প্রবৃদ্ধি সহায়ক মুদ্রানীতিই এখন প্রাসঙ্গিক

গত ৩০ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের ২০তম মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে। বিগত কয়েকবারের মতো ধারাবাহিকভাবে এবারো ‘সংযত ও সংকোচন ধারার মুদ্রানীতি’ ঘোষণা করা হয়েছে। এবারের মুদ্রানীতিতে তেমন কোনো নতুনত্ব বা চমক পরিলক্ষিত হয় না, যার মাধ্যমে বিনিয়োগকারী বা অন্য সুবিধাভোগীরা কিছুটা উৎসাহ পেয়ে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করে দেশের প্রবৃদ্ধির গতি বৃদ্ধিতে অবদান রাখতে পারবেন। কেননা বরাবরের মতো এবারো মুদ্রানীতিতে প্রবৃদ্ধির তুলনায় মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনার প্রতিই বেশি জোর দেয়া হয়েছে এবং সে লক্ষ্যেই অন্য নির্দেশকগুলোর লক্ষ্যমাত্রাও নির্ধারণ করা হয়েছে। মনে হয়েছে, সমস্যাটা যেন এখনো মূল্যস্ফীতি। অথচ বিশ্ব অর্থনীতির দিকে দৃষ্টিপাত করলে দেখা যায় যে, বিশ্বের প্রায় সব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এ সময়ে কোনো সমস্যা নয়। বাংলাদেশ সরকারের ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেটেও প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭ শতাংশ। সেখানে এ প্রবৃদ্ধির হার অর্জনের লক্ষ্য গৃহীত নীতিতে প্রতিফলিত হয়নি প্রতীয়মান হয়। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক অংশীদারদের প্রায় সবারই বিশেষ করে তৈরি পোশাক বাণিজ্যের অংশীদার প্রধান দুই অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরো অঞ্চলে প্রবৃদ্ধির হার বেশ ইতিবাচক। আশা করা যায়, প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তাদের অভ্যন্তরীণ চাহিদারও ইতিবাচক বৃদ্ধি হবে এবং সে পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের রফতানি আয়েও বেশ ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাবে। এসব পর্যালোচনান্তে প্রবৃদ্ধিকে ৭ শতাংশ ঈপ্সিত লক্ষ্যমাত্রায় রেখে এবারের ঘোষিত মুদ্রানীতিকে প্রবৃদ্ধির গতি ত্বরান্বিত করতে সহায়ক মুদ্রানীতি বলা যায় না। এ লক্ষ্যেই প্রবৃদ্ধির জন্য প্রভাবক, ব্যক্তি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্য, ব্যাপক মুদ্রা বৃদ্ধির লক্ষ্য, সুদের হার, সুদের বিস্তৃতি, টাকার বিনিময় হার, পণ্য দরদামের বিষয়গুলো আলোচনায় আনব।

যেকোনো উজ্জীবিত অর্থনীতির ন্যায় বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও চাঙ্গা রাখতে গেলে প্রবৃদ্ধি ও নিম্নমুখী মূল্যস্ফীতির মধ্যে প্রবৃদ্ধিকে প্রাধান্য দেয়াটাই বাস্তব বোধের পরিচায়ক হবে। বর্তমানে বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীল চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, গড় মূল্যস্ফীতির হার নিম্নমুখী, প্রায় প্রতি বছরই মূল্যস্ফীতি কমছে। মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে দেশী ও আন্তর্জাতিক বাজার রয়েছে অনুকূলে। আন্তর্জাতিক বাজারে সব কৃষিপণ্যের দাম এখন ক্রমান্বয়ে নিম্নমুখী। জ্বালানি তেলের দাম এক বছরে অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ছয় মাসে জ্বালানি তেলের দাম আরো ১০ শতাংশ কমে যাবে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরা আরো বলেছেন, ২০২০ সাল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের গড়মূল্য ৫০ ডলারের নিচে সীমাবদ্ধ থাকবে। আন্তর্জাতিক ও ভারতের নিম্নমুখী পণ্যমূল্যের প্রেক্ষাপটে মূল্যস্ফীতি নিয়ে এতটা মাথা না ঘামালেও চলবে। সাত বছর যাবৎ দেশে কৃষি সরবরাহ পরিস্থিতিও চমত্কার। মূল্যস্ফীতি টার্গেটিংয়ের চেয়ে বরং ৭ শতাংশ কিংবা এর কিছুটা উপরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের প্রতি জোর দেয়া উচিত ছিল এবং সেজন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে উৎসাহ দেয়াটা ছিল সময়ের দাবি। বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক লোক কর্মসংস্থানের অভাবে বেকার কিংবা অর্ধবেকার হয়ে রয়েছে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রয়োজন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে উৎসাহ জোগানোর জন্যই মুদ্রানীতির অন্যান্য নির্দেশকের লক্ষ্যমাত্রা হওয়া উচিত ছিল প্রবৃদ্ধি সহায়ক। কারণ প্রবৃদ্ধি ছাড়া কর্মসংস্থান বৃদ্ধির আর তো কোনো উপায় নেই।

এটা সত্যি যে, বিনিয়োগ বৃদ্ধি হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং কর্মসংস্থান বাড়লে প্রবৃদ্ধিও ত্বরান্বিত হবে। সেক্ষেত্রে মানুষের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেলে কিছুটা মূল্যস্ফীতি বাড়লেও তাতে শঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে না। যদিও বলা হয় যে, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও অবকাঠামোগত সুবিধার অভাবে বিনিয়োগের হার বাড়ছে না, তদুপরি বর্তমানে রাজনৈতিক যে পরিবেশ বিদ্যমান এবং বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে সরকারের যে প্রয়াস চলমান রয়েছে, তাতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উৎসাহ জোগানোর জন্য প্রয়োজনীয় নীতিকৌশল অবলম্বন করতে পারত। মুদ্রানীতিতে রফতানি বৃদ্ধির সহায়ক টাকার মূল্যমান ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ সহায়ক সুদের হার নির্ধারণ, ব্যাপক মুদ্রার সরবরাহ বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে ঋণ সরবরাহ বৃদ্ধি ইত্যাদির মাধ্যমে কিছুটা প্রয়োজনীয় ঝুঁকি নিয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধিকে উৎসাহ বা অনুপ্রেরণা দেয়া যেত। প্রকৃত সুদের হার আরো কমে না এলে বিনিয়োগ চাঙ্গা হবে বলে মনে হয় না।

গত অর্ধবছরের অর্থাৎ জানুয়ারি-জুন ২০১৫-এর মুদ্রানীতি পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনার লক্ষ্য ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশ, জুন শেষে প্রকৃত মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৬ দশমিক ৪১ শতাংশে, প্রকৃত জিডিপি অর্জন প্রক্ষেপণ করা হয়েছিল ৬ দশমিক ৫ থেকে ৬ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত, প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ দশমিক ৫১ শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৫ দশমিক ৯, বৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ব্যাপক মুদ্রা বৃদ্ধির লক্ষ্য স্থির করা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। বেড়েছে মাত্র ১২ দশমিক ১২ শতাংশ। অর্থাৎ অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সূচকে লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। চলতি অর্ধবছরে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৫) ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ শতাংশ। বিগত অর্ধবছরের (জানুয়ারি-জুন ২০১৫) মুদ্রানীতিতে এ খাতের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ দশমিক ৫, যার মধ্যে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। সে হিসাবমতে, চলতি অর্ধবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা গত অর্ধবছরের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কম ধরা হয়েছে। বেসরকারি খাতে ঋণ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা কমানোতে নেতিবাচক বিনিয়োগের চিত্র প্রতিফলিত হয়।

