৬শ কিলোমিটার রাস্তা ছয় লেন করার চিন্তা

দেশের মহাসড়কগুলোকে দুুলেন থেকে চারলেনে উন্নিত করতে চায় সরকার। একই সঙ্গে রাস্তার দুপাশে ধীরগতিসম্পন্ন যানবাহনের চলাচলের জন্য আরও দুটি লেন থাকবে। সড়ক ও জনপদ (সওজ) অধিদফতরের নতুন করে ৮টি জোনের ৬০০ কিলোমিটার সড়ক নিয়ে একটি সম্ভাব্যতা যাচাই করবে। এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত করতে এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। দাতা সংস্থা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় সম্ভব্যতা যাচাই ও ডিটাইল ডিজাইন তৈরি করা হবে। এর আগে ১ হাজার ৭৫২ কিলোমিটার সড়কের ওপর একই ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, সম্প্রতি সওজের পক্ষ থেকে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সম্ভব্যতা যাচাইকল্পে একটি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। দ্বিতীয় পর্বের এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫০ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। যার মধ্যে ৩৫ কোটি টাকা দেবে এডিবি ও বাকি টাকা সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বরাদ্দ দেয়া হবে। চলতি বছর থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এটি সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জানা গেছে, সড়ক ও জনপদ অধিদফথরের ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও গোপালগঞ্জ জোনের মহাসড়ককে এ পরিকল্পনার আওতায় আনা হয়েছে। এ জোনগুলোতে ৬০০ কিলোমিটার মহাসড়ক রয়েছে। এগুলোকে আন্তর্জাতিক করিডোরের সঙ্গে যুক্ত করার উপযোগী করতেই এ পরিকল্পনা হাতে নিতে চায় সরকার।
সূত্র জানায়, সড়ক নিয়ে মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে শিগগিরিই এ সংক্রান্ত এক প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। প্রস্তাবিত ৬০০ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে জাতীয় মহাসড়ক ৪১৪ কিলোমিটার, আঞ্চলিক মহাসড়ক ১৩৪ কিলেঅমিটার ও ৪২ কিলোমিটার জেলা সড়ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব সড়কে সম্ভাব্যতা যাচাই ও ডিটেইল প্ল্যানের মাধ্যমে ভবিষ্যতে কাক্সিক্ষত উন্নয়নে প্রকল্প প্রস্তুতে কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে তা তা নির্ধারণ করা যাবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসম্পন্ন অঞ্চলের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়া অন্যতম। এ অঞ্চলে বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে মোট বাণিজ্যের অংশ কম। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের আন্তঃআঞ্চলিক বাণিজ্যও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে বাধার সম্মুখীন। অবকাঠমোগত বাধা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে প্রভাব ফেলছে। এজন্য সড়ক পথে দক্ষিণ এশিয়ায় বাধাহীন প্রবেশে সড়ক পথের অবকাঠামো উন্নয়নের বিকল্প নেই।
সাব রিজিওনাল রোড ট্রান্সপোর্ট প্রজেক্ট প্রিপারেটরি ফ্যাসিবিলিটি-২ শীর্ষক এ প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, উপ-আঞ্চলিক ব্যবস্থায় পরিবহন ও ট্রান্সশিপমেন্ট সেন্টার হিসেবে বাংলাদেশ সম্ভাবনা উজ্জ্বল। এই মহাসড়কগুলো এশিয়ান হাইওয়ে, সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক), বাংলাদেশ, ভারত, চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডর বিসিআইএম এবং দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশকে নিয়ে গঠিত আঞ্চলিক জোট বিমসটেকের করিডোরভুক্ত। সড়ক পথে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের অংশ হিসেবে এই সড়কগুলোকে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে সওজের চিফ ইঞ্জিনিয়ার ফিরোজ ইকবাল যুগান্তরকে বলেন, এর আগে এডিবির অর্থায়নে ১ হাজার ৭৫২ কিলোমিটার সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ৮টি জোনকেও এর আওতায় আনা হয়েছে। তিনি বলেন, সম্ভব্যতা যাচাইয়ের সময় এ সংক্রান্ত একটি ডিটেইল প্ল্যান তৈরি করা হবে। এরপর কী পরিমাণ অর্থ লাগবে এবং সে অনুসারে অর্থের উৎসের সন্ধান করা হবে।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, এর আগে ২০১০ থেকে চলতি বছরের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার টার্গেটে এ ধরনের আরও একটি সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। এডিবি ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ওই প্রকল্পেরও আওতায় দেশের ১৭৫২ কিলোমিটার রাস্তার ২ লেন থেকে ৪ লেনে উন্নীতকরণে ডিটেইল প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৬৫৬ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক, ৪৬ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক, এবং ৫০ কিলোমিটার জেলা সড়ক অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো বিশেষ করে নেপাল, ভুটান ও ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় অংশের সঙ্গে অভিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের উদ্যোগ ট্রানজিট ও সমুদ্রবন্দরগুলোর সঙ্গে যোগযোগ স্থাপনে সহায়ক হবে। যা বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাধনে ভূমিকা রাখবে।