রিজার্ভের অর্থ পদ্মা সেতুসহ বড় প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রস্তুতি রয়েছে

দ্বিতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা ঘোষণাকালে গভর্নর

একবিংশ শতাব্দীর বহুবিধ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়ার পূর্বপ্রস্তুতি হিসাবে পাঁচ বছর মেয়াদী দ্বিতীয় ‘কৌশলগত পরিকল্পনা ২০১৫-১৯’ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে ভারসাম্যমূলক ও সমন্বিত মুদ্রানীতি প্রণয়নসহ ছয়টি বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। প্রথম এ ধরনের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছিল ২০০৯ সালে। গতকাল শনিবার রাজধানীর মিরপুরে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমি’ মিলনায়তনে এ কৌশলগত পরিকল্পনার মোড়ক উন্মোচন করেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা। কৌশলগত পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা করেন ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী, আবু হেনা মোহা. রাজী হাসান প্রমুখ। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক মো. আহসান উল্লাহ।

নতুন পরিকল্পনায় ৬টি বিষয়কে সামনে রেখে ১৪টি কৌশলগত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সব লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ১০৫টি বিষয়বস্তু (অবজেক্টিভ), ৩১০টি কর্মপরিকল্পনা এবং ৩৯৫টি মুখ্য কার্য সম্পাদন (কি পারফরমেন্স) সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে।

গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য পদ্মা সেতুসহ বড় ধরনের যে কোন প্রকল্পে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থ বিনিয়োগ করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পূর্ণ প্রস্তুতি রয়েছে। সাত থেকে আট বিলিয়ন ডলারের অন্য কোন বড় প্রকল্পের প্রস্তাব পাওয়া গেলেও রিজার্ভ থেকে বিনিয়োগ করা হবে।

আলোচনায় বক্তারা জানান, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আর্থ-সামাজিক বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে এ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অস্থিতিশীলতা ও ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি মোকাবেলা ও আর্থিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক দায়বোধ, পরিবেশবান্ধব টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, আর্থিক খাতের অভিঘাত সহনক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক মধ্যস্থতা প্রক্রিয়াকে সচল ও গতিশীল করা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পাঁচ বছর মেয়াদি প্রথম কৌশলগত পরিকল্পনা ২০১০-১৪ এর প্রয়োগিক সাফল্যের হার শতকরা ৯৪ শতাংশ।