আগেই বলেছি, দেশে এখন স্থিতিশীল অর্থনীতি বিরাজমান এবং রাজনৈতিক পরিবেশও অস্থিতিশীল নয়। তাই বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতার প্রধান কারণ হিসেবে বলা যায় যে, ব্যাংকগুলোয় উচ্চঋণ সুদের হার (গড় সুদ হার ১১ শতাংশ)। যদিও বলা হচ্ছে, বেসরকারি খাতের ক্ষেত্রে ঋণ সুদের হার যথেষ্ট পরিমাণে কমেছে, তদুপরি তা অনেক বেশি, এখনো তা এক অঙ্কের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রায় নামানো সম্ভব হয়নি। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে গড় সুদের হারের ব্যবধান এখনো অনেক বেশি। বিশেষ করে এসএমই খাতকে বলা হয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে সর্বাধিক ভূমিকা পালনকারী এবং এ খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে অল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে অধিক কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ রয়েছে। সে এসএমই খাতে ঋণ চাহিদা কমার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উচ্চ সুদের হারই চিহ্নিত হয়। নির্ধারিত উচ্চ ঋণ সুদের হারের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণের মাত্রা হ্রাস পেয়েছে। ফলে ব্যাংকে তরল অর্থের পরিমাণ বাড়ছে। মূল্যস্ফীতির তুলনায় উচ্চ সুদের হার ও তার ফলে ঋণ গ্রহণ প্রবণতা হ্রাস পাওয়ায় দেশীয় বিনিয়োগও কমে যাচ্ছে, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য মোটেও সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করছে না। এছাড়া দেশীয় উেস উচ্চ সুদের হারের কারণে অনেক বিনিয়োগকারী বিদেশী উৎস থেকে কম সুদে ঋণ গ্রহণ করছেন, আবার অনেকে এ সুযোগে বিদেশী উৎস থেকে কম সুদে ডলার এনে দেশে তা বেশি সুদে বিনিয়োগ করছেন। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কারণ এতে দেশে ‘অলস আর্থিক সঞ্চয়’ বেড়ে যাচ্ছে। আবার ঋণ সুদ ও সঞ্চয় সুদের হারের বিস্তৃতি দেশী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে ৫ শতাংশের নিচে নেমে এলেও (৪.৮৪ শতাংশ) তা আরো কম। অর্থাৎ ৩ দশমিক ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্য স্থির করা সঠিক হবে।

দেশে বর্তমানে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ২৫ বিলিয়ন ডলারের ওপর, যা দিয়ে প্রায় সাত মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বাড়ায় রফতানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। এতে বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দেয়, মুদ্রা self adjusting mechanism শক্তি হারায়। ফলে রফতানিকারকরা ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, রফতানিমুখী শিল্প ধ্বংসের মুখে উপনীত হচ্ছে এবং প্রবৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বাংলাদেশের মোট রফতানির প্রায় ৫৩ শতাংশ ইউরোজোনে হয়। মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইউরোর বিপুল অবমূল্যায়নের ফলে বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য ইউরোপীয় বাজারে মারাত্মক প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে এ অবস্থা অপরিবর্তিত থাকলে বাংলাদেশের রফতানিকারকরা ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। বাংলাদেশে রফতানি বাণিজ্য, বিশেষ করে তৈরি পোশাক বাণিজ্য পরিচালিত হয় মার্কিন ডলারের মাধ্যমে। টাকার অতি মূল্যায়নের ফলে এবং ইউরোজোন, ভারত, ইন্দোনেশিয়ার মুদ্রার মান কমে যাওয়ায় রফতানি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে এবং রফতানি প্রবৃদ্ধির হার হ্রাস পাচ্ছে। এ বিষয়ে মুদ্রানীতিতে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা পরিলক্ষিত হয় না।

অবশ্যই টাকার উচ্চ মূল্যমান বৃদ্ধি হতে দেয়া যায় না, ‘ম্যানেজড ফ্লোটিং’ বিনিময় হার অনুসরণ করা হয় বিধায় টাকার কিছুটা অবমূল্যায়ন (ডলারে ৮০-৮২ টাকা পর্যন্ত) রফতানি প্রণোদনার জন্য সহায়ক হতো। একসময় রফতানির প্রায় তিন গুণ ছিল আমদানি ব্যয়, সে অবস্থা এখন আর নেই এবং আমদানি পণ্যগুলোর মূল্যের নিম্নমুখী ধারার পরিপ্রেক্ষিতে টাকার অবমূল্যায়নে এটিই ছিল উপযুক্ত সময়।

সার্বিক বিষয়াদি বিবেচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংক তার রেকর্ড পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে দেশের বিভিন্ন বড় বিনিয়োগ প্রকল্পে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ব্যয় করতে পারে। এতে টাকারও অতি মূল্যায়ন হবে না আবার টাকার দাম কমানোর জন্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশাও থাকে না। সরকার যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে এসব বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকেও ঋণ গ্রহণ করতে পারে। এতে ব্যাংকগুলোয়ও তরল অর্থের পরিমাণ কমে আসবে। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বর্তমানে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, যেমন— রফতানিকারকদের জন্য রফতানি উন্নয়ন তহবিল গঠন, পরিবেশগতভাবে টেকসই বিনিয়োগের জন্য সবুজ শিল্পে অর্থায়নে সুবিধা প্রদান, পরিবেশবান্ধব পোশাক ও চামড়া প্রক্রিয়াকরণ শিল্পে অর্থায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বিষয়াদি অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এসব খাতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে পরিমাণ অর্থের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তার পরিমাণ বৃদ্ধি করে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের যথাযথ সদ্ব্যবহার করতে পারে। এতে বাজারে পণ্য সরবরাহ বাড়বে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং এর ফলে প্রবৃদ্ধির হারও ত্বরান্বিত হবে।

রাজনৈতিক-অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করলেও এটা বলা যায়, যেকোনো পাঁচ বছর মেয়াদি নির্বাচিত সরকারের উচিত প্রথম তিন বছর প্রবৃদ্ধির ওপর জোর দেয়া, মানে সম্প্রসারণমূলক মুদ্রানীতি অনুসরণ করা। এজন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে উৎসাহ জোগানোর কোনো বিকল্প নেই। তাতে কর্মসংস্থান বাড়ে, মানুষের আয় বাড়ে, ক্রয়ক্ষমতা বাড়ে এবং এরই ধারাবাহিকতায় সর্বোপরি দেশের প্রবৃদ্ধিও উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়। এতে সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়বে বৈ কমবে না। সে কারণে প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধির জন্য বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে যা যা করণীয় সবই করতে হবে, দরকার হলে ঝুঁকিও নিতে হবে। সরকারের শেষ দুই বছরে সংকুচিত কিংবা ‘সংযত মুদ্রানীতির’ মাধ্যমে চেষ্টা করা উচিত মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা, যাতে নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব না পড়ে। এতে সরকারের রাজনৈতিক অবস্থান বা জনপ্রিয়তা অক্ষুণ্ন থাকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও তার মুদ্রানীতির মূল্যস্ফীতি অংশে বলেছেন, ‘For a developing economy like Bangladesh, various empirical studies and the public perception define a range of 4 to 6 percent inflation as moderate. The upper limit of this range may move further up if the economy is accelerating at 7 percent or above. Then affording an inflation rate of 7 or 8 percent will be necessary to absorb the speeding up of employment, output, and wages.’ সুতরাং আগে প্রবৃদ্ধিকে বাড়তে দিতে হবে। প্রবৃদ্ধি যদি না বাড়ে তাহলে মূল্যস্ফীতির লাগাম ধরে বিনিয়োগ স্থবির রেখে কোনো লাভ নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের মুদ্রানীতি প্রণয়নের রক্ষণশীলতার আবর্ত থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন ছিল।