ঈদ ছুটিতে বেড়াতে পারেন রাজধানীতে

ঈদের ছুটিতে চিরচেনা রাজধানী হয়ে উঠেছে অচেনা। নেই যানজট ভোগান্তি, চিরচেনা কোলাহল। নাড়ির টানে অনেকে ঢাকা ছেড়ে গেছেন স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ উদযাপনে।

তবে রাজধানী একেবারে ফাঁকা হয়ে যায়নি। অনেক মানুষ পরিবার নিয়ে স্থায়ীভাবে ঢাকায় থাকেন। এর পাশাপাশি ঢাকার আদি বাসিন্দারাতো আছেনই।

তাই ছুটির দিনগুলোতে রাজধানীতে অবস্থানকারীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারেন মহানগরীর বিভিন্ন স্থাপত্য ও বিনোদন কেন্দ্রে। রাজধানীর এমন কয়েকটি স্পটের কথা উল্লেখ করা হলো।

হাতিরঝিল : ইট-পাথরের এই ব্যস্ত শহরে ক্লান্তিকর নাগরিক জীবনে একটু শান্তির পরশ দিতে রাজধানীর হাতিরঝিল হয়ে উঠেছে মনোরম এক বিনোদন কেন্দ্র। দিনে কিংবা রাতে যে কেউই ঘুরে আসতে পারেন হাতিরঝিলে।

এ এলাকাটি উদ্ধোধন ও জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ২০১৩ সালের ২ জানুয়ারি। এ প্রকল্প চালুর ফলে ঢাকার তেজগাঁও, গুলশান, বাড্ডা, রামপুরা, মৌচাক ও মগবাজারের এলাকার বাসিন্দাসহ এ পথ দিয়ে চলাচলকারীরা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন।

এ প্রকল্পের প্রাণ হাতিরঝিল ও বেগুনবাড়ী খাল। বিনোদনের জন্য খালে থাকছে নৌকা চালানোর ব্যবস্থা, ছোট পরিসরে পিকনিক স্পট, শুটিং স্পট, বিকেলে হাটার ব্যবস্থাসহ ব্যস্ত ঢাকায় একটু প্রশান্তিসহ বেশ কিছু সুবিধা। রাম- পুরা প্রান্তে রাস্তায় দু’টি ইউ-লুপ, পানির ওপর দর্শনার্থী ডেক, জলযান টার্মিনাল, হাঁটার সেতু, সাংস্কৃতিক ও ব্যবস্থাপনা ভবন। আর সন্ধ্যার পর হাতিরঝিল নানা রকম আলোকসজ্জার রঙ্গে নিজেকে রাঙ্গিয়ে তোলে অপরূপ সাঁজে।

লালবাগ কেল্লা : মুঘল আমলে স্থাপিত এই দুর্গটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনস্থল। কেল্লার চত্বরে তিনটি স্থাপনা রয়েছে, কেন্দ্রস্থলের দরবার ও হাম্মামখানা, পরীবিবির সমাধি এবং উত্তর-পশ্চিমাংশের শাহি মসজিদ। এ ছাড়া ভেতরে রয়েছে মস্ত বড় এক পুকুর।আরে আছে খোলামেলা বিশাল উদ্যান ভরা ফুলের বাগান।

আহসান মঞ্জিল : পুরোনো ঢাকার ইসলামপুরে বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে আহসান মঞ্জিল। এটি ছিল ঢাকার নবাবদের প্রাসাদ। বর্তমানে জাদুঘর। নির্মাণকাল ১৮৫৯ সাল। ১৯০৬ সালে এখানে এক অনুষ্ঠিত বৈঠকে মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠার সিদ্বান্ত হয়। প্রাসাদের ছাদের সুদৃশ্য গম্বুজটি একসময় ছিল ঢাকার সর্বোচ্চ গম্বুজ। মূল ভবনের বাইরে ত্রি-তোরণবিশিষ্ট প্রবেশদ্বারও দেখতে সুন্দর। ওপরে ওঠার সিঁড়িগুলোও সবার দৃষ্টি কেড়ে নেয়। পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে মনোরম খিলান দুটিও খুব সুন্দর। আহসান মঞ্জিলের দুটি অংশ। বৈঠকখানা ও পাঠাগার পূর্ব অংশে। পশ্চিম অংশে নাচঘর ও অন্যান্য আবাসিক কক্ষ। নিচতলার দরবার ও ভোজনকক্ষ। প্রাসাদের চারপাশে সবুজ ঘাসে ছাওয়া মাঠ। ফুলের বাগান।

