পদ্মাপাড়ে ক্রিকেট স্টেডিয়াম

চারদিকে ঘন অন্ধকার। ফ্লাডলাইটের আলো সেই অন্ধকার বিদীর্ণ করে আকাশ আলোকিত করছে। তারই মাঝে চলছে হাজারো মানুষের হর্ষধ্বনি। চার-ছক্কার সঙ্গে উইকেট ভাঙার মিতালী। পদ্মাপাড়ে এমনই দৃশ্যের সূচনা হতে যাচ্ছে। কল্পনায় নয়, বাস্তবে।
কলকাতার গঙ্গাপাড়ের ইডেন গার্ডেনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে বাংলাদেশে পদ্মাপাড়ে নির্মিত হচ্ছে অত্যাধুনিক স্টেডিয়াম। ঢাকার শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের কাছে তুরাগ নদী। এবার সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। পদ্মাপাড়ে গড়ে উঠবে ক্রিকেট স্টেডিয়াম। গোধূলির আলোয় নৌকোর দাঁড় টানার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। ঝাঁকে ঝাঁকে জালে ধরা পড়া রুপালি ইলিশের চেনা আঁশটে গন্ধ। আর তার পাশেই ব্যাট ছুঁয়ে যাওয়া কভার ড্রাইভ বা উইকেট ভাঙার রোমান্টিক শব্দকল্প।
ঢাকা থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে মানিকগঞ্জে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের স্বপ্ন দেখেছিলেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয়। দুর্জয় এখন সংসদ সদস্য। তার স্বপ্ন এখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনারও স্বপ্ন। শুধু স্বপ্ন নয়, পদ্মাপাড়ে ক্রিকেট স্টেডিয়াম গড়ার ঢাকে কাঠিও পড়ে গেছে।
আজ যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের পাওয়ারপয়েন্ট প্রেজেন্টশন দেবে চীনের স্টেট কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পোরেশন লিমিটেড (সিএসসিইসি)। দুপুরে সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার এবং মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তাদের সামনে প্রেজেন্টেশন। এজন্য সিএসসিইসির সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে। এসব কিছুর দেখভাল করছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক দুর্জয়। স্টেডিয়ামের জন্য এরই মধ্যে পদ্মাপাড়ে গোটাচারেক জায়গা দেখা হয়েছে। দুর্জয়ের আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা, ‘কাজ একবার শুরু হলে বেশি সময় লাগবে না। এটা কোনো ছোটখাটো স্টেডিয়াম হবে না। অত্যাধুনিক আন্তর্জাতিকমানের সুযোগ-সুবিধা নিয়েই স্টেডিয়াম করব আমরা। পাশে পদ্মা। এটাই আমাদের স্বপ্ন। বাংলাদেশের ক্রিকেট মানচিত্রে জুড়ে যাচ্ছে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের জন্মস্থান মানিকগঞ্জ।’
১৯৯৫ সালে ওয়ানডেতে অভিষেক হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে হাতেখড়ি দুর্জয়ের। ২০০২ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান। ক্যারিয়ারে রয়েছে অভিষেক টেস্টে ভারতের বিরুদ্ধে ছয় উইকেট নেয়ার দুর্লভ কৃতিত্ব। পদ্মার তীরে স্টেডিয়াম হলে তা পর্যটক টানবে বলে মনে করছেন দুর্জয়। ম্যাচ দেখার পর পদ্মা নদীর মাঝির সঙ্গে নৌকা বিহারে বেরিয়ে পড়লেই হল। পাশাপাশি পদ্মার ইলিশ দিয়ে রসনাতৃপ্তির ব্যাপারটা তো আছেই।
সব মিলিয়ে গঙ্গাপাড়ের ইডেনকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি হচ্ছে পদ্মাপাড়ের স্টেডিয়াম। দুর্জয়ের কথা, ‘স্টেডিয়াম নির্মাণের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সবুজ সংকেত রয়েছে। এর জন্য চীনা কোম্পানি সিএসসিইসি’র সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তারা তাদের পরিকল্পনা আমাদের সামনে তুলে ধরবে। সবকিছু ঠিক থাকলে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে চীনা সরকারের (জিটুজি) প্রাথমিক চুক্তি হবে। আশা করছি আগামী বছর নাগাদ স্টেডিয়াম নির্মাণের কাজ শুরু হবে।’