জাতির জন্য গণপণ্য উপহার : গভর্নর

পয়েন্ট অব সেল মেশিনে আন্তঃব্যাংক লেনদেন হবে

ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের অধীনে আন্তঃব্যাংক পয়েন্ট অব সেলের (পিওএস বা পস) লেনদেন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের আতিউর রহমান। এর ফলে এখন থেকে এক ব্যাংকের পয়েন্ট অব সেলের (পিওএস বা পস) মাধ্যমে অন্য ব্যাংকের অনুমোদিত কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা বা অন্যান্য বিল পরিশোধ করা যাবে। গতকাল বুধবার রাজধানীর মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে এ কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি একে জাতির জন্য গণপণ্য উপহার বলে অভিহিত করেন।

অনুষ্ঠানে গভর্নর বলেন, আগে আন্তঃব্যাংক লেনদেন করতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নিতে হতো, এতে অনেক অর্থ খরচ হতো। এখন তা বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে করা যাবে এবং তা বিনামূল্যে। এতে অনেক অর্থের সাশ্রয় হবে। এটা জাতির জন্য গণপণ্য উপহার। এ ছাড়া আগামী অক্টোবরে আমরা আরটিজিএস চালু করব। এতে টাইম ফর ডুয়িং বিজনেস ও কস্ট অব ডুয়িং অব বিজনেস কমে আসবে। ব্যাংকিং সেক্টরের সব কিছু ডিজিটালাইজেশন করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেকে অনেক কথা বলেন, না জেনে। এখন সুপারভিশনকে ডিজিটালাইজেশন করা হয়েছে। এখন কেউ আর কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ফাঁকি দিতে পারবে না। আর দেশের ব্যাংকিং খাতে যত বেশি ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা যাবে তত বেশি অনিয়ম দুর্নীতি কমবে।

গভর্নর বলেন, মুদ্রানীতিকে দক্ষ করার জন্য পেমেন্ট সিস্টেমের উন্নতি ঘটানো হচ্ছে। তবে আমাদের সেন্ট্রাল ব্যাংক শুধু শাসন করে না, সাহায্যও করে। এমন কেন্দ্রীয় পৃথিবীতে দ্বিতীয়টা নাই। তিনি বলেন, এখন পসের মাধ্যমে বছরে ৫০০ কোটি লেনদেন হয়। আমরা এটাকে দৈনিক ৫০০ কোটিতে নিয়ে আসতে চাই। আমি ব্যাংকগুলোকে বলব আপনারা ১০ টাকার একাউন্টধারীদের ক্রেডিট কার্ড দিতে পারেন কি না দেখেন। স্কুলের বাচ্চাদের হাতে আমরা কার্ড তুলে দিতে চাই, যাতে তারা এটা ব্যবহার করে আইসক্রিম কিনতে পারে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রাথমিকভাবে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচের অধীনে আন্তঃব্যাংক পয়েন্ট অব সেলের (পিওএস বা পস) লেনদেন কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করছে। বর্তমানে দেশের মোট কার্ড ব্যবহারকারীর ৬০ শতাংশই এ চার ব্যাংকের কার্ড ব্যবহার করেন। এনপিএসের আওতাভুক্ত যে কোনো ব্যাংকের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে সহজে পস ডিভাইজের মাধ্যমে লেনদেন করতে পারবে। এর ফলে এখন থেকে এক ব্যাংকের পয়েন্ট অব সেলের (পিওএস বা পস) মাধ্যমে অন্য ব্যাংকের অনুমোদিত কার্ড ব্যবহার করে কেনাকাটা বা অন্যান্য বিল পরিশোধ করা যাবে। ব্যাংকিং সেক্টরের সব কিছু ডিজিটাইলাজেশন করা হচ্ছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, অনেকে অনেক কথা বলেন, না জেনে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা, এস কে সুর চৌধুরী, আবু হেনা রাজী হাসান, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।