সম্ভাবনার আরেকটি উৎস: মোবাইল অ্যাপস

লেখক : শ্যাম সুন্দর সিকদার সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ

ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প : ২০২১ বাস্তবায়নের অগ্রযাত্রায় বিগত ছয় বছরে যতটুকু অর্জন হয়েছে, সেই সাফল্যের অভিধায় মোবাইল ফোনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান বিকাশে উন্নত বৈশিষ্ট্যের ইন্টারনেট ও বাংলা ভাষার সুবিধাযুক্ত মোবাইল ফোন আমাদের দেশে ক্রমশ সহজলভ্য হচ্ছে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে ঠিকমতো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি, তারযুক্ত ইন্টারনেট পৌঁছায়নি, সে রকম জায়গার মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশের মূলধারার সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে। এসব প্রান্তিক মানুষ তথা জনসাধারণের দোরগোড়ায় তথ্যসেবাসমূহ পৌঁছানোর জন্য মোবাইল অ্যাপস প্রযুক্তি সরকারের কাছে অত্যন্ত অভিনব ও কার্যকর উপায়। মোবাইল যেহেতু ব্যক্তিগত অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়, সেহেতু ব্যক্তিবিশেষের জন্য প্রস্তুতকৃত এবং শ্রেণি নির্বিশেষে তথ্যসেবা অনেক সফলতার সঙ্গে মোবাইলে দেওয়া সম্ভব হয়। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সেবা প্রদান করলে শহর থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনসাধারণ সমানভাবে সরকারি সেবা পাবে, যাতে দেশে ডিজিটাল বিভাজন হ্রাসে সহায়ক হবে।
মোবাইল অ্যাপসের ধারণাটি নতুন। অ্যাপস তৈরির জন্য আমাদের দেশে এখনো দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব রয়েছে। এ জন্য দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য সামনে রেখে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগ থেকে বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনীয় ও সামঞ্জস্যপূর্ণ অ্যান্ড্রয়েডভিত্তিক ৫০০ মোবাইল অ্যাপস তৈরি করা হয়। তন্মধ্যে ৩০০ অ্যাপস সরকারি তথ্য ও সেবার জন্য এবং বাকি ২০০ সৃজনশীল ধারণার ওপর তৈরি করা হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন করেনÑ সরকার কেন মোবাইল অ্যাপস তৈরির উদ্যোগ নিল? এর উত্তর হচ্ছেÑ মানুষের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করা যে কোনো জনকল্যাণকামি সরকারের প্রধানতম দায়িত্ব। সরকার জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রথমে ৪৫৪৭টি ইউনিয়নে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপন করে। এসব ইউডিসি মানুষের সামনে সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়। প্রতি মাসে প্রায় ৪৫ লাখ গ্রামের মানুষ ইউডিসি থেকে সেবা গ্রহণ করছে। এলাকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীরা এসব ডিজিটাল সেন্টারে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। আগামী একদশকে গোটা বিশ্বে প্রায় ৫০ ট্রিলিয়ন ক্ষুদ্র যন্ত্রে ইন্টারনেট সুবিধা পাওয়া যাবে। এসব ক্ষুদ্র যন্ত্রেরই একটি মোবাইল। বাংলাদেশে ইতোমধ্যে আইফোন ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ১২ কোটি ৮৪ লাখ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীর মধ্যে ২০১৫-এর জুন পর্যন্ত মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা চার কোটি ৬৯ লাখ। (সূত্র বিটিআরসি)। এক বছরেই বেড়েছে এক কোটি চার লাখ। মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির হার বিবেচনায় নিয়ে সরকার মানুষের দোরগোড়ায় তথ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়ার পর তা হাতের মুঠোয় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে মোবাইল অ্যাপস তৈরির উদ্যোগ নেয় ২০১৩ সালে। এ জন্য প্রশিক্ষিত জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দেয়।
