চালু হচ্ছে খুলনার নিউজপ্রিন্ট মিল

একাংশে হচ্ছে বিদ্যুৎ প্লান্ট : কর্মসংস্থান হবে ৮০০ মানুষের

দীর্ঘ ১৩ বছর পর চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে খুলনার নিউজপ্রিন্ট মিলস লিমিটেড। সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মিলটি চালুর বিষয়ে জোর গুরুত্ব দিয়েছেন। মিলের বন্ধ তিনটি পেপার মেশিনের পরিবর্তে নতুন করে একটি স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, যার উৎপাদন ক্ষমতা হবে বছরে প্রায় ৪৫ হাজার মেট্রিক টন। প্রতি বছর লাভ হবে প্রায় ১৫০ কোটি টাকা। পেপার মিল স্থাপনের প্লানের ফাইল এরই মধ্যে শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মিলের একাংশে নতুন করে একটি বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করা হচ্ছে। প্লান্টের জন্য জায়গা হস্তান্তরের বিষয় আলোচনাধীন রয়েছে। শিগগিরই জায়গা হস্তান্তর প্রক্রিয়া শুরু হবে।

জানা যায়, শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে গেল বছর আগস্ট মাসে মিলটি চালু করার বিষয়ে তদন্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। সেক্ষেত্রে মিলের ৫২০ কোটি টাকা দেনামুক্ত করার জন্য নতুন পরিকল্পনা নেয়া হয়। পরিকল্পনার মধ্যে মিলের ৬০ একর জমিতে একটি বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। অবশিষ্ট ২৭ একর জমিতে মিলের কার্যক্রম চালু করা হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে একটি পেপার মেশিন দিয়ে মিলটি চালু করার পরিকল্পনা আছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী অর্থের জোগান পাওয়া গেলে মিলটি ফের চালু করতে সময় লাগবে ৩ বছর। এ মিল চালু হলে ৮০০ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুনুর রসুল আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সরকারের সদিচ্ছায় মিলটি চালু করা হচ্ছে। মিল ফের চালুকরণ কমিটির পক্ষ থেকে ২০১৩ সালে বিসিআইসির কাছে মিলটি চালু করার জন্য সাড়ে ৮০০ কোটি টাকার প্রস্তাব দেয়। এতে প্রতি বছর ১৫০ কোটি টাকা লাভ করা সম্ভব বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। বিসিআইসি বিষয়টি শিল্প মন্ত্রণালয়কে অবহিত করে। ছয় মাস আগে মিলের ৬০ একর জমিতে বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা করে মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বন্ধ মেশিনগুলোর পরিবর্তে নতুন একটি পেপার মেশিন চালু করার মাধ্যমে এটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে প্লানটির ফাইল শিল্প মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, মিলের বর্তমানে ৫২০ কোটি টাকা দেনা রয়েছে। বিদ্যুৎ প্লান্ট স্থাপন করা হলে মিলটি ফের চালুর পাশাপাশি দেনার চাপটিও কমে যাবে। প্লান্টের জন্য জায়গা হস্তান্তরের বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য, চরেরহাট মৌজায় ১৯৫৯ সালে ৮৭ একর জমির ওপর মিলটি স্থাপিত হয়। মিলের বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪৮ হাজার মেট্রিক টন। প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক মিলে কর্মরত ছিলেন। চলতি মূলধন ও ফার্নেস অয়েলের দাম বৃদ্ধির কারণে ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর মিলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে এটি দেখভাল করছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন।