নতুন ঢাকার হাতছানি

ইকোনমিস্ট ইনটেলিজেন্স ইউনিটের জরিপে বসবাসের অন্যতম অযোগ্য শহর ঢাকা। আর ঢাকাবাসীর কাছে তা দুর্ভোগের নগরী। তবে ঢাকা এবার মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে যাচ্ছে। ঢাকাকে মেগাসিটি করতে মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার, বনানী ওভারপাস, কুড়িল-বিশ্বরোড ফ্লাইওভার ও মিরপুর-বিমানবন্দর ফ্লাইওভারসহ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে। আর মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মগবাজার ফ্লাইওভার-এর মতো মেগা প্রকল্পের নির্মাণ কাজ চলমান আছে। নতুন করে গাজীপুর থেকে কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি), গাবতলী-ভাটারা মেট্রোরেল ও বিমানবন্দর-কমলাপুর মেট্রোরেল নির্মাণের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। রাজধানীতে আরও প্রায় ৫টি ফ্লাইওভার নির্মাণে পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অন্যদিকে ঢাকার চারপাশে ২৪ কিলোমিটার নৌরুট নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। এসব প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়ন হলে আগামী ৫ থেকে ৮ বছরেই ঢাকাকে নতুনরূপে দেখা যাবে। ঢাকার এই পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে কাজ করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।ঢাকাকে যানজট মুক্ত করতে ২০১৮ সালে ঢাকা উড়াল সড়ক ও ২০১৯ সালে মেট্রোরেল চালু করা হবে বলে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে জানান। তিনি বলেন, আশা করি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা হবে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে ২০১৮ সালে মানুষ যাতায়াত করতে পারবে। আর ২০১৯ সালে মেট্রোরেল দিয়ে ট্রেন চলতে দেখা যাবে। ঢাকার উন্নয়নে পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালও কাজ করে যাচ্ছেন। পরিকল্পনা মন্ত্রীর আন্তরিকতার কারণেই বিটুমিনের রাস্তার পরিবর্তে কংক্রিটের রাস্তা নির্মাণের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ঢাকা। মন্ত্রী এখন থেকে বাইপাস সড়কের পরিবর্তে ওভারপাস নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করছেন।জানাযায়, রাজধানীর অভ্যন্তরীণ ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোর সাথে যানজটমুক্ত নির্বিঘœ যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে মহাপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। এজন্য সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় অধীনস্থ সেতু বিভাগ (বিবিএ), সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) ও ঢাকা ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন অথরিটি (ডিটিসিএ) সমন্বয় করে কাজ করছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় (এলজিইডি), রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে। ২০০৮ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই পরিকল্পনা মাফিক কাজ শুরু হয়। এরই অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে।এ প্রসঙ্গে ডিটিসিএ’র নির্বাহী পরিচালক মো. কায়কোবাদ হোসেন দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন, ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্যই ‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (ডিএমআরটিডিপি) নেওয়া হয়। ডিএমআরটিডিপি অনুসারে ঢাকাকে আধুনিক শহর হিসেবে গড়ে তুলতে বহুমুখী উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। তবে সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে আর সময়মত এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকা শহরে পরিবর্তন আসতে বেশি সময় লাগবে না।মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার : পিপিপি’র ভিত্তিতে বাস্তবায়ন হওয়া দেশের প্রথম প্রকল্প মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভার। প্রকল্পটি শুরুতে ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য হলেও তা বৃদ্ধি করে করা হয় ১০ কিলোমিটারে। যাত্রাবাড়ী-সায়েদাবাদ-গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া-পলাশী অভিমুখী এ ফ্লাইওভারে ৪টি লেন রয়েছে। যার রয়েছে ৬টি এন্ট্রি ও ৫টি এক্সিট পয়েন্ট। ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ২ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। ২০০৩ সালে এটি নির্মাণে কাজ শুরু করে তৎকালীন জোট সরকার। নির্মাণ শেষে ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেন। বর্তমানে ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে প্রতিদিন যানজট ছাড়াই কয়েক হাজার গাড়ি চলাচল করছে।কুড়িল-বিশ্বরোড ফ্লাইওভার : ৩০৬ কোটি টাকায় কুড়িল-বিশ্বরোড ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে ২০১৩ সালে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর এটি এখন সম্পূর্ণ চালু অবস্থায় রয়েছে। প্রায় ১০ কিলোমিটার এই প্রকল্পে ইন্টারনাল রোড রয়েছে ২ কিলোমিটার। রয়েছে ৫টি গন্তব্য। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে রাজউক। এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ায় কুড়িল-বিশ্বরোড চিরচেনা যানজট থেকে মুক্তি পেয়েছে নগরবাসী।বনানী ওভারপাস : প্রকল্পটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) উদ্যোগে নির্মাণ করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবদুল মোনেম লিমিটেড। এর তত্ত্বাবধানে ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ৮০৪ মিটার দীর্ঘ উড়াল সড়কটি নির্মিত হয়েছে বনানী রেলক্রসিংয়ের ওপর। এতে ব্যয় হয়েছে ১০৩ কোটি টাকা। এর সংযোগ সড়কটি বনানী উড়ালসেতু ও মিরপুর উড়াল সড়কের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করেছে। এটির দৈর্ঘ্য ৫৬০ মিটার। ৬ লেনের বনানী উড়ালসড়কটি প্রস্থে ২২ দশমিক ৫২ মিটার। আর্মি স্টেডিয়ামের কাছ থেকে উড়াল সড়কের শুরু। বনানী-বিমানবন্দর সড়কের ওপর দিয়ে রেললাইন পার হয়ে সেটি শেষ হয়েছে নৌবাহিনীর অফিসার্স মেসের কাছে গিয়ে। ফলে কমে গেছে ওই এলাকার চিরাচরিত যানজট।মিরপুর-এয়ারপোর্ট রোড ফ্লাইওভার : মিরপুর মাটিকাটা থেকে জিয়া কলোনি পর্যন্ত ১ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল সড়ক প্রকল্পটিও সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করেছে। এতে ব্যয় হয়েছে ১৬৭ কোটি টাকা। এটি চালুর ফলে বিমানবন্দর সড়কের সঙ্গে মিরপুরের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপিত হয়। সূত্র জানায়, ঢাকাকে মেগাসিটি হিসেবে গড়ে তুলতে একের পর এক মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েসহ কয়েকটি মেগাপ্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ মেট্রোরেল প্রকল্প : বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা)’র অর্থায়নে প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে মেট্রোরেলের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত ১৯ দশমিক ৭৯ কিলোমিটার দৈর্ঘের ‘ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’ (ডিএমআরটিডিপি) বাস্তবায়ন করছে ‘ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ’ (ডিটিসিএ)। ২০১৩ সালের ৩১ অক্টোবর প্রকল্পের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে উত্তরা থেকে মতিঝিল পৌঁছতে সময় লাগবে মাত্র ৩৮ মিনিট। প্রতি ৪ মিনিট পর পর ট্রেন ছেড়ে যাবে এবং ঘণ্টায় প্রায় ৬০ হাজার যাত্রী বহন করবে। মেট্রোরেলের জন্য ১৬টি স্টেশন প্রস্তাব করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে, উত্তরার উত্তর, উত্তরা কেন্দ্র, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, আইএমটি, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, তালতলা, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, সোনারগাঁও, জাতীয় জাদুঘর, দোয়েল চত্বর, জাতীয় স্টেডিয়াম ও বাংলাদেশ ব্যাংক।