ফ্যান্টাসি কিংডম : ঢাকার অদূরে আশুলিয়ায় ফ্যান্টাসি কিংডম সারা দিন হই-হুল্লোড়, খেলাধুলা, খাওয়া-দাওয়ার জন্য চমৎকার বিনোদন কেন্দ্র। এখানে আছে ফ্যামিলি রোলার কোস্টার, পাইরেট শিপ, জায়ান্ট ফেরিস হুইল, ফ্লুম রাইড, বাউন্সি স্লাইড, বাউন্সি ক্যাসল, ব্যাটারি কার, সার্কাস স্যুইং, ঈগলু হাউসসহ বিভিন্ন রাইড। সাথে আছে আবাসিক ব্যবস্থা।

নন্দনপার্ক : গাজীপুরের চন্দ্রামোড়ের কাছে আরেকটি বিনোদন কেন্দ্র হচ্ছে নন্দনপার্ক। ভেতরে বিশাল পরিসর। নানা ধরনের রাইড আর বিনোদনের জন্য এটির কদর রয়েছে। চাইলে পানিতে নেমে সাঁতারও কাটা যাবে এই পার্কের সুইমিং পুলে।

হলিডে ড্রিম পার্ক : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর পাঁচদোনার চৈতাবতে পার্কটির অবস্থান। ছোট-বড় সবার জন্যই রয়েছে আলাদা সব রাইড। ঢাকা থেকে ঘণ্টা খানেকের দূরত্ব। ৬০ একর জমির ওপর নির্মিত এ পার্কে রয়েছে নাগেট ক্যাসল, এয়ার বাইসাইকেল, অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ইমু পাখি, মায়াবি স্পট, কৃত্রিম অভয়ারণ্য, ডুপ্লেক্স কটেজ, পার্কে শিশু-কিশোরদের জন্য একাধিক রাইডস, সুবিশাল লেক, হংসরাজ প্যাডেল ও জেট ফাইটার বোট, মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক পরিবেশবেষ্টিত নয়নাভিরাম ক্যানেল, রকিং হর্স, গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা, নিজস্ব কটেজ ও বাংলো।

পানাম নগর : পানাম নগর নারায়ণগঞ্জ জেলার, সোনারগাঁয়ে অবস্থিত একটি ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর। বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর-প্রাচীন সোনারগাঁর এই তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। এখানে কয়েক শতাব্দী পুরোনো অনেক ভবন রয়েছে, যা বাংলার বার ভূঁইয়াদের ইতিহাসের সাক্ষ্য বহন করে। সোনারগাঁর ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই নগর গড়ে ওঠে।

উত্তরার দিয়াবাড়ী : উত্তরার দিয়াবাড়ীতে শরতের বার্তা নিয়ে আসা কাশফুলের ছোঁয়ায় প্রশান্ত হবে প্রাণ। লেকের শীতল বাতাস ও সবুজের সমারোহে মুক্তি মিলবে শহুরে কোলাহল থেকে। রাজধানীর ভেতরে এ যেন এক ভিন্ন জগৎ। উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের দিয়াবাড়ীতে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঘুরতে আসছেন নানাবয়সী লোকজন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উত্তরা তৃতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারিত প্রকল্পের অংশ এই দিয়াবাড়ী। বটতলা থেকে কিছুটা সামনে নির্মাণকাজ চলছে ৩ নম্বর সেতুর। সেতুর দুপাশে লেকের পাড়ে গড়ে উঠেছে বোট হাউস। বাঁশ ও কাঠের কাঠামো দিয়ে বানানো হয়েছে বসার জায়গা। সারি দিয়ে বাঁধা প্যাডেল বোট (পায়েচালিত নৌকা)। ঘণ্টা ভিত্তিতে ভাড়া করে ঘুরতে পারবেন।

শিশুপার্ক : রাজধানীর শাহবাগে শিশুপার্কের ভেতরে শিশুদের হরেকরকম খেলার আয়োজন আছে শিশুদের জন্য। নামে শিশুপার্ক হলেও সকল বয়সের মানুষের জন্য এই পার্কটি উন্মুক্ত। প্রতিদিন দুপুর দুইটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা থাকে। চাইলে আপনার শিশুকে নিয়ে এখানে আসতে পারেন।

শিশুমেলা : রাজধানীর শ্যামলীতে শিশু হাসপাতালের সামনে আছে শিশুদের নানা আয়োজন নিয়ে শিশু মেলা। আছে নানা ধরনের রাইড। শিশু মেলা সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকে।

এ ছাড়াও পরিবার-পরিজন, বন্ধুসহ ঘুরে আসতে পারেন মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা, জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, শহীদ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, ধানমন্ডি লেকসহ মিরপুর টাকা জাদুঘর।