চার লেন হচ্ছে ১৭৫২ কিমি সড়ক

আগামী মাসেই কাজ শুরু জয়দেবপুর এলেঙ্গা মহাসড়কের

সারা দেশে ১ হাজার ৭৫২ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রতিটি সড়কেই থাকবে ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য পৃথক দুটি লেনও। ইতিমধ্যে এসব সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম ধাপে আগামী মাসেই শুরু হবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনে উন্নীত করার কাজ। এরপর পর্যায়ক্রমে বাকি সড়কগুলোর কাজও সম্পন্ন করা হবে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাতীয় মহাসড়কে দুর্ঘটনা কমাতে এবং যানবাহনের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন রকম উদ্যোগ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের প্রায় ৩ হাজার ৫৭০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ১ হাজার ৭৫২ কিলোমিটার সড়ককে পর্যায়ক্রমে চার লেনে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) এবং অন্যান্য দাতা সংস্থা ও সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এ ১ হাজার ৭৫২ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। ইতিমধ্যে গত ৩০ জুনের আগেই এ পরিমাণ সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে। সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা তৈরির কাজ পুরোটাই করা হয়েছে এডিবির অর্থায়নে। সূত্র জানায়, আগামী কয়েক বছরে জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ২২৬ কিলোমিটার, সিলেট-তামাবিল স্থলবন্দর সড়ক, দৌলতদিয়া-মাগুরা-ঝিনাইদহ-যশোর-খুলনা-মংলা পর্যন্ত ২১২ কিলোমিটার মহাসড়ক, হাটিকুমরুল-রংপুর-বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত ১৫৭ কিলোমিটার মহাসড়ক এবং টেকেরহাট-কুয়াকাটা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। এ ছাড়া নোয়াখালীর সোনাপুর-সোনাগাজী-জোড়াগঞ্জ সড়ক আপগ্রেডেশনের কাজও সম্পন্ন করা হবে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রথম ধাপে আগামী মাসেই জয়দেবপুর থেকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা পর্যন্ত ৬৫ কিলোমিটার সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। এডিবির অর্থায়নে এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা। এর পুরোটাই দেবে এডিবি। ২০১৭ সালে শুরু হবে হাটিকুমরুল-রংপুর-বুড়িমারী স্থলবন্দর পর্যন্ত ১৫৭ কিলোমিটর মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজ। এ প্রকল্পেও অর্থায়নের বিষয়ে এডিবির সঙ্গে সরকারের সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ২২৬ কিলোমিটার রাস্তা চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হবে ২০১৮ সালে। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সাউথ এশিয়ান সাব-রিজিওনাল ইকোনমিক কোঅপারেশন (এসএএসইসি) রোড কানেকটিভিটি প্রকল্পের আওতায় এ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা হবে। ইতিমধ্যে এ সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ সড়কেও ধীরগতির যানবাহন চলাচলের জন্য দুই পাশে পৃথক লেন রাখা হবে। এ সড়কটিও চার লেনে উন্নীত করা হবে এডিবির অর্থায়নে। বিষয়টি এডিবি ও সরকারের মধ্যে সমঝোতা পর্যায়ে রয়েছে। দৌলতদিয়া-মাগুরা-ঝিনাইদহ-যশোর-খুলনা-মংলা মহাসড়কের ২২২ কিলোমিটার সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার জন্য ইতিমধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই ও পূর্ণাঙ্গ নকশা তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এডিবির অর্থায়নে এ কাজ শেষ হলেও এ মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার জন্য অর্থায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি কাদের অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অর্থায়ন নিশ্চিত করা গেলেই যে কোনো সময় কাজ শুরু হবে। এ মহাসড়কগুলো ছাড়া সরকার এডিবির রেজাল্ট বেইজড ল্যান্ডিং (আরবিএল) প্রোগ্রামের আওতায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক এবং টেকেরহাট-কুয়াকাটা মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা এবং সোনাপুর-সোনাগাজী-জোড়াগঞ্জ সড়কের আপগ্রেডেশনের কাজ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি ম্যানিলায় এডিবির প্রেসিডেন্ট তাকিহিকু নেকাওয়ের সঙ্গে বৈঠককালে বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সিলেট-তামাবিল সড়ককে চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব দিয়েছেন। এডিবি প্রেসিডেন্ট মন্ত্রীর প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন বলে জানা গেছে। সড়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এখন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রস্তাবটি এডিবির কাছে পাঠানো হবে। প্রসঙ্গত, বর্তমানে অর্থনীতির লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং জয়দেবপুর থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ পর্যায়ে।