ঢাকা উড়াল সড়ক : ‘ঢাকা উড়াল সড়ক’ (ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে) এর মূল কাঠামো নির্মাণের কাজ গত আগস্ট মাসে শুরু হয়েছে। ১১ হাজার ৩শ’ ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এ উড়াল সড়ক হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুতুবখালী গিয়ে শেষ হবে। মূল নির্মাণ কাজ শুরুর ৪২ মাসের মধ্যে ৩ ধাপে ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটারের উড়াল সড়কের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারীর (পিপিপি) ভিত্তিতে এর নির্মাণকাজ করছে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ২০১৯ সাল নাগাদ এ প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।নির্মাণ কাজের সুবিধার জন্য প্রকল্পটি তিন ভাগে; শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে বনানী রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত ৭ দশমিক ৪৫ কিমি বা ৩৮ শতাংশ (নির্মাণ পর্ব-১), বনানী রেলওয়ে স্টেশন থেকে মগবাজার পর্যন্ত ৫ দশমিক ৮৫ কিমি বা ৩০ শতাংশ (নির্মাণ পর্ব-২) ও মগবাজার থেকে কুতুবখালি পর্যন্ত ৬ দশমিক ৪৩ কিমি বা ৩২ শতাংশ (নির্মাণ পর্ব-৩) ভাগ করা হয়েছে। চার লেনের এ সড়কটিতে মোট ৩১টি র‌্যাম্প থাকবে। র‌্যাম্পগুলোর দৈর্ঘ মোট ২৭ কিলোমিটারসহ নির্মাণ কাজের মোট দৈর্ঘ হবে ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। এছাড়া ৮টি টোল প্লাজা ও ৪৩টি টোল কালেকশন বন্ধ থাকবে।মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার : বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ‘মগবাজার-মৌচাক কম্বাইন্ড ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্প’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই গাড়ি চলাচলের জন্য এ ফ্লাইওভার উন্মুক্ত করার কথা। কিন্তু সময় মতো কাজ শেষ না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। তবে এ ডিসেম্বর নাগাদ এটি উদ্বোধনের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। এটি নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ৮ দশমিক ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ফ্লাইওভারের মোট ব্যয় হচ্ছে ৭শ’ ৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এসব চলমান প্রকল্প ছাড়াও সরকার নতুন করে বেশ কয়েকটি মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এসব প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। অর্থায়ন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া ঠিক থাকলে খুব শীঘ্রই এসব প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ শুরু হতে পারে।বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট : অধিক যাত্রী দ্রুত পারাপার, সাশ্রয়ী, পরিবেশ বান্ধব ও আরামদায়ক সেবা নিশ্চিত করে রাজধানী ঢাকাকে যানজট মুক্ত করতে সরকারের নতুন প্রকল্প বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি)। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে সংরক্ষিত আলাদা লেনের মাধ্যমে প্রতি ঘণ্টায় ৩০ হাজার যাত্রী পারাপার হবে। স্টেশন থেকে প্রতি ৩ মিনিট পর পর বাস ছেড়ে যাবে। ডিটিসিএ’র আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্পটি গাজীপুর থেকে কদমতলী চত্বর পর্যন্ত ৪২ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘায়িত হবে। এতে ৪১টি স্টেশন থাকবে। দুই ভাগে বিভক্ত এ প্রকল্পটির লাইন-৩ এর দক্ষিণাংশ হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুড়িল ইন্টারচেঞ্জের নিচ দিয়ে ও বনানী রেল ওভারপাসের ওপর দিয়ে মহাখালী, সাতরাস্তা, মগবাজার, কাকরাইল, পল্টন, গুলিস্তান, নয়াবাজার ও বাবুবাজার দ্বিতীয় বুড়িগঙ্গা সেতু হয়ে কেরানীগঞ্জ গিয়ে শেষ হবে। প্রকল্পের উত্তরের অংশ গাজীপুর টার্মিনাল থেকে হযরত শাহজালাল (রহ) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। ২০২০ সালে বিআরটি-৩ নির্মাণ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। ৫০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা (১ ডলার সমান ৮০ টাকা) ব্যয়ে এ প্রকল্পের কাজ নকশা অনুমোদনের পরপরই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটিতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নের কথা থাকলেও তা এখন হচ্ছে না। ফলে সরকার বিকল্প