নান্দনিক রূপ নিয়েছে পর্যটন নগরী সিলেট

অত্যাধুনিক কাজীরবাজার সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায়

পর্যটন নগরী সিলেটের সুরমা নদীর উপর নবনির্মিত কাজীরবাজার সেতু পাল্টে দিয়েছে এলাকাসহ আশপাশের দৃশ্যপট। এ যেন এই নগরীর সৌন্দর্যে আরেক সংযোজন। সেতু এলাকায় গেলেই চোখে পড়ে তার নান্দিক রূপ। শরতের নীল আকাশের নিচে মেঘের ভেলা ছুঁই ছুঁই করা ভবনগুলো সুমার তীর তথা নগরীকে আরো মোহনীয় করে তুলেছে। এরই মধ্যে পর্যটকদেরও দৃষ্টি কেড়েছে সেতু এলাকা। সেখানে সৌন্দর্য পিপসুদের ভিড় জমে। প্রতিদিন বিকালে শত শত নার-নারী, শিশু-কিশোর ছুটে আসে এখানকার সৌন্দর্য অবগাহনে।

এদিকে একটু দূরে অবস্থিত ঐতিহাসিক ক্বীন ব্রীজ দিয়ে উত্তর সুরমায় জিতু মিয়ার বাড়ির পাশ ঘেঁষে কাজীরবাজার সেতু পার হয়ে টেকনিকেল কলেজ রোড হয়ে আবার ক্বীন ব্রীজে উঠার যে সহজ পথ হয়েছে- তা বিনোদনের নতুন সংযোজন। সেতু এলাকা পরিদর্শনে দেখা যায়, সেতুর দক্ষিণ অংশের স্টেশন রোড পর্যন্ত এপ্রোচ সড়কটির কাজ প্রায় শেষ। শুধু কর্পেটিং বাকি। তবুও হালকা যানবাহন চলাচল করছে। সিলেট সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মনিরুল ইসলাম ইত্তেফাককে জানান, এটিরও কাজ শেষ হয়ে যাবে বৃষ্টি থামলেই। এখন শুধু প্রয়োজন টেকনিকেল কলেজ রোডটির আশপাশ পরিষ্কার ও তা প্রশস্তকরণ।

সেতু নির্মাণের প্রেক্ষাপট

সুরমার দুই তীরের নাগরিক জীবনের বিড়ম্বনার অবসানের লক্ষ্যে এবং ক্বীন ব্রিজের বিকল্প হিসাবে সেতুটি নির্মিত হয়েছে। প্রায় একশ ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম অবস্থায় চার লেন বিশিষ্ট ৩৬৬ মিটার দীর্ঘ এবং ১৯ মিটার প্রস্থের অত্যাধুনিক একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছিলো সরকার। প্রাথমিক নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৪৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। ২০০৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর সুরমা সেতু নামে সেতুটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তত্কালীন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমান। সেতুটির নির্মাণকাজ ২০০৭-০৮ অর্থ বছরের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা ছিলো। নানা জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি কাজ। ২০০৯ সালে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে কাজিরবাজার সেতুর নকশা সংশোধন করে। এর সঙ্গে বেড়ে যায় নির্মাণ ব্যয়। সেতুর দৈর্ঘ্য আরো ২৫ মিটার বৃদ্ধি করা হয়।

নবনির্মিত এই সেতু পাল্টে দিয়েছে সুরমার দক্ষিণ পারের বড়ইকান্দি লাউয়াই, ঘোপশহরসহ আশপাশের অন্তত ৫ কি:মি. এলাকার জীবন যাত্রা। যুগযুগ থেকে দক্ষিণ সুরমার পশ্চিম এলাকার অধিকংশ মানুষ কাজীরবাজার এলাকায় ফেরি নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে শহরে পৌঁছতেন। যদিও নদী পারাপরের জন্য ক্বীন ব্রীজ রয়েছে; কিন্তু সময় বাঁচাতে বর্ষায়ও প্রবল স্রোতের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অফিসগামী লোকজনসহ নানা পেশার নর-নারী ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতেন। এখন সেতুটি নির্মিত হওয়ায় দক্ষিণ পারের বাসিন্দাদের যাতায়াত সহজ হয়েছে। ঐ এলাকার জমির অর্থনৈতিক মূল্য বেড়ে গেছে অনেকগুণ। সবজির জন্য খ্যাত কামালবাজার এলাকার উত্পাদিত সবজি সহজে উত্তর পারে পরিবহন হবে ও বাজারজত হবে সহজ। অন্যদিকে সিলেট-ঢাকা সড়ক পথে যাতায়াতের বিকল্প পথ সৃষ্টি হয়েছে।

নানা চড়াই-উতরাই আর অনিশ্চয়তার পর অবশেষে সেতুটি নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে। সেতুটি নির্মিত হওয়ায় এলাকাবাসী আনন্দে উদ্বেলিত। এখন সেতুটি উদ্বোধনের অপেক্ষায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেতুটি উদ্বোধন করবেন বলে আশা করছেন সরকারি কর্মকর্তারা; কিন্তু নগরবাসীর যত ভয়- এই সেতু দিয়ে যদি ভারী ট্রাক চলাচল শুরু করে তা হলে এখানে সেতু নির্মাণের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে। একই সঙ্গে আবাসিক এলাকায় চলাচল হবে ঝুঁকিপূর্ণ। এই সড়কটি হবে নগরীর যানজটের আরেক কারণ। নগরবাসী মনে করেন- প্রথম থেকেই সেতু দিয়ে ভারী ট্রাক চলাচল বন্ধ রাখতে হবে।