ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন অব্যাহত

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বিভিন্ন ইসলামী দল, পীর মাশায়েখ ও প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদগণের আন্তরিক অভিনন্দন অব্যাহত রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীন, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমেদ মোমতাজীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। তারা ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় কুমিল্লা শহরে গতকাল বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ছাত্র সালেকীন-এর উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে স্বাগত র‌্যালী বের করেছে। বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক মন্ত্রী ও দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিষ্ঠাতা দেশ বরেণ্য আলেম আলহাজ মাওলানা এম এ মান্নান (রহ.) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন ত্যাগ স্বীকার করে গেছেন। মাওলানা এম এ মান্নান (রহ.)-এর ইন্তেকালের পর সংগঠনের বর্তমান সভাপতি দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীন ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমেদ মোমতাজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

মৌকারা দরবার শরীফ
কুমিল্লা থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান,

বাংলাদেশের আলেম সমাজের স্বপ্নের ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তিবর্গ, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন কুমিল্লা শাখার নেতৃবৃন্দকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ছাত্র সালেকীন, ইমাম সমিতিসহ বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন। ঐতিহাসিক এ ঘোষণা স্মরণীয় করে রাখতে গতকাল (বুধবার) দুপুরে কুমিল্লা নগরীতে স্বাগত র‌্যালী করেছে বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ছাত্র সালেকীন’র কুমিল্লার নেতৃবৃন্দ।

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর ঘোষণায় এক বিবৃতিতে জমিয়াতুল মোদার্রেছীন কুমিল্লা শাখার সভাপতি, বাংলাদেশ জমিয়াতুস সালেকীন’র আমীর, মৌকারা দরবার শরীফের পীর আলহাজ মাওলানা মুহাম্মদ নেছারউদ্দিন ওয়ালীউল্লাহী অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, সাবেক মন্ত্রী ও দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ মাওলানা এম এ মান্নান (রহ.) ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাপকভাবে কাজ করে গেছেন। তার মৃত্যুর পর সংগঠনের বর্তমান সভাপতি দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীন ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। দীর্ঘ নব্বই বছর ধরে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার যে দাবী আলেম সমাজ জানিয়ে আসছিল তার সফল বাস্তবায়ন করেছেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। আর অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন জনপ্রিয় শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। বিবৃতিতে তিনি প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মোবারকবাদ জানান। এছাড়াও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় জমিয়াতুল মোদার্রেছীন’র কুমিল্লার সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল মতিন, ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা আহছানুল করীমসহ বিভিন্ন ইসলামিক সংগঠন সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এদিকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর ঘোষণায় গতকাল (বুধবার) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মোবারকবাদ জানিয়ে নগরীতে স্বাগত র‌্যালী করে বাংলাদেশ আঞ্জুমানে ছাত্র সালেকীন’র কুমিল্লার নেতৃবৃন্দ। র‌্যালীটি নগরীর আশ্রাফপুরের ওয়ালিয়া একাডেমি থেকে বের হয়ে টাউনহলে এসে শেষ হয়। এসময় আঞ্জুমানে ছাত্র সালেকীন’র সভাপতি শাহ মুহাম্মদ মাসউদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আলেম সমাজ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লড়াই করেছেন। মৌকারার মরহুম পীর শাহসুফি অলি উল্লাহ (রহ.) তার জীবদ্দশায় কুমিল্লায় আলেম সমাজকে নিয়ে আন্দোলন করেছেন। দীর্ঘদিনের দাবী পূরণের যে সফলতা এসেছে তারই পথ ধরে বাংলাদেশে মাদরাসা ও ইসলামি শিক্ষার উন্নয়ন ও গবেষণায় এক নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হবে।

পীর ছাহেব সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফ

সোনাকান্দা দারুল হুদা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ মাওলানা মো: মাহমুদুর রহমান ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, এদেশের মাদরাসাগুলো শতাব্দীর পর শতাব্দী মুসলিম মিল্লাতের কা-ারী হিসেবে ইলমে দ্বীনের খেদমত করে আসছে। মাদরাসা জগতের বহু দিনের দাবী, স্বতন্ত্র আরবি বিশ্ববিদ্যালয়। শত আন্দোলন ও ত্যাগ তিতিক্ষার পর বর্তমান সরকারের আমলে এর বাস্তবায়ন দেখে সত্যই আমরা আনন্দিত। তাই বর্তমান সরকারকে আন্তরিক ভাবে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আর এ আন্দোলনের অগ্রপথিক বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সাবেক সভাপতি ও দেশের প্রখ্যাত ইসলাম প্রচারক পীরে কামেল আলহাজ মাওলানা এম এ মান্নান (রহ.)-এর সুযোগ্য সাহেবজাদা ‘দৈনিক ইনকিলাব’ পত্রিকার সম্পাদক ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের বর্তমান সভাপতি আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীন সাহেবকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। আশা করি এ আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আমাদের মাদরাসা জগতকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং দ্বীনি তাহযীব-তামাদ্দুনকে শক্তিশালী ও মজবুতভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে যারা নিরলসভাবে শ্রম দিয়ে এসেছেন, তাদের প্রতিও রইল মোবারকবাদ।

