ফটিকছড়ির সৌখিন ফল চাষি ইউনুছের ‘মাল্টা বিপ্লব’

ফটিকছড়ির দাঁতমারায় সৌখিন ফল চাষি মো:ইউনুছের বাগানের গাছগুলোর ডালপালা নুয়ে পড়েছে সুমিষ্ট মাল্টার ভারে। ফলে ফলে ঢেকে গেছে গাছের পাতাও। গাছে গাছে মাল্টার দোল খাওয়া দেখতে আসছেন অনেকে। বন বিভাগের চাকরিজীবী মো: ইউনুছ কখনও ভাবেননি মাল্টা চাষে এমন সফলতা পাবেন। তার বাগানে এ বছরই প্রথম ফলন। তিনি আশা করছেন, পাঁচ টনের মত ফল পাবেন। এরই মধ্যে ৪-৫ মণের মত মাল্টা গাছ থেকে পেড়ে আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন ও প্রতিবেশীদের মাঝে বিতরণ করেছেন। মাল্টা চাষে এই সফলতার খবর ছড়িয়ে পড়ায় প্রতিদিন বহু লোক ‘মাল্টা বিপ্লব’ দেখতে ভিড় করছেন তার বাগানে।

এই সফল মাল্টা চাষি দাঁতমারা ইউনিয়নের নিচিন্তা গ্রামের বাসিন্দা। ফলজ বৃক্ষের প্রতি আগ্রহ থেকেই মনোযোগ দেন মাল্টা চাষে। ২০১৩ সালে নিজের বাড়ির পাশেই বাগান করার জন্য জায়গা ঠিক করেন। চট্টগ্রামের হাটহাজারীর কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আমিন এর কাছ থেকে মাল্টা চাষের পরামর্শ নেন তিনি। ঐ বছরই রাজশাহী থেকে চারা সংগ্রহ করে জুন মাসে রোপণ করেন। এরপর শুরু হয় চারার পরিচর্যা। এ জন্য রাখা হয়েছে দু’জন কেয়ারটেকার। কর্মস্থলে থাকলে ফোনে এ দুই কেয়ারটেকারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন তিনি। দুই বছর পর গাছে ফুল ও ফল আসে। বর্তমানে তার তিন একরের মাল্টা বাগান রয়েছে। এক হাজার মাল্টা গাছের মধ্যে পাঁচ শতাধিক গাছে ফল ধরেছে। ইউনুছ জানান, প্রতিটি গাছে গড়ে ৭০টি ফল ধরেছে। দশ কেজি হারে পাঁচশ গাছে প্রায় ৫ হাজার কেজি মাল্টার ফলন হয়েছে বলে তার অনুমান। ফলের আকারও বড়। খেতে বেশ রসালো ও মিষ্টি।

তিনি জানান, ফরমালিন বা অন্য কোনো বিষাক্ত ওষুধ প্রয়োগ ছাড়াই উত্পাদিত মাল্টা ১০/১২ দিন পর চট্টগ্রামে বাজারজাত করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তার বাগানে মাল্টা ছাড়াও রয়েছে আম, আপেল কুল, পেয়ারা, লেবু, নাশপাতি, আঙ্গুর, মিষ্টি কামরাঙ্গা, কলা, কাঁঠাল, জলপাই প্রভৃতি ফলের গাছ। রামগড় পাহাড়াঞ্চল কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জুলফিকার আলী ফিরোজ বলেন, পাবর্ত্য চট্টগ্রাম ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মাটি ও আবহাওয়া মিষ্টি মাল্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্যিকভিত্তিতে মাল্টা চাষ করে যে কেউই লাভবান হতে পারেন। কারণ বাজারেও মিষ্টি মাল্টার বেশ চাহিদা আছে।