পরিবেশ ইস্যুতে ‘কঠোর’ বাংলাদেশ

রাশিয়ার সঙ্গে সুরক্ষা চুক্তি

রাশিয়ার সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানো ও সুরক্ষা চুক্তি করতে আপত্তি না থাকলেও পরিবেশ ইস্যুতে কোনো ছাড় দিতে রাজি নয় বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরেই দু’দেশের মধ্যে এই চুক্তির বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।

দেশটির করা বিনিয়োগ বিশেষ করে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিষয়ে পরিবেশ সুরক্ষায় বাড়তি নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিবেশ আইনই যথেষ্ট বলে মনে করছে রাশিয়া। তাই বাড়তি কোনো শর্ত মানতে চাইছে না দেশটি।

সূত্রমতে, তথ্য প্রযুক্তি, সমুদ্র তলদেশ থেকে তেল-গ্যাস উত্তোলন, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনসহ অন্যান্য খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী রাশিয়া। তাই তাদের বিনিয়োগের সুরক্ষায় এ দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ বাড়ানো ও সুরক্ষা চুক্তি করতে চায়।

তবে তাদের বিনিয়োগের ফলশ্রুতিতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হলে রাশিয়ার কাছ থেকেই সেই ক্ষতিপূরণ নিতে চায় বাংলাদেশ। সে বিষয়ে বাড়তি কিছু শর্তও আরোপ করা হয়েছে।

অন্যান্য আরও কিছু শর্ত নিয়ে দু’দেশের মধ্যে আলোচনা চলমান আছে। তবে এসব বিষয়ে কিছুটা শিথিল মনোভাব দেখালেও পরিবেশ ইস্যুতে এখনও পর্যন্ত কঠোর অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রায় দেড় দশক আগে ১৯৯৯ সালে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির প্রস্তাব দেয় রাশিয়া। সেই থেকে এ বিষয়টি নিয়ে উভয়ের মধ্যে আলোচনা চলছে।

এক পর্যায়ে বাংলাদেশে বিদ্যমান রুশ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ সুরক্ষার পাশাপাশি রাশিয়ার আরও বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দ্বি-পক্ষীয় বাণিজ্য এগিয়ে নিতে চুক্তির বিষয়ে এগিয়ে আসে দুই দেশ।

অবশেষে চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে ২০১৪ সালের মার্চে রাশিয়া সফর করে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল। সেখানে চুক্তির মেয়াদ ও পরিবেশ সংক্রান্ত ধারা নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে একমত হতে পারেনি রাশিয়া।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির মেয়াদ ১০ বছরের জন্য বলা হলেও রাশিয়া চায় ১৫ বছর মেয়াদী চুক্তি।

এছাড়া পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষেত্রেও পরিবেশের বাড়তি নিরাপত্তা চাওয়া হলে পরিবেশ সুরক্ষা বাংলাদেশের বিদ্যমান পরিবেশের আইন যথেষ্ট বলে দাবি করে রাশিয়া।

তারা বলছে, চুক্তিতে বাড়তি পরিবেশ সংক্রান্ত ধারা অযৌক্তিক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাংলাদেশে বিদ্যমান ও আসন্ন সব রুশ বিনিয়োগ এ চুক্তির আওতায় আনতে চায় রাশিয়া। সেই সঙ্গে চুক্তিটি কোন দিন থেকে কার্যকর হবে তা নিয়েও দু’দেশের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

কর্মকর্তারা বলেন, কয়েক দফায় এ চুক্তির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়েছে। বাংলাদেশের আপত্তিগুলো জানিয়ে গত বছর রাশিয়াকে একটি চিঠিও পাঠানো হয়। প্রায় এক বছর পর সে চিঠির উত্তর দিয়েছে দেশটি।

বন্ধ‍ু রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান দেখিয়ে চুক্তির মেয়াদ কিংবা কার্যকরের তারিখের শর্তে কিছুটা শিথিলতা দিলেও পরিবেশের শর্তটির বিষয়ে ছাড় দিতে রাজি নয় বাংলাদেশ।

তবে এসব বিষয় চূড়ান্ত করতে শিগগিরই আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে উঠে আসা মতামতের উপরই নির্ভর করছে কতটুকু ছাড় দেওয়া হবে রাশিয়াকে।

এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্তি সচিব আফরোজা খান বাংলানিউজকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন পরে হলেও আমরা রাশিয়ার চিঠি পেয়েছি। তবে কোন প্রক্রিয়ায় চুক্তিটি হবে তা নির্ধারণ করা হবে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে।’

সূত্রমতে, বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণে পশ্চিমা বিশ্বের পাশাপাশি চীন বা ভারতসহ বেশিরভাগ দেশই বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বি-পক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে ব্যস্ত। আর এ দৌড়ে পিছিয়ে থাকতে চায় না বাংলাদেশের অন্যতম বন্ধু রাষ্ট্র রাশিয়া।

স্বাধীনতার পর থেকে দেশটির পক্ষ থেকে গ্যাস, বিদ্যু‍ৎ, টেলিযোগাযোগ খাত, পরমাণু, শিক্ষাসহ অন্যান্য খাতে দেশটির দ্বি-পক্ষীয় সহযোগিতা রয়েছে।

এ সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগ সুরক্ষা এবং নতুন বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর করতে আগ্রহী রাশিয়া।

সূত্র বলছে, দ্বি-পক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে এখন পর্যন্ত ৪২টি দেশের সঙ্গে বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। এসব চুক্তির ক্ষেত্রে মূল বিষয় প্রায় একই।

বাণিজ্য সম্প্রসারণে এ ধরনের চুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখে বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।