পীর ছাহেব, ফান্দাউক দরবার শরীফ

শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গত ১ সেপ্টেম্বর ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক এবং প্রশাসনিক কাজের নির্দেশনা জারি করায় বি.বাড়িয়া জেলাধীন ঐতিহ্যবাহী ফান্দাউক দরবার শরীফের বর্তমান গদিনিশীন পীর আলহাজ মাওলানা মুফতি শাহ সুফি সৈয়দ সালেহ আহমাদ মামুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাথে সম্পৃক্ত সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীর প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ জানান। গতকাল এক বিবৃতিতে পীর সাহেব বলেন, সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম। প্রায় ৯৫ ভাগ মুসলমানের এদেশে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল না। যার কারণে মাদ্রাসার ছাত্র ও শিক্ষকরা নানাবিধ গবেষণা, উচ্চ শিক্ষার সুবিধা থেকে মূলত বঞ্চিত ছিল। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়ন ও গবেষণা সংক্রান্ত কার্যাদি প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু হওয়ায় সেই গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি হলো। এখন বাংলাদেশের ছাত্র-শিক্ষকরাই শুধু উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার জন্য বিদেশ যাওয়ার সুযোগ পাবে না; বিদেশ থেকেও ছাত্র-শিক্ষকরা বাংলাদেশে পড়তে এবং গবেষণার জন্য আসবে। এতে করে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের গৌরব, সম্মান ও ভাবমর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ মাওলানা এম এ মান্নান (রহ.) এবং উনার সুযোগ্য উত্তরসূরী বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের বর্তমান সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীনের উদ্যোগেই আজ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়ন হচ্ছে। দেশের পীর মাশায়েখ, আলেম, ওলামা, ইসলামি শিক্ষাবিদ-চিন্তাবিদ, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকরা দীর্ঘদিন থেকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে আসছিল। ইসলামপ্রিয় এসব মানুষের শত বছরের স্বপ্নের ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আজ বাস্তবায়ন হচ্ছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এই মহতী ঐত্যিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে এই সরকারের সিদ্ধান্ত দৃষ্টান্ত ও ইতিহাস হয়ে থাকবে। সত্যিই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করেছেন সরকার। দেশের ইসলামি শিক্ষার প্রসার, গবেষণার ক্ষেত্রে তাদের এই সরকারের অসামান্য অবদান মাদ্রাসার ছাত্র শিক্ষা তথা আলেম সমাজ কোনো দিন ভুলবে না।

