ভিডিও কনফারেন্স নেটওয়ার্কিং শুরু করল এফবিসিসিআই

দেশের ৬৪ জেলার চেম্বারকে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় আনতে ভিডিও কনফারেন্স নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম শুরু করল ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই)। গতকাল বুধবার ছয়টি জেলা চেম্বারে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাকি সব চেম্বার এই নেটওয়ার্কিংয়ের আওতায় আসবে বলে জানায় সংগঠনটি। আর সারা দেশে এই নেটওয়ার্কিংয়ে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেবে এখনি ডটকম।

গতকাল এফবিসিসিআইয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই ভিডিও কনফারেন্সের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট তারানা হালিম। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এফবিসিসিআই সভাপতি আবদুল মাতলুব আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এফবিসিসিআই প্রথম সহসভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, সহসভাপতি মাহবুবুল আলম, পরিচালক শামিম আহসান প্রমুখ। এ সময় সংগঠনের পরিচালক এবং জেলা চেম্বারের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্যে মাতলুব আহমাদ বলেন, দেশের জেলাগুলোর শিল্পায়নের যে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এটাকে কাজে লাগাতে এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য জেলা চেম্বারগুলোকে ভিডিও কনফারেন্সের আওতায় আনা হচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যে মহিলা চেম্বার এবং অ্যাসোশিয়েশনগুলোকেও এই নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হবে। রাজধানীর মতিঝিলের এফবিসিসিআইয়ের নিজস্ব ভবনে নির্দিষ্ট একটি কনফারেন্স রুম থাকবে। এটি সব সাধারণ সদস্যের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আর সম্পূর্ণ বিনা মূলো দেওয়া হবে এই সেবা।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারানা হালিম বলেন, এফবিসিসিআইয়ের এই উদ্যোগের ফলে জেলা পর্যায়ের শিল্পায়নের সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা সহজেই জানা যাবে। এবং এই সংগঠনের মাধ্যমে সরকার এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। তিনি জানান, দেশের ডাকঘরগুলোকে ই-সেন্টার করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ জন্য টেলিটককে দেশের প্রত্যেক ডাকঘরে একটি করে কক্ষ দেওয়া হবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার সবার দোরগোড়ায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিচ্ছে উল্লেখ করে তারানা হালিম বলেন, জেলাগুলোতে ভিডিও কনফারেন্স কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যে হাইস্পিড ইন্টারনেট প্রয়োজন তা আগামী ৯০ দিনের মধ্যে দেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে এফবিসিসিআই সভাপতি জানান, বাংলাদেশে তথ্য ও প্রযুক্তি খাতে টেকসই উন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষ সম্মাননা দেবে আন্তর্জাতিক টেলি কমিউনিকেশন সংস্থা। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ৭০তম অধিবেশনের এই সম্মাননা হস্তান্তর করা হবে। তিনি ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আগাম অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রীকে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, সারা বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়লেও বাংলাদেশে এটা কম। তিনি বলেন, এ জন্য সরকার ও বেসরকারি খাতকে একই সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই ডিজিটাল বাংলাদেশের উদ্যোগ দ্রুত কার্যকর হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা দ্রুত গতির ইন্টারনেটের এবং এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। এ জন্য সরকার, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি), বাংলাদেশ অ্যাসোশিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিস (বিএএসআইএস) এতে সহায়তা করছে।

তিনি জানান, ২০১৮ সালের মধ্যে দেশের সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদকে অপটিক্যাল ফাইবারের আওতায় আনা হবে। যার মাধ্যমে দ্রুত গতির ইন্টারনেটের সুবিধা পাবে গ্রামের মানুষ। এতে আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে চীন সরকার।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে উল্লেখ করে পলক জানান, বর্তমানে তিন কোটি ডলার পণ্য রপ্তানি হয় এ খাত থেকে। ২০০৯ সালে এই সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ছিল মাত্র ২০ লাখ ডলার। ১০ লাখ উদ্যোক্তা তৈরি এবং ১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এ ছাড়া বাংলাদেশ বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে পঞ্চম গন্তব্য স্থান বলে তিনি জানান।

শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনেকে তথ্যপ্রযুক্তির আওতায় এলেও সাংগঠনিকভাবে এফবিসিসিআই প্রথম। শামিম আহসান বলেন, এই উদ্যোগের ফলে দেশের ৬৪ জেলার সাড়ে তিন কোটি ব্যবসায়ী ইন্টারনেটের আওতায় আসবে। ফলে ব্যবসায়ীদের বৈশ্বিক যোগাযোগ এবং দক্ষতা বাড়বে। তিনি জেলা চেম্বারগুলোর তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারকে প্রকল্প হাতে নেওয়ার আহ্বান জানান। আর এটা করা গেলে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষ ১০ অর্থনৈতিক দেশে উন্নীত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠান শেষে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী রংপুর, নাটোর এবং সিলেট চেম্বারের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, রংপুরে আইটি পার্ক, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে সায়েন্স সিটি এবং নাটোরে ফ্রিল্যান্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট করা হবে।