দুর্যোগপ্রবণ ও দুর্গম এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি সেবা পৌঁছানোর পরিকল্পনা

অলস পড়ে আছে ৭২৫ কোটি টাকা

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলে বছরের পর বছর শত শত কোটি টাকা জমা হচ্ছে। ইতিমধ্যে এই টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭২৫ কোটি। যা কাজে লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পরিকল্পনায় দুর্যোগপ্রবণ ও সুবিধাবঞ্চিত দুর্গম এলাকায় তথ্যপ্রযুক্তি সেবা পৌঁছানোর বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরেই এ বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন অনুযায়ী, ২০১০ সালের ১ আগস্ট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ) নামের এই ‘তহবিল’ সৃষ্টি করা হয়। দেশের প্রত্যন্ত এলাকায় টেলিযোগাযোগ খাতের বিশেষ করে ব্রডব্যান্ডের অবকাঠামো তৈরি ও উন্নয়নের মাধ্যমে সেবা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গঠিত এই তহবিলে মোবাইল ফোন অপারেটরদের বার্ষিক রাজস্ব আয়ের ১ শতাংশ জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়। মোবাইল অপারেটর ছাড়াও সরকার, দেশি-বিদেশি সংস্থা ও ভিন্ন বৈধ উৎস থেকে পাওয়া অনুদান এই তহবিলে জমার বিধানও রাখা হয়। আইনের বিধান অনুযায়ী, ওই তহবিলে ইতিমধ্যে ৭২৫ কোটি টাকা জমা পড়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অলস পড়ে আছে।

বিটিআরসি সূত্র জানায়, এসওএফ ফান্ডের অর্থ কিভাবে খরচ করা যায় সে বিষয়ে একটি বিধিমালা প্রণয়ন করে তা অনুমোদনের জন্য ২০১২ সালের জুন মাসে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। যে বিধিমালাটি অর্থ মন্ত্রণালয় হয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ২০১৩ সালের ১৯ আগস্ট ‘ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ’ চেয়ে মন্ত্রণালয় বিটিআরসিতে চিঠি ফেরত পাঠালে ৩১ অক্টোবর কমিশন তার জবাব দেয়। সরকার ওই বছরের ডিসেম্বরে বিধিমালার অনুমোদন দেয়। এরপর তহবিলের টাকা খরচের কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী, দুই বিভাগের সচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান, মোবাইল ফোন অপারেটরদের প্রতিনিধি, পিএসটিএন এবং আইএসপির প্রতিনিধিরা রয়েছেন। যাঁরা ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান।

এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম কালের কণ্ঠকে বলেন, “এসওএফ তহবিলের টাকা ওয়াই-ফাই হটস্পট, দুর্গম এলাকায় ইন্টারনেট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে টেলিযোগাযোগ সেবায় ব্যয় করা যেতে পারে। দুর্গম এলাকা, যেমন-চা বাগান এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কম, হাওর এলাকা ও বন্যাদুর্গত এলাকায় পানি উঠে যায়, সে সমস্ত জায়গায় ‘কম্পিউটার গ্রাম’ বা ‘কম্পিউটার হাট’ করা যেতে পারে। সেখানে কম্পিউটার থাকবে, কানেকটিভিটি থাকবে, সেখানকার গ্রামবাসীকে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। যেটা একটা স্কুলের মতো হবে। পরে যাতে বাচ্চারা কম্পিউটার জ্ঞান নিয়ে বড় হয়।” তিনি আরো বলেন, ‘বৃদ্ধ নিবাসে সবাই নিঃসঙ্গ সময় কাটান। তাঁরা তাঁদের সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন না। বৃদ্ধ নিবাসগুলোতে যদি কম্পিউটার নেটওয়ার্ক দিই তাহলে তাঁদের বিনোদনের সুযোগ তৈরি হবে। তাঁরা স্টাডি করতে পারবেন। সন্তানদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। এ ছাড়া বিভিন্ন জায়গায় ওয়াই-ফাই হটস্পট তেরি করতে পারি কি না, সে বিষয়টাও চিন্তা করা হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বেশির ভাগ অঞ্চল দুর্যোগপ্রবণ। বিশেষ করে উপকূলীয় এলাকায় মাঝেমধ্যেই ছোট-বড় দুর্যোগ আসে। যেখানে ইন্টারনেট সুবিধা নেই। এমনকি মোবাইল নেটওয়ার্কের সংকট রয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত ওই সব এলাকায় বিশেষ কর্মসূচি নেওয়া যেতে পারে। জেলায় জেলায় তরুণ গবেষকদের উৎসাহিত করতে বিশেষ প্রকল্পও নেওয়া যেতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিটিআরসির চেয়ারম্যান সুনীল কান্তি বোস বলেন, বিটিআরসি এই তহবিল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে। এখানে একক সিদ্ধান্তের সুযোগ নেই। তহবিলের টাকা কিভাবে কাজে লাগানো হবে তা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে।