‘উন্নয়নে বড় বাধা বৈষম্য’

বর্তমান সরকারের গত পাঁচ বছর মেয়াদে গড়ে ৬ শতাংশের ওপরে জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন, দারিদ্র্যের হার কমাতে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এলেও সেই হারে কমানো যায়নি বৈষম্য; বরং অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈষম্য ব্যাপক হারে বেড়েছে। তাই আসছে সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এবং ২০১৫-পরবর্তী টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) বৈষম্য কমানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও পরিকল্পনা থাকা জরুরি। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আর্থিক খাতের বৈষম্য কমাতে হবে। এ জন্য নীতিগত, প্রাতিষ্ঠানিক সংশোধন ও পুনর্গঠন করতে হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলনকক্ষে ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথনির্দেশ : অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ এবং সরকারি নীতির যথার্থ প্রয়োগ’ নিয়ে আলোচনায় এসব মতামত উঠে আসে। পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগ (জিইডি) ও একশনএইড বাংলাদেশ এই আলোচনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহের কৌশল তুলে ধরেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ে পৌঁছানো, জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়ন, এমডিজির সাফল্য-ব্যর্থতা মাথায় রেখেই সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা করা হচ্ছে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ বলেন, ‘এমডিজিতে আমাদের অর্জন অনেক। তবে স্কুলে ভর্তি হওয়া নিশ্চিত হলেও গুণগত শিক্ষা আমরা দিতে পারিনি। স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। আমাদের দেশে ধনী-গরিবের বৈষম্য বাড়ছে।’

অনুষ্ঠানে একশনএইড বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি ফারাহ্ কবির বলেন, ‘২০১৫ সাল আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ২০১৬ থেকে বিশ্বনেতারা নতুন পরিকল্পনা করছেন, যাকে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি বলা হচ্ছে। ২০৩০ সাল পর্যন্ত উন্নয়ন পরিকল্পনায় সুশাসন, বৈষম্য কমানোর প্রতি জোর দিতে হবে। সেটি না হলে অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন বা বিনিয়োগ বাড়বে না।’