সরকারি ব্যাংকে জনবল নিয়োগে কমিটি হচ্ছে

সরকারি ব্যাংকগুলোতে জনবল নিয়োগে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদদের নিয়ে একটি ‘স্বতন্ত্র নির্বাচক কমিটি’ গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ৭ থেকে ১০ সদস্যের এই কমিটি গঠনের জন্য ব্যাংক খাতের স্বচ্ছ ২০ জন ব্যক্তির খসড়া নাম প্রস্তাবও পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়ে। ব্যাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি আরও জানায়, গভর্নর আতিউর রহমান ব্যাংকের নিয়োগ প্রক্রিয়া রাজনৈতিক চাপমুক্ত করতে বদ্ধ পরিকর। কারণ রাজনৈতিক চাপে ব্যাংকে বেহালভাবে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হলে বাংলাদেশের অর্থনীতি অদূর ভবিষ্যতে নষ্ট হয়ে যাবে। চলতি বছরের মাঝেই রাষ্ট্রায়ত্ত সব ব্যাংকের নিয়োগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তত্ত্ব¡াবধানে আনতে চান তিনি। যাতে করে কর্মী নিয়োগে স্বচ্ছতা ফিরবে বলে আশা করেন গভর্নর। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গোকুল চাঁদ দাস বলেছেন, গভর্নর গত বছর এই ধরনের একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন, যে প্রস্তাব নিয়ে সচিব সবার সঙ্গে কথা বলে কমিটি করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে সম্মতি দিয়েছিলেন বলে জানি।

তবে কত সদস্যের কমিটি হবে তা নিশ্চিত করেননি এই কর্মকর্তা। কবে নাগাদ হতে পারে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামী বছরের প্রথমার্ধেই সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে বলে আশা করছি।

ব্যাংক পাড়া সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৭ সাল থেকে সরকারি মালিকানাধীন ব্যাংকগুলোর প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা নিয়োগ হত ব্যাংকার্স রিক্রুটমেন্ট কমিটির (বিআরসি) মাধ্যমে। যে কমিটিতে পদাধিকার বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর চেয়ারম্যান থাকতেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা সদস্য এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রবিধি ও নীতি বিভাগের মহাব্যবস্থাপক সদস্য সচিব থাকতেন। কিন্তু সোনালী, জনতা, অগ্রনী ও রূপালী ব্যাংক কোম্পানিতে রূপান্তরের পর ২০০৯ সালের ১৭ ডিসেম্বর বিআরসি বিলুপ্ত হয়। কারণ কোম্পানি আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের জনবল নিয়োগের সার্বিক ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষের। এরপর থেকে ব্যাংকগুলো নিজস্ব নীতিমালা অনুযায়ী জনবল নিয়োগ করে আসছে।

সম্প্রতি প্রায় প্রত্যেকটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে নিয়োগ অনিয়মের অভিযোগ ওঠছে, যার প্রমাণ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চোখেও ধরা পড়েছে। যার ফলেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই প্রক্রিয়াকে স্বাগত জানিয়ে অর্থনীতিবিদ সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সঠিক এবং যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করি। এটা একটা ভালো আইডিয়া। কারণ নিয়োগে অনেক ধরনের চাপ আসে। চার বছর সিআরসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করা সালেহ উদ্দিনের পরামর্শ, পুরো কাজের তত্ত্বাবধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতেই রাখতে হবে।

আরেক অর্থনীতিবিদ ইব্রাহীম খালেদ বলেন, বর্তমানে যেসব নিয়োগ হচ্ছে তা যে খুব খারাপ হচ্ছে তা আমি বলব না। তবে অনেক তদবির থাকে। রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে প্রভাবশালীরা তদবির করেন। ব্যাংকের এমডিরা এসব তদবির সব সময় এড়িয়ে চলতে পারেন না। সেজন্য এরকম একটি কমিটি হলে তদবির কম হবে।