এসব অ্যাপস তৈরির জন্য ইচ্ছা করলে দক্ষ জনবল বিশিষ্ট কোম্পানি কিংবা ফার্মকে ঠিকাদারি দেওয়া যেত। কিন্তু সেটি না করে একটি কর্মসূচির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়–য়া ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের দ্বারাই এ মোবাইল অ্যাপসগুলো তৈরি করানো হয়েছে। ফলে দেশে মানবসম্পদ তৈরি হলো ও প্রোডাক্টও পাওয়া গেল।
এখন প্রশ্ন আসতে পারে প্রক্রিয়াটি তাহলে কেমন ছিল? সে কথাই উল্লেখ করা দরকার। দেশের ৭টি বিভাগের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০০ তরুণ-তরুণীকে মোবাইল অ্যাপস উন্নয়নের অর্থাৎ তৈরির জন্য তিন মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এই তরুণ-তরুণীদের মধ্যে আবার কিছু ছিল তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগেরই অন্য একটি কর্মসূচির আওতায় পাঁচ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ওই পাঁচ দিন প্রশিক্ষণে যারা বেশি ভালো করেছেন অর্থাৎ মেধাবী ছিল, তাদের অগ্রাধিকার দিয়ে মেধার ভিত্তিতে ওই তিন মাসের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।
প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরাই মোবাইল অ্যাপসগুলো তৈরি করেছেন। এসব প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ ও মোবাইল অ্যাপস তৈরির প্রতিটি ধাপে সম্পৃক্ত থাকায় তারাও এখন দক্ষ প্রশিক্ষক হয়ে গেছেন।
উল্লেখ্য, মধ্যবর্তী সময়ে প্রাথমিকভাবে তৈরি করা ১০০টি মোবাইল অ্যাপস নিয়ে ৭টি বিভাগের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সেমিনার আয়োজন করে। অ্যাপসগুলোর আরও মানোন্নয়নে মতামত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী আরও মানোন্নয়ন করা হয়। এভাবেই একটি কর্মসূচির আওতায় ৫০০টি মোবাইল অ্যাপস তৈরি করা হয়।
প্রসঙ্গত, আগে যে কর্মসূচির উদ্ধৃতি দেওয়া হয়েছে, সেটি ছিল মোবাইল অ্যাপস উন্নয়নে সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কর্মসূচি। ওই কর্মসূচির আওতায় ১৩টি আইডিয়া কর্মশালা সম্পন্ন করা হয়। এতে সরকারের ৪৫টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৫২০ জন কর্মকর্তা, প্রোগ্রামার, আইসিটি ফোকাল পয়েন্ট অংশগ্রহণ করেছিল। কর্মশালাগুলোতে অংশগ্রহণকারীদের মোবাইল অ্যাপস ও বিশ্বব্যাপী তার ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। কর্মশালা শেষে ওই সব অংশগ্রহণকারী নিজ নিজ ডোমেনের ওপর ১৯৪টি মোবাইল অ্যাপসের ধারণা প্রদান করেন।
ওই ১৩টি আইডিয়া কর্মশালা বিশেষজ্ঞ জুরিবোর্ড দ্বারা বাছাইকৃত ১৩টি সেরা আইডিয়াকে চূড়ান্ত করে পুরস্কার দেওয়া হয়। ওই কর্মশালা শেষে এ কার্যক্রমের আওতায় পুনরায় ২৪৫৩ তরুণ-তরুণীকে মোবাইল অ্যাপস তৈরির জন্য ৪০ ঘণ্টাব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। পরে ৩০০৭ তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয় বুট ক্যাম্পের । সর্বশেষে ১৭০০ প্রোগ্রামারের অংশগ্রহণে হয় ৩৬ ঘণ্টাব্যাপী হ্যাকাথন।
