রাজধানীর যানজট হ্রাসে ২০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা

ঢাকার যানজট হ্রাসে প্রণীত হচ্ছে ২০ বছর মেয়াদি কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনা (এসটিপি)। তবে এ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। সম্প্রতি এসটিপির একটি প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে ঢাকার আগামী ২০ বছরে পরিবহন ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের সম্ভাব্য চিত্র। এতে ২০৩৫ সাল নাগাদ ঢাকার যানজট পরিস্থিতি কি হবে ও তা দূর করার উপায় বলা হয়েছে। এতে বর্তমানে ঢাকার জনসংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখ, ২০৩৫ সালে যা বেড়ে হবে ২ কোটি ৬৩ লাখ। এর পাশাপাশি ২০ বছরে যানবাহনের ট্রিপের পরিমাণ ২ কোটি ৯৮ লাখ থেকে বেড়ে হবে ৫ কোটি ১১ লাখে। ফলে যানজটের তীব্রতা বাড়বে প্রায় দ্বিগুণ। এ অবস্থা উত্তরণে এসটিপিতে ৫টি মেট্রোরেল ও দুটি বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে রাজধানীবাসীর ট্রিপের ৬৪ শতাংশ চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। বাকি চাহিদা মেটাতে তিনটি বৃত্তাকার সড়ক, ৫টি এক্সপ্রেসওয়েসহ বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে সেখানে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন ঢাকায় মাত্র ৮ শতাংশ সড়ক রয়েছে। এর মধ্যে ৫টি মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হবে প্রায় ২ হাজার ৩১৭ কোটি ডলার। বিআরটি, সড়ক ও এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ব্যয় হবে আরও প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে শুধু যানজট নিসরনেই ব্যয় হবে ৪ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের বেশি। এদিকে ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ) জানায়, কর্মক্ষেত্রে যোগ দিতে রাজধানীতে যানবাহনের ট্রিপ হয় ১৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ, স্কুলে যেতে ১০ দশমিক ৬৬, বাসায় ফিরতে ৫২ দশমিক ৬৯, ব্যক্তিগত কাজে ১০ দশমিক ৬৬ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আর এক্ষেত্রে ২০৩৫ সালেও ট্রিপের ধরনের মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকবে। আর বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়িতে ট্রিপ হয় ৭ শতাংশ, সিএনজি অটোরিকশায় ৫, বাসে ২৯, রিকশায় ৩৪, পায়ে হেঁটে ২২, বাইসাইকেলে ২ ও অন্যান্য বাহনে ২ শতাংশ। তবে পরিবহন পরিকল্পনা ও নগর পরিকল্পনার কর্তৃপক্ষ ভিন্ন হওয়ায় ভবিষ্যতে যানজট পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।