ছারছীনার পীর ছাহেব কেবলার অভিনন্দন

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও বাংলাদেশ জমইয়াতে হিয্বুল্লাহর আমীর ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব কেবলা হযরত মাওলানা শাহ্ মোহাম্মাদ মোহেব্বুল্লাহ এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের হক্কানী ওলামায়ে কেরামের শত বছরের প্রাণের দাবি পূরণ হওয়ায় আল্লাহ পাকের শুকরিয়া আদায় করে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের শতকরা নব্বই ভাগ লোক মুসলমান। এদেশে মুসলমান ছেলেমেয়েদের শিক্ষা কারিকুলামে ইসলামি ভাবধারার প্রতিফলন থাকা যৌক্তিক ও অপরিহার্য। কেননা ইসলামের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হওয়া ব্যতীত সৎ ও নিষ্ঠাবান নাগরিক সৃষ্টির চিন্তা সুদূর পরাহত। কিন্তু অতীব পরিতাপের বিষয়, এ দেশের সাধারণ শিক্ষা ধারায় তা প্রায় অনুপস্থিত। মাদরাসা শিক্ষা ধারায়ও উচ্চ শিক্ষার দ্বার সংকুচিত থাকায় নৈতিক ও বৈষয়িক শিক্ষার সমন্বয়ে সৎ ও যোগ্য লোক তৈরিতে তেমন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। এ জন্যই এদেশের পীর-মাশায়েখ ও হক্কানি ওলামায়ে কেরাম ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি জানিয়ে আসছিলেন বহু পূর্ব থেকেই। ছারছীনা দরবার শরীফের মরহুম দাদা পীর ছাহেব কেবলা কুত্বুল আলম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি নেছার উদ্দীন আহমদ (রহ.) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কিছুকাল পরে ১৯৪৪ সালে পরাধীন ভারতে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন। আমার ওয়ালেদ মরহুম মুজাদ্দেদে যামান হযরত মাওলানা শাহ্ আবু জা’ফর মোহাম্মাদ ছালেহ (রহ.)ও এ আন্দোলন বেগবান করে গেছেন আজীবন। আজ বহুকাল পরে হলেও আলেম সমাজের প্রাণের দাবি পূরণ হওয়ায় আমি আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত। দীর্ঘ এ আন্দোলনের পথযাত্রায় যারা ভূমিকা রেখেছেন আমি সকলকে শ্রদ্ধভরে স্মরণ করছি। আল্লাহ পাক তাদেরকে জাযায়ে খায়ের এনায়েত করুন। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর আন্তরিক সদিচ্ছা এবং জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নিরবচ্ছিন্ন কর্ম তৎপরতার ফলেই ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আলোর মুখ দেখছে বলে আমার বিশ্বাস। আমি মনে করি, আমাদের কাজ এখানেই শেষ নয়। বরং আমাদের দায়িত্ব এখন বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। কেননা অত্র বিশ্ববিদ্যালয় যেন আমাদের পূর্বসূরীদের চাওয়ার মতো সৎ, যোগ্য, আদর্শনিষ্ঠ, জ্ঞান-তাপস, গবেষক, মুহাদ্দিস, মুফাস্সির, ফকীহ্ ও মানবতার শিক্ষাগুরু সৃষ্টির সুমহান উদ্দেশ্য থেকে যেন বিচ্যুত না হয়। পূর্বের মতো আমরা যেন আবারো প্রতারিত না হই। ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যলয়ের কর্তৃপক্ষ আমাদের সে আশা পূরণে সচেষ্ট ও সজাগ থেকে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে বলে আমি আশা করি।এতদিন যারা আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌক্তিকতা খুঁজে বেড়িয়েছেন, আজ সময় এসেছে কাজের মাধ্যমে আমাদের দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরার। আল্লাহ পাক ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে কবুল করুন এবং এর অগ্রযাত্রাকে অপ্রতিরোধ্য করুন। আমীন।

দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা

শত বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা আর প্রতীক্ষার পর গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো স্বপ্নের আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। সরকারের এ যুগান্তকারী শিক্ষা কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছে দেশের শ্রেষ্ঠ ইসলামী শিক্ষা নিকেতন দারুননাজাত সিদ্দিকীয়া কামিল মাদরাসা। গতকাল এক বিবৃতিতে উক্ত প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আ.খ.ম. আবুবকর সিদ্দীক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি আলহাজ এ এম এম বাহাউদ্দীন ও মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। অধ্যক্ষ বলেন, মাদরাসা শিক্ষার উন্নয়নে অনার্স কোর্স চালু করা বর্তমান সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। আর এ উদ্যোগটিকে সফল ও সার্থক করার জন্য ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করা ছিল সময়ের দাবি। মহান আল্লাহ তাআলা বর্তমান সরকার এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কার্যক্রম পরিচালনার তাওফীক দান করুন।

জমিয়াতুল মোদার্রেছীন চট্টগ্রাম জেলা শাখা

ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু হওয়ায় বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন চট্টগ্রাম জেলা শাখার পক্ষ হতে জেলা জমিয়তের সভাপতি অধ্যক্ষ আল্লামা আবুল ফরাহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন এক বিবৃতিতে বর্তমান সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি ও সংশ্লিষ্ট সকলকে মোবারকবাদ ও অভিনন্দন জানান বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রাণের দাবি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এদেশে মাদরাসা শিক্ষার কার্যক্রম আরো বেগবান ও ফলপ্রসূ হবে নেতৃবৃন্দ এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সর্বোপরি সংশ্লিষ্ট সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মূঈনীয়া ফাযিল অনার্স কামিল (এম এ) মাদরাসা

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু হওয়াতে ঐতিহ্যবাহী ছিপাতলী জামেয়া গাউছিয়া মূঈনীয়া কামিল (এম এ) মাদরাসার পক্ষ হতে বর্তমান সরকার বিশেষত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, ভিসি প্রফেসর আহসান উল্লা (আহসান সাঈদ) ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানানো হয়। মাদরাসার সুযোগ্য অধ্যক্ষ শাহজাদা আল্লামা আবুল ফরাহ মুহাম্মদ ফরিদ উদ্দীন বলেন, মাদরাসা শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে মাদারসা শিক্ষার কার্যক্রম চালু হওয়ার মাধ্যমে শিক্ষার গুণগত মান উত্তোরোত্তর উন্নতি সাধিত হবে। ভিসি মহোদয়ের সুষ্ঠু পরিচালনায় এদেশে মাদরাসা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ সৃষ্টি হবে। প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও ভিসি মহোদয়ের সফলতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ আল্লামা আবদুল অদুদ, মোফাসসেরে কোরআন আল্লামা শফিউল আলম নিজামী, মাওলানা কামাল উদ্দীন, মাওলানা শফিউল আলম আজিজি, মাওলানা আবু ছালেহ মো. হানিফ, অধ্যাপক মাহফুজুল হক, মুফতি মাওলানা আবদুল মোস্তফা, মুফতি আবদুছ ছমদ, মাওলানা মোহাম্মদ মহিউদ্দীন প্রমুখ।