এই হ্যাকাথনে শ্রেষ্ঠ অ্যাপসের জন্য ৭টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয় ১৫ জনকে। বুট ক্যাম্পে দেশের সেরা প্রফেসনাল ডেভেলপার ও বিভিন্ন প্রতিনিধিত্বশীল আইটি কোম্পানির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ১৯৪টি আইডিয়া থেকে বাছাই করে ১০০টি আইডিয়ার ওপর অ্যাপস তৈরি করা হয়েছিল।
তথ্য ও যোগযোগপ্রযুক্তি বিভাগের এ দুটি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী অ্যাপস ডিজাইনার, ডেভেলপার ও টেস্টারদের দক্ষ প্রশিক্ষক দিয়ে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যাতে কর্মসূচি শেষে তারাই দেশে আরও প্রশিক্ষণ দিয়ে হাজার হাজার দক্ষ ও প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরিতে অবদান রাখতে পারে।
মোবাইল অ্যাপস তৈরির প্রয়োজনীয়তা কী? এমন প্রশ্ন অনেকের মনে আসতে পারে। এ জন্য বিষয়টি পরিস্কার হওয়া দরকার। মূলত যারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন, তাদের সবারই জানা আছে, মোবাইলে হরেকরকম অ্যাপস থাকে। তবে অ্যান্ড্রয়েড ও স্মার্ট মোবাইলে অ্যাপসগুলোর সংযোজন ও ব্যবহার সুবিধায় তফাৎ আছে। আমাদের তৈরি করা অ্যাপসগুলো শুধু অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেটের জন্য। গুগল প্লে স্টোরে এসব অ্যাপসের সন্ধান করলে পাওয়া যাবে। আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ বিগত ২৬ জুলাই ২০১৫ তারিখে শেষের ৫০০টি অ্যাপসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন।
উল্লেখ্য, বিশ্ববাজারে স্মার্টফোনের দুই হাজার ৫০০ কোটি ডলারের অ্যাপস রয়েছে। যাতে যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান ও যুক্তরাজ্য শীর্ষে থাকলেও বাংলাদেশের তরুণরাও এ বাজারের অংশীদার। বাংলাদেশের ডেভেলপাররা আইফোন, গুগল মাইক্রোসফটের মতো বিশ্বের নামিদামি প্রতিষ্ঠানের অ্যাপস তৈরি করছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় মোবাইল অ্যাপসের বাজারে আগামীতে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিতে পারে বলে আমি বিশ্বাস করি।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, আমাদের তৈরি করা প্রথম পর্যায়ের ১০০ অ্যাপসের মধ্য থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত ১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৮৩ বার ডাউনলোড করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঘওউ তথ্যসংবলিত মোবাইল অ্যাপসটির ডাউনলোড সংখ্যা ৫৯ হাজার ৫৬২ বার।
উল্লেখ্য, মাত্র তিন বছরেই দেশের মুঠোফোন অ্যাপসের বাজারেও যে উন্নতি হয়েছে তা অভূতপূর্ব। আইসিটি বিভাগ বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিয়ে যেভাবে কাজ করছে, তাতে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে শুধু মোবাইল অ্যাপস খাতে সফটঅয়্যার রপ্তানি আয় হতে পারে সিংহভাগ।
বিশ্ববাজারে মোবাইল অ্যাপসের মতাে মোবাইল গেমসও বিশাল একটি অংশজুড়ে রয়েছে। ২০১৭ সাল নাগাদ বিশ্বে এই গেমস ইন্ডাস্ট্রির ব্যাপ্তি হবে প্রায় ১০২.৯ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে ২৩.৯ বিলিয়ন ডলার মোবাইল গেমস থেকে আসবে। ফিনল্যান্ডের রোভিও কোম্পানি কর্তৃক নির্মিত অ্যাংগ্রি বার্ড নামে অ্যাপসটি এখন আয় করছে ১৫৮.