১৪ হাজার কোটি টাকা দেবে বিশ্বব্যাংক

১১ প্রকল্প নিয়ে বৈঠক আজ

বাংলাদেশের ১১টি প্রকল্পে অর্থায়ন করবে বহুজাতিক দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে সাতটি প্রকল্পে ঋণ হিসেবে আসবে ১৬৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অনুদান হিসেবে দুই প্রকল্পে আসবে ১০ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে আগামী অর্থবছরে ১৭৪ কোটি ৪০ লাখ ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকা। এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আজ বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে বসছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)। রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কেন্দ্রে বৈঠকে ইআরডির সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহউদ্দিন, বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ কার্যালয়ের আবাসিক প্রধান জোহানেস জাট ছাড়াও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।

ইআরডি সূত্র জানায়, যমুনা নদীর বাঁধ রক্ষায় ৬০ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক। বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পটিতে সহায়তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। চলমান জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি উন্নয়ন প্রকল্পে অতিরিক্ত অর্থায়ন হিসেবে ৭০ লাখ ডলার অনুদান দেবে সংস্থাটি। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এ বিষয়ে অনুদান চুক্তি হবে। প্রকল্পটির দ্বিতীয় পর্যায়ে বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ হিসেবে আসবে ১৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এ প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংকের বোর্ড সভায় অনুমোদন পেয়েছে। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সম্প্রতি প্রকল্পটি অনুমোদন দিয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক সংযোগ প্রকল্পে কানেকটিভিটিতে ১৫ কোটি ডলার দেবে বিশ্বব্যাংক। দক্ষতা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত ১০ কোটি ডলার, নির্বাচিত কলেজের উন্নয়নে ১০ কোটি ডলার, সিদ্ধিরগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অতিরিক্ত ১৮ কোটি ডলার দেবে তারা। ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিট বিদ্যুৎ কেন্দ্র রিপাওয়ারিং প্রকল্প বাস্তবায়নে পাওয়া যাবে ২৫ কোটি ডলার। এ ইউনিট থেকে প্রায় ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে। চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর এ প্রকল্পের জন্য ঋণ প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের বোর্ডে অনুমোদন দেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। রিজিওনাল ক্লাইমেট সার্ভিসও প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫৬০ কোটি টাকা (৭ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার) দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে ২০১৬ সালের জানুয়ারির মধ্যে ঋণ প্রস্তাব বিশ্বব্যাংকের বোর্ডে অনুমোদনের লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া নদীতে পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়নে ২১ কোটি ডলার, জলবায়ু ও আবহাওয়া পূর্বাভাস ব্যবস্থার আধুনিকায়নে ৭ কোটি ডলার, বস্তিবাসীর জীবনমান উন্নয়নে ৫ কোটি ডলার ও বীমা খাতের উন্নয়নে ৫ কোটি ডলার দেবে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম বলেন, পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলো নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠক ডাকা হয়েছে। প্রকল্পের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ জড়িত। বৈঠকে যোগ দেয়ার বিষয়ে তাদের অবহিত করা হয়েছে।

ইআরডি সূত্রে আরও জানা গেছে, ১৩টি প্রকল্প নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে ১১টি প্রকল্পে ঋণ ও অনুদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি দুটি প্রকল্পে ঋণ ও অনুদানের বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিশ্বব্যাংকের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ২০০৮ সালে বিশ্বব্যাংক সর্বশেষ বাজেট সাপোর্ট দিয়েছিল। এবারও বাজেটে সাপোর্ট দেয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিশ্বব্যাংক কত টাকা দেবে সেই ফিগার এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি এখনও প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে।

জানা যায়, প্রস্তাবিত বেশ কয়েকটি প্রকল্পের অনুমোদন কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে সরকারকে তাগিদ দিয়ে আসছে বিশ্বব্যাংক। চলতি বছরের শুরুতে প্রকল্প মূল্যায়নে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকে দ্রুত সাতটি প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ এগিয়ে নেয়ার তাগিদ দেয় সংস্থাটি। এই সাতটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে বিশ্বব্যাংক থেকে পাওয়া যাবে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিশ্বব্যাংকের পাইপলাইনে থাকা প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হবে। মূলত প্রকল্পের প্রস্তুতির ওপরই নির্ভর করবে এতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন। এসব প্রকল্প হাতে নেয়ার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত প্রস্তুতিমূলক কাজের অগ্রগতির দিকটিও আলোচনায় আসবে।

ইআরডি সূত্র জানায়, গত অর্থবছরে বাংলাদেশের ১৩টি প্রকল্পে অর্থায়নে চুক্তি করেছে বিশ্বব্যাংক। এর মধ্যে সাতটি প্রকল্পে ঋণ হিসেবে আসবে ১৮০ কোটি ৮০ লাখ ডলার। অনুদান হিসেবে ছয় প্রকল্পে আসবে ৪ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। আর ট্রাস্টফান্ড থেকে সংস্থাটি সংগ্রহ করে দেবে আরও ৩ কোটি ৭৫ লাখ ডলার।