ইসলামিক স্কলার কাউন্সিলর

ইসলামিক স্কলার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. খলীলুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, শত বছরের স্বপ্ন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় যাত্রা শুরু করায় মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া জ্ঞাপন করছি। বাংলাদেশের কোটি মানুষের প্রাণের দাবি এ প্রতিষ্ঠান এ দেশের পীর মাশায়েখ ও ওলামা-বুদ্ধিজীবীদের স্বপ্নের জ্ঞানকেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা-মোবারকবাদ জানিয়ে ড. খলীল বিবৃতিতে আরো বলেন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন নেতৃবৃন্দ এ কৃতিত্বের বড় অংশীদার। বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বলকারী এ বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয় গৌরবের যুগান্তকারী সূচনা। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের শক্তিশালী উপস্থিতি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়।

ইসলামি আন্দোলন ঢাকা মহানগরী

ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর সভাপতি অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন ও সেক্রেটারি মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুর নির্দেশনা জারি করায় সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মুবারকবাদ জানিয়েছেন। গতকাল এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় বলেন, দেশের আলেম, উলামা, ছাত্র-শিক্ষক স্বতন্ত্র ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে সুদীর্ঘ সময় থেকে। নেতৃদ্বয় আরও বলেন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালু হওয়ায় উচ্চতর ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণার পথ সৃষ্টি হলো। তারা বলেন, দেশের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, ইসলামি শিক্ষাবিদ-চিন্তাবিদ, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা দীর্ঘদিন থেকে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিল। এর কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা জারি করায় তাদের সেই স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে। নেতৃদ্বয় আশা পোষণ করেন, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও গতিধারা বজায় রাখবে। ইসলামি জনতার আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে পুরোপুরি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। কোনক্রমেই যেন গতানুগতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ না নেয় সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। শিক্ষার মান, নৈতিকতা শিক্ষার পুরোপুরি পরিবেশ বজায় রাখাও কর্তৃপক্ষের ঈমানি দায়িত্ব।

সোয়ালেহীন হিউম্যানিটেরিয়ান মিশন

ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম চালুর নির্দেশনা জারি করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন ও মুবারকবাদ জানিয়েছেন সোয়ালেহীন হিউম্যানিটেরিয়ান ওয়েলফেয়ার মিশন নেতৃবৃন্দ। গতকাল এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, ইসলামী শিক্ষাবিদ-চিন্তাবিদ, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিল। এর কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা জারি করায় তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, শিক্ষার যথাযথ মান রক্ষা ও যুগোপযোগী সিলেবাস তৈরির দিকে মাদরাসার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে আদর্শ জাতি গঠনে কাজ করতে হবে।

জাতীয় তাফসীর পরিষদ

জাতীয় তাফসীর পরিষদ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, উপদেষ্টা মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, মহাসচিব হাফেজ মাওলানা মাকসুদুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব অধ্যক্ষ মুফতী হাফেজ মাওলানা বাকী বিল্লাহ, কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী ওমর ফারুক যুক্তিবাদী প্রমুখ এক যুক্ত বিবৃতিতে বলেছেন, দেশের পীর-মাশায়েখ, আলেম-ওলামা, ইসলামী শিক্ষাবিদ-চিন্তাবিদ, মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষকরা দীর্ঘদিন থেকে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছিল। এর কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশনা জারি করায় তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। তারা ছাত্র ও শিক্ষককে আদর্শিকভাবে গড়ে তুলে প্রকৃত দেশপ্রেমিক ঈমানদার হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

খেলাফত মজলিস

স্বতন্ত্র ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরু করায় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী ও জমিয়াতুল মোদার্রেছীন নেতৃবৃন্দসহ তৎসংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশের পীর মাশয়েখ, আলেম-ওলামা ইসলামী শিক্ষাবিদ চিন্তাবিদ, মাদরাসার ছাত্র শিক্ষকরা ও ইসলামী দলের নেতৃবৃন্দ বিশেষ করে শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. দীর্ঘদিন থেকে ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যঅলয় দাবী জানিয়ে আসছিলেন। সর্বশ্রেষ্ঠ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় ইসলামপ্রিয় এসব মানুষের বহু বছরের স্বপ্নের ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় আজ বাস্তবায়ন হয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও এই মহতী ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রী এবং জমিয়াতুল মোদার্রেছীন যে ভূমিকা রেখেছে তার জন্য তাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন।