অর্থনীতির গতি পাল্টে দেবে ‘ব্লু ইকোনোমি’

‘বাংলাদেশের আগামী দিনের অর্থনীতির গতিপথ পাল্টে দেবে ‘ব্লু ইকোনোমি’ বা সামুদ্রিক অর্থনীতি। সমুদ্রের উপরিভাগ, তলদেশ ও সংশ্লিষ্ট সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ, অন্বেষণ ও যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সৃমদ্ধিকে বহুদূর নেয়া সম্ভব। ব্লু ইকোনোমিতে সফলতা দেশের অর্থনীতিকে আমূল পাল্টে দেবে।’

ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম অব বাংলাদেশের (আইবিএফবি) চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের উদ্যোগে বন্দর নগরীতে ‘ব্লু ইকোনোমি বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। গতকাল নগরের একটি কনভেনশন সেন্টারে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মেরিটাইম এফেয়ারস ইউনিটের সচিব রিয়ার এডমিরাল (অব:) খুরশীদ আলম।

প্রবন্ধে তিনি বলেন, ‘ব্লু ইকোনোমির ধারণা আমাদের জন্য অতি সামপ্রতিক। তবে সমুদ্র ও উপকূলীয় জাতি হিসাবে আমাদের সামনে অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে আছে। পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সমুদ্র ও সামুদ্রিক সম্পদ অন্বেষণ ও আহরণের মাধ্যমে সমৃদ্ধির এক নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এক্ষেত্রে আগে দীর্ঘ মেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, অবকাঠামোগত ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগিয়ে খাদ্য ও জ্বালানির চাহিদা পূরণ, পর্যটন, জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, নতুন চাকরির বাজারে স্থান করে নেয়াসহ নানাক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। এতে দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের বাজার সমপ্রসারণসহ সর্বোচ্চ পরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যাবে।’

মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন বলেন, আমরা কাঙ্ক্ষিত সময়ের আগে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হয়ে সফলতা লাভ করেছি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমুদ্র বিজয় এসেছে। এখন সেই সমুদ্রের যথাযথ ব্যবহার এবং সমুদ্র সম্পদকে কাজে লাগাতে পারলে ব্লু ইকোনোমি’র সফলতা আসবে।

আইবিএফবি চট্টগ্রাম চ্যাপ্টারের চেয়ারপার্সন ও ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাখাওয়াত হোসেনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইবিএফবি’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী।

আইবিএফবি’র প্রেসিডেন্ট হাফিজুর রহমান বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, ‘এই মুহূর্তে সমুদ্রের তলদেশে নিহিত সম্পদ অন্বেষণ ও আহরণ করার মতো সরঞ্জাম, পরিবহনসহ নানা ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমাদের প্রযুক্তি জ্ঞান, কারিগরি দক্ষতার মাধ্যমে স্বল্প সময়ে এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা নেয়া সম্ভব।’