সন্ত্রাসবাদ আইনের পরিবর্তন করতে যাচ্ছে সরকার

উগ্র-সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ বেড়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন সরকার। সমাজের এই দুষ্ট ক্ষত দূর করার জন্য সন্ত্রাসবাদ সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত আইনের সংশোধনী আনা হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব এম শহিদুল হক।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১২৬৭ ও ১৩৭৩ সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের বাস্তবায়ন বিষয়ে এক কর্মশালার সূচনা বক্তব্যে বুধবার তিনি এ কথা বলেন।

শহিদুল হক বলেন, গত সপ্তাহে কেবিনেট সভায় সন্ত্রাসবাদ আইনের পর্যালোচনার আলোকে একটি কৌতুহলোদ্দীপক আলোচনা হয়। আমরা বর্তমানে কিছু উগ্র-সহিংসতা ও সন্ত্রাসবাদ ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছি এবং এগুলো বৃদ্ধির ফলে আমরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নের ঘটনায় কয়েকটি বিদেশি এনজিও’র জড়িত থাকার বিষয়ে সরকারের বিস্ময়ের কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এ ধরনের কয়েকটি এনজিও জনগণের মঙ্গলের জন্য নয় বরং সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নের জন্য সম্পদ আহরণের চেষ্টা করে থাকে।

তিনি বলেন, উন্নয়ন কাজের নামে, এনজিও’র কাজের নামে, জনকল্যাণের নামে সম্পদ শুধু দেশের মধ্যে নয় বরং বিভিন্ন দেশে প্রবাহিত হয়ে থাকে।

সচিব বলেন, গত কয়েক বছরে সন্ত্রাসবাদ অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকার বিভিন্ন আইন প্রণয়ন করেছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের চেষ্ঠা করছে।

বাংলাদেশের জাতিসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ওয়াটকিনস বলেন, সম্প্রতি চার ব্লগারের খুন হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ধরনের সন্ত্রাসী ঘটনা ভয়মুক্ত চিন্তা ও মত প্রকাশের নিশ্চয়তার সক্ষমতার জন্য হুমকি।

রবার্ট বলেন, যদি তারা কোনও অপরাধ করে থাকে, সেটা ভিন্ন বিষয় কিন্তু এর জন্য তাদেরকে ভয়ভীতি দেখানো বা মেরে ফেলা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ দুই দিনের কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা।