নাজিরপুরে আমড়ার ভালো ফলনে কৃষক খুশি

পিরোজপুরের নাজিরপুরে এবারও আমড়ার বাম্পার ফলন হয়েছে। মুখোরোচক, আকারে বড়, পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু হওয়ায় সারাদেশে এ আমড়ার কদর রয়েছে। বাজারদর চড়া থাকায় বিক্রি করে বাগান মালিক, বেপারি, পাইকার, আড়তদার, খুচরা বিক্রেতাসহ এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবাই বেশ লাভবান হচ্ছেন।
চাষে কম খরচে বেশি আয়ের ফলে এ উপজেলার অনেক গৃহস্থই এখন বাণিজ্যিকভাবে আমড়াবাগান সৃষ্টির দিকে ঝুঁকছেন। কেউ কেউ আবার রাস্তার পাশে, পুকুর পাড়ে, বাড়ির আঙিনায় দু’একটি করে আমড়ার চারা রোপণ করছেন।
জেলার ৭টি উপজেলার মধ্যে নাজিরপুর, স্বরূপকাঠি এবং কাউখালীতে আমড়ার বাগান সবচেয়ে বেশি। এ উপজেলার অনেকেই আমড়া চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার নজির স্থাপন করেছেন। তাই অন্য উপজেলায়ও চারা রোপণের প্রবণতা ক্রমে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ফেরিওয়ালারা ঘুরে ঘুরে আমড়ার খোসা ছাড়িয়ে বিট লবণ দিয়ে প্রতিটি আমড়া ৫ টাকা করে বিক্রি করে থাকেন। অনেকেই আবার চাটনি বানাতে কেজি হিসেবেও এ ফল কেনেন। তাছাড়া বিভিন্ন ফাস্ট ফুডের দোকানে আমড়ার মোরব্বার কদর বাড়ছে।
পিরোজপুরের মাটি আমড়া চাষের জন্য খুবই উপযোগী। নাজিরপুর, কাউখালী এবং স্বরূপকাঠিতে শতাধিক আমড়ার আড়ত রয়েছে। বেপারিরা শ্রাবণ ও ভাদ্র মাসে বাগানে গিয়ে মালিকদের কাছ থেকে বস্তাপ্রতি এক হাজার ৬০০ টাকায় আমড়া ক্রয় করে থাকেন। প্রতি বস্তায় গড়ে ৭৫০ থেকে ৮০০ আমড়া থাকে। এ আমড়া স্বরূপকাঠি ও কাউখালীর বিভিন্ন আড়তে নিয়ে দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রয় করা হয়। আড়ত মালিকরা তা লঞ্চে চাঁদপুর ও ঢাকার মোকামে পাঠান। সেখানে দুই হাজার ৯০০ থেকে তিন হাজার ২০০ টাকায় প্রতি বস্তা আমড়া বিক্রয় হয়ে থাকে।
নাজিরপুরের দেউলবাড়ির আমড়া ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম জানান, ভ্যান ভাড়া, লঞ্চঘাটের টোল, লঞ্চ ভাড়া এবং অন্যান্য খরচসহ ঢাকা ও চাঁদপুর মোকামে এক বস্তা আমড়া পাঠাতে ২৫০ থেকে ২৭৫ টাকা খরচ হয়। আর প্রতি বস্তা আমড়া বিক্রিতে তাদের ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।
৬৫০ হেক্টরের বাগানে এ বছর বর্ষায় প্রায় ৭ হাজার ২০০ টন আমড়ার ফলন হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা থেকে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে বাগান মালিকরা প্রায় ২০ কোটি টাকা উপার্জন করবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দিগ্গি্বজয় হাজরা জানান, আমড়া গাছে রোগবালাই খুবই কম। কিছু কিছু গাছে বৈশাখের শুরুতে নতুন গজানো পাতায় পোকার আক্রমণ হয়। এ সময় কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা ঘুরে ঘুরে বাগানে গিয়ে চাষিদের বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক ছিটানোর পরামর্শ দিয়ে থাকেন।