নাগরপুরের স্বপ্নপূরণ : ধলেশ্বরীতে নির্মিত হচ্ছে ব্রিজ

অবশেষে স্বপ্নপূরণ হতে যাচ্ছে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার পূর্বাংশের মানুষের। তাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল উপজেলার কেদারপুর গ্রামে ধলেশ্বরী নদীর ওপর ব্রিজ নির্মাণের। তাদের সে দাবি বাস্তবায়ন হচ্ছে। ধলেশ্বরী নদীর ওপর নির্মিত হচ্ছে ব্রিজ। ৫২০ দশমিক ৬০ মিটার পিসি গার্ডারের এ ব্রিজটি নির্মাণ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি), টাঙ্গাইল। ব্রিজটি নির্মাণের ফলে টাঙ্গাইলের নাগরপুর-মির্জাপুর ভায়া মোকনা সড়কে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। ব্রিজটি নির্মাণে চুক্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৫৫ কোটি ৪৭ লাখ ১৫ হাজার ৮০৭ টাকা।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ব্রিজের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। পিলারগুলো পানির ওপরে উঠে গেছে। ইতিমধ্যে ব্রিজের ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লিমিটেড ব্রিজটি নির্মাণ করছে। এলজিইডি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, কেদারপুরে ধলেশ্বরী নদীর ওপর এ ব্রিজ নির্মিত হলে সিরাজগঞ্জের চৌহালীসহ টাঙ্গাইলের নাগরপুরের পূর্বের বিশাল চরাঞ্চলের মানুষ অল্প সময়ে সহজেই সারুটিয়া-ধামরাই হয়ে সরাসরি ঢাকা যেতে পারবে। এতে অন্তত ৫০ কিলোমিটার রাস্তা কমে যাবে। সময় কমে যাবে প্রায় অর্ধেক। এখন দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নে ধলেশ্বরীর ওপর নির্মিত শামসুল হক সেতু পার হয়ে টাঙ্গাইল শহর দিয়ে তাদের ঢাকা যেতে হচ্ছে। ফলে তাদের অনেক সময় যানজটে আটকা পড়ে থাকতে হয়। তা ছাড়া দূরত্বও অনেক হওয়ায় সময়-অর্থ দুটোই বাড়তি দিতে হচ্ছে।

কেদারপুর গ্রামের শাহ আলম জানান, নদীর ওপারে বেটুয়াজানি গ্রামে তাঁর ধানক্ষেত রয়েছে। ব্রিজ না থাকায় ধানের দিনে নদী পার হয়ে ধান নিয়ে আসতে তাঁর খুবই ঝামেলা হয়। ঠিকমতো গুদারা (খেয়া নৌকা) পাওয়া যায় না। অনেক সময় ভাড়াও বেশি দিতে হয়।

জাঙ্গালিয়া গ্রামের কামাল হোসেন বলেন, ‘যত তাড়াতাড়িই হোক না কেন নৌকা দিয়ে নদী পার হয়ে তারপর জরুরি কাজ করতে হয়। রাতে নৌকা পাওয়া যায় না। রোগী নিয়ে খুবই কষ্ট হয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘একদিন ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরতে তাঁর রাত হয়ে যায়। এসে দেখেন নৌকা নেই। সারা রাত তিনি খেয়াঘাটে অপেক্ষা করে ভোরে নৌকায় নদী পার হয়ে বাড়ি যান।’ একই গ্রামের আবদুল খালেক বলেন, ‘এখন ঢাকা যেতে হয় টাঙ্গাইল শহর হয়ে। এতে সময় লাগে প্রায় ছয় ঘণ্টা। এ ব্রিজ হলে দুই ঘণ্টাতেই ঢাকা যাওয়া যাবে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার হোসেন লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার আবু সাদাত সায়েম জানান, গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর এ ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। আর সিডিউল অনুযায়ী কাজ শেষ করার কথা রয়েছে আগামী বছরের (২০১৬ সাল) ৩০ জুন। এরই মধ্যে ৪০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। এ ব্রিজ নির্মাণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে যথাসময়ে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এম মিজানুর রহমান বলেন, ধলেশ্বরী নদীর ওপর এ ব্রিজটি হলে নাগরপুরের চরাঞ্চলের মানুষদের ঢাকায় যাতায়াত অনেক সহজ হবে।