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গরুত্বপূর্ণ অবদান রাখায় সম্মানসূচক ডিগ্রি প্রদান করেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৩টি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন তিনি। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় ও অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ‘ডক্টর অব ল’, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ব-ভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ‘দেশিকোত্তম’, রাশিয়ার পিপলস বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত ডক্টর অব সায়েন্স’ প্রভৃতি।