অর্থায়নের চেষ্টা করছে। গাবতলী-ভাটারা মেট্রোরেল : রাজধানীর যানজট নিরসনে গাবতলী থেকে ভাটারা পর্যন্ত নতুন আরেকটি মেট্রোরেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। বিষয়টি সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। গাবতলী থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রস্তাবিত মেট্রোরেল-এর দৈর্ঘ্য হবে ১৩ কিলোমিটার। এটি ‘মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্প-৫’ হিসেবে পরিচিতি পাবে। এর রুট হবে- গাবতলী, মিরপুর-১, মিরপুর-১০, কচুক্ষেত, বনানী হয়ে ভাটারা। প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে জাপানের সহায়তা চেয়েছে সরকার। সড়ক বিভাগ ধারণা করছে, এতে ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে এই ব্যয় বাড়তে বা কমতে পারে।তৃতীয় মেট্রোরেল : এয়ারপোর্ট-খিলক্ষেত-বাড্ডা-রামপুরা-খিলগাঁও হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত তৃতীয় মেট্রোরেল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য ইতোমধ্যেই জাপান আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার (জাইকা) মাধ্যমে জাপান সরকারের কাছে অর্থ সহায়তা দেয়ার প্রস্তাব পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়। এ প্রকল্পে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা।সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এয়ারপোর্ট-কমলাপুর মেট্রোরেলটি হবে ২০ কিলোমিটার। এটি এয়ারপোর্ট থেকে খিলক্ষেত, বিশ্বরোড, বসুন্ধরা, বাড্ডা, রামপুরা ও খিলগাঁও হয়ে কমলাপুর যাবে। ঢাকা ঘিরে হবে নৌরুট : ঢাকার চারপাশে সার্কুলার নৌরুট এবং সড়ক নির্মাণ (ইস্টার্ণ বাইপাস) প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। নগরীর চারপাশে ২৪ কিলোমিটার নৌরুট নির্মাণের জন্য এর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয়, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ সমন্বিতভাবে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ করছে। সম্ভাব্য নৌ-রুটটি হবে আব্দুল্লাহপুর-বিরুলিয়া-গাবতলী-রায়েরবাজার-বাবুবাজার-সদরঘাট-ফতুল্লা-চাষাঢ়া সাইনবোর্ড-শিমরাইল-পূর্বাচল সড়ক থেকে তেরমুখ পর্যন্ত। নৌরুটে উন্নত মানের ওয়াটার বাস চলাচল করবে। এ বিষয়ে খুব শীঘ্রই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা। গত মাসে জাইকা’র সদর দপ্তরে সংস্থার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট দোমিচি হিদেকির নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে জাপান সফররত সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ বিষয়ে দু’পক্ষ সম্মত হয়।এ বিষয়ে ডিটিসিএ নির্বাহী পরিচালক মো. কায়কোবাদ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ঢাকা সার্কুলার রোড প্রকল্পে সড়ক-নৌরুট ছাড়াও ভবিষ্যতে রেললাইন স্থাপনের পরিকল্পনা আছে। এটি আমাদের কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার (এসটিপি) মধ্যে রয়েছে। সেই লক্ষ্যে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। এতে করে একদিকে ঢাকার যানজট কমবে। অন্যদিকে ঢাকার চারপাশের যোগাযোগ ব্যবস্থা সুগম করার পাশাপাশি সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে।’এছাড়াও বাস্তবায়নাধীন পদ্মা সেতুর সঙ্গে ঢাকার সহজ সংযোগ স্থাপন এবং নতুন শহর ঝিলমিলকে মূল ঢাকার সঙ্গে যুক্ত রাখতে রাজধানীর জিরো পয়েন্ট থেকে মাওয়া রোড (রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প এলাকা) পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ ফ্লাইওভার প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, জরিপ, সম্ভাব্য ব্যয় এবং নির্মাণের সময়কাল মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছে সরকার। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায়। ফ্লাইওভারটি হবে চার লেনবিশিষ্ট।অন্যদিকে পুরান ঢাকার যানজট নিরসনে রাজউকের গুলিস্তান গোলাপশাহ মাজার থেকে বাবুবাজার পর্যন্ত একটি ফ্লাইওভার নির্মাণের উদ্যোগ ও পরিকল্পনা বেশ পুরনো। সরকার এখন এটি নিয়ে নতুন করে ভাবছে।