৩ মিলিয়ন ইউরো। প্রতি বছর ১৬ শতাংশ হারে আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সুতরাং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে মোবাইল অ্যাপস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আমাদের দেশের যুবসমাজ এ উৎসটি বীঢ়ষড়ৎব করে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ তৈরি করতে পারে। পরিসংখ্যানগত তথ্যাদি পরীক্ষায় দেখা যায়, Statista-2015-এর তথ্যানুযায়ী, গুগল Apps store-এ বর্তমানে অ্যাপসের সংখ্যা ১.৬ মিলিয়ন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে Apple App store-এর ১.৫ মিলিয়ন। Amazon Appstore, Windows Phone store I BlackBerry World-এর যথাক্রমে রয়েছে ০.৪, ০.৩৪ ও ০.১৩ মিলিয়ন অ্যাপস।
২০১৪ সালে মোবাইল অ্যাপস থেকে আয় হয়েছে প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার। ২০১৫-তে তা হবে ৪৫ বিলিয়ন ও ২০১৭-তে হবে ৭৭ বিলিয়ন ডলারের (Gartner) প্রক্ষেপণ অনুযায়ী।
Gartner-এর মতে ২০১৫ সালে মোবাইল অ্যাপসের ডাউনলোড সংখ্যা হবে ১৭৯.৫ বিলিয়ন (তন্মধ্যে Paid for ১২.৫ বিলিয়ন) এবং ২০১৭ সালে এ সংখ্যা হবে ২৬৮ বিলিয়ন (তন্মধ্যে চধরফ ভড়ৎ ১৪.৭ বিলিয়ন) ও ২৫৩.৯ বিলিয়ন ফ্রি।
মোবাইল প্ল্যাটফরম মার্কেট শেয়ার জুলাই ২০১৪ সালে ছিল Android 84%, Apple iOS 12% Ges Windows 3% (Source: Strategy Analytics).
আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে তৈরি করা তথ্য ও সেবামূলক অ্যাপসগুলোর মধ্যে কয়েকটির নাম এখানে উল্লেখ করছি। যেমনÑ ইঝঞও (চৎড়ফঁপঃ ঈযবপশ) এটির সাহায্যে যে কোনো অনুমোদিত পণ্যের ব্র্যান্ডের নাম (যদি থাকে), লাইসেন্স নম্বর ও মেয়াদকাল জানা যাবে। এই অ্যাপসের মেন্যুতে তিনটি পৃথক অপশন রয়েছে।
আবার DPDC Bill Check, DESCO Bill Check, WASA Bill Check, NBR E-Tin Check, Joint Stock Company Status check ইত্যাদি তথ্যসেবার অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে। এগুলোর সাহায্যে বিলের পরিমাণ যে কোনো সময় জানা সম্ভব হবে। তবে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করতে হবে। এ ধরনের তথ্যসেবামূলক অ্যাপস তৈরি করা হয়েছে ৩০০টি ।
তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের এ কর্মসূচির মাধ্যমে যেসব প্রত্যাশিত ফল অর্জনের লক্ষ্য ছিল, তা হলো
১. মোবাইল অ্যাপস তৈরিতে দক্ষ প্রজন্ম গড়ে তোলার জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি এবং তাদের জন্য চাকরি কিংবা স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ বা কৌশল সৃষ্টি করা।
২. বাংলায় মোবাইল অ্যাপস ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের জনসাধারণকে, বিশেষত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সরকারি সেবা, নীতি ও নিজেদের অধিকার সম্পর্কে অবহিত করে সচেতন করা।
৩. মা ও শিশুর স্বাস্থ্যের ওপর তথ্য ও ছবিভিত্তিক অ্যাপস তৈরি করে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
৪. জনসাধারণের মধ্যে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য সচেতনতা বাড়ানো।
৫. সরকারি-বেসরকারি উদ্যোক্তা ও ডেভেলপার সমাজের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার মাধ্যমে মোবাইল অ্যাপস শিল্পের সঙ্গে জড়িত সবার আগ্রহ বাড়িয়ে বিনিয়োগের পরিবেশ সৃষ্টি করা।
আমার বিশ্বাস প্রত্যাশিত ফলের বেশিরভাগই পূরণ হয়েছে। এখন শুধু দেখার বিষয়, আমাদের তরুণ সমাজ মোবাইল অ্যাপসের এই চমৎকার খাতটি ব্যবহার করে কতটুকু সুবিধা অর্জন করতে পারে? তবে এ খাতটি যে অপার সম্ভাবনার একটি জায়গা, এতে কোনোই সন্দেহ নেই।