প্রথম শ্রেণীতে ভর্তিঃ প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী ঘোষনা

৮ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখ ছিল আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। দিবসটি উদ্বোধন করতে গিয়ে রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, স্কুলে যাওয়ার বয়স হলেই শিশু যেন স্কুলে গিয়ে শিক্ষাগ্রহণ করতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে তিনি এ প্রশ্নও তুলেছেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির আগেই যদি শিশুর মধ্যে ছাপানো প্রশ্নের জবাব দেয়ার সক্ষমতা তৈরি হয়ে যায় তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব কী? তারা শিশুকে কী শেখাবে? তিনি স্কুলে ভর্তি হওয়া শিশুর মৌলিক অধিকার উল্লেখ করে প্রথম শ্রেণীতে শিশুদের ভর্তি পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ করে দেয়ার আহ্বান জানান। প্রাথমিক শ্রেণীতে ভর্তির বর্তমান প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণা অত্যন্ত সময়োপযোগী, বাস্তবানুগ এবং শিশুদের প্রতি তার অসামান্য মমত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ।
নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রাপ্য পাঁচটি মৌলিক অধিকারের অন্যতম একটি হচ্ছে শিক্ষা। সমাজের প্রতিটি স্তরের নাগরিক শিক্ষাগ্রহণের অধিকার রাখে। আর এই অধিকার নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রের। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শিক্ষা বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। প্রথম শ্রেণীতে ভর্তির জন্যও ভর্তি ফরম সংগ্রহ করতে হয়, ভর্তি কোচিং করতে হয়, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অভিভাবককে লাখ লাখ টাকা ডোনেশনও দিতে হয়। এগুলো প্রাথমিক শিক্ষার যাত্রার শুরুর কালের পরিচিত দৃশ্য। শিক্ষা খাতকে কেন্দ্র করে সর্বত্র যেন অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। নতুন বছরের শুরুতে প্রাথমিক স্তরে স্কুলে ভর্তির যে চিত্র আমরা প্রতিবছর সারাদেশে লক্ষ্য করি তা কোনো সুস্থ সমাজের চিত্র বহন করে না। একজন শিশু যার মুখে ভালো মতো বোল ফোটেনি তাকেও স্কুলে ভর্তি হওয়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। শুধু তাই নয়, অভিভাবকরাও অনেক ক্ষেত্রে সন্তানকে ভালো স্কুলে ভর্তি করার জন্য প্রস্তুত করতে গিয়ে সন্তানের ওপর নির্দয়-অমানবিক হয়ে ওঠেন। তাদের আচরণ, তাদের উৎকণ্ঠা-অস্থিরতা সন্তানের ওপর যে ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে তা বিদ্যা-শিক্ষার প্রতি শিশুদের আগ্রহ তৈরি না করে বিভীষিকা তৈরির জন্য যথেষ্ট। এতে শিশুর মানসিক অসুস্থতা তৈরি হওয়াও বিচিত্র নয়। সুতরাং অভিভাবকেদেরও এ ব্যাপারে সতর্ক ও যতœশীল হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
শিশুদের মন নরম পলিমাটির মতো। সেখানে যে বীজ বুনে দেয়া হবে অনুকূল পরিবেশ পেলে তা সহজেই পল্লবিত হয়ে ফুলে-ফলে বেড়ে উঠবে। তাই শুধু ভর্তি পরীক্ষা বন্ধ নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুবান্ধব পরিবেশও তৈরি করতে হবে। জোর দিতে হবে শিশু উপযোগী পাঠ্যসূচি তৈরি করার দিকেও। অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা তাদের কাঁধ থেকে নামাতে হবে। শিশুরা যাতে নিজ থেকেই কিছু শিখতে আগ্রহী হয়ে ওঠে এমন উদ্যোগ নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সার্বিক পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে এমনটিই আমরা প্রত্যাশা করি। এক্ষেত্রে শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার একটি নির্দিষ্ট বয়সসীমা নির্ধারণ করাও জরুরি।