‘ফোন করো এই নম্বরে-০৯৬১২৬০০৬০০’

দশ উনিশের মোড়ে দাঁড়ানো ছেলে মেয়েদের বলা হচ্ছে—‘বয়স যখন ১০-১২, জানতে হবে আরও, নিজেকে মেলে ধর, ফোন কর এই নম্বরে-০৯৬১২৬০০৬০০।’ ১০ থেকে ১৯ বছর বিশেষ করে বয়ঃসন্ধিকালের বয়সটাতে মনের ভেতরে জমতে থাকে নানান প্রশ্ন। এই হেল্পলাইন নম্বরটি সেসব প্রশ্নের উত্তর দেবে।

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে প্রায় দেড়শ শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে এই নম্বরটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল। মঞ্চে শোলায় লাল রং দিয়ে একটি ইটের দেয়াল বানানো হয়েছে। দেয়ালে বাধা হিসেবে বাল্যবিয়ে, মাদকসহ বিভিন্ন কিছুর নাম লেখা। শিক্ষার্থীরা দেয়াল ভেঙে সব বাধা পার হওয়ার জন্য ভেতরে লেখা হেল্পলাইন নম্বরটি বের করে। এভাবেই উদ্বোধন হয় নম্বরটির।

কনসার্নড উইমেন ফর ফ্যামিলি ডেভেলপমেন্ট (সিডব্লিউএফডি) এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সিডব্লিউএফডি পরিচালিত জেনারেশন ব্রেকথ্রু প্রকল্পের আওতায় ‘দশ উনিশের মোড় হেল্পলাইন ০৯৬১২৬০০৬০০’ এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচকেরা বয়ঃসন্ধিকালের সব ধরনের সংকোচ ঝেড়ে ফেলে এই বয়সীদের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন বলেন, শিশুরা ছোটবেলায় তার ভালো লাগা বা মন্দ লাগা মা, বাবা বা অন্যদের কাছে বলে। কিন্তু সমাজ থেকেই এক সময় তার শিখতে থাকে, সবকিছু সবাইকে বলতে নেই। এভাবে ১০ থেকে ১৯ বছর বয়সীরা তাদের কথাগুলো, শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তনের বিষয়গুলো কারও কাছে বলতে পারে না। তারা বিষয়গুলো গোপন করে। আর এই গোপনীয়তার কারণেই সমাজের ইভ টিজিং, মাদকাসক্তিসহ নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

ফাহিমা খাতুন বলেন, ‘আমরা পাঠ্যবইতে পরিবর্তন এনেছি। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি। কিন্তু তারপরও অনেক শিক্ষক বইয়ের ওই অধ্যায়গুলো পড়াচ্ছেন না, বলছেন তোমরা বাড়িতে পড়ে নিও। জেনারেশন ব্রেকথ্রু প্রকল্পটির মাধ্যমে শিক্ষকদের আরও সচেতন করা সম্ভব হবে।’
সিডব্লিউএফডির নির্বাহী পরিচালক মোফাবেজা খান জানান, নেদারল্যান্ডস দূতাবাসের আর্থিক সহায়তায় জেনারেশন ব্রেকথ্রু প্রকল্পটিতে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল এবং প্ল্যান বাংলাদেশ। প্রকল্পটি শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি ঢাকা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন, পটুয়াখালী এবং বরগুনা জেলায় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্কুল এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। শিক্ষকেরা শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়গুলো উপস্থাপন করবেন। প্রথম পর্যায়ে দেশের সাড়ে ৩০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (ঢাকা মহানগরে ৬০টি স্কুল এবং মাদ্রাসায়) প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এর সঙ্গে এবার হেল্পলাইনটি যুক্ত হলো।

সিডব্লিউএফডির কোষাধ্যক্ষ জীনাত সুলতানা বলেন, বয়ঃসন্ধিকাল হচ্ছে কৌতূহলের সময়। এ সময় মনে থাকে একটু ভয়, একটু লজ্জা। প্রথমেই মনে প্রশ্ন আসে কার কাছে যাব, কোথায় যাব, কার কাছে প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইব? এই হেল্পলাইন নম্বরটা মনের ভেতরে জমতে থাকা অজানা প্রশ্নগুলোর উত্তর জানাতে সহায়তা করবে।

অনুষ্ঠানে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোহাম্মদ শামছুল হুদা, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মির্জা কামরুন নাহার এবং প্ল্যান বাংলাদেশের উপ দেশীয় পরিচালক সৌম্য গুহ আলোচনায় অংশ নেন। তাঁরা তাঁদের বয়ঃসন্ধিকালে এ ধরনের কোনো সুযোগ পাননি বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কল্যাণময় সরকার।