আলো জ্বলছে উড়ালসেতু প্রকল্পের

রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ২০১০ সালে শান্তিনগর থেকে ঝিলমিল পর্যন্ত উড়ালসেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছিল রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

গেল কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার আশার প্রদীপ জ্বলেও আবার যেন আস্তে আস্তে নিভে যাচ্ছিল আলোচিত এই উড়ালসেতু নির্মাণ প্রকল্পটি। বর্তমানে এই প্রকল্পটি আবার নতুন করে আলো দেখতে শুরু করছে স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্যই।

জানা যায়, এ উড়ালসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল ২০১০ সাল থেকেই। কিন্তু অর্থের সংস্থানসহ নানা কারণে কাজ ঝুলে ছিল। কিন্তু পদ্মা সেতু প্রকল্পের কারণে চলতি বছরই এর টেন্ডার হতে যাচ্ছে। পদ্মা সেতু চালু হলে মাওয়া এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়বে। সে কারণে দ্রুত সময়ে উড়ালসেতুটি নির্মাণ করতে চায় রাজউক।

রাজউক জানায়, শান্তিনগর থেকে ঝিলমিল পর্যন্ত ১৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে উড়ালসেতুটি নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্পের আওতায় পুরান ঢাকার যানজট নিরসনে গোলাপ শাহ মাজার সার্কেল (গুলিস্তান) থেকে বাবুবাজার সেতু পর্যন্ত একটি উড়ালসেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রাজউক।

এর সঙ্গে পল্টন থেকে গোলাপ শাহ মাজার-বাবুবাজার হয়ে ঝিলমিল আবাসিক এলাকা পর্যন্ত আরেকটি উড়ালসেতু নির্মাণ করা হবে। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৪২ কোটি ৯৭ লাখ ২৯ হাজার টাকা। চলতি বছরেই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুন নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে রাজউক। সব অর্থ সরকারি খাত থেকে মেটানো হবে।

এ বিষয়ে রাজউকের প্রধান পরিকল্পনাবিদ (অ্যাডিশনাল চার্জ) আবদুর রহমান বলেন, ‘শান্তিনগর থেকে ঝিলমিল পর্যন্ত উড়ালসেতু নির্মাণের পরিকল্পনা বহু আগের। নানা কারণে এটি আলোর মুখ দেখছিল না। তবে এবার পদ্মা সেতু প্রকল্পের কারণে নতুনভাবে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে প্রকল্পটি। কারণ পদ্মা সেতু হয়ে গেলে মাওয়া এলাকায় মানুষের যাতায়াত বহুগুণে বেড়ে যাবে। এমনিতেই এ এলাকায় যানজট লেগে থাকে। পদ্মা সেতু চালু হলে তা আরো কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।

সেজন্য ২০১৭ সালের মধ্যেই আমরা উড়ালসেতুটি নির্মাণ করতে চাই। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরেই টেন্ডার হয়ে যাবে। এমনকি এ প্রকল্পের বিষয়ে বিভিন্ন স্থানে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন।’

জানা গেছে, প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘শান্তিনগর থেকে ঢাকা-মাওয়া রোড (ঝিলমিল) পর্যন্ত উড়ালসেতু নির্মাণ প্রকল্প’। ইতোমধ্যে এ বিষয়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। চলমান পদ্মা সেতু প্রকল্প ও মাওয়া এলাকায় যানজটের কথা বিবেচনা করে প্রকল্পের বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে সভা। এতে করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পেতে যাচ্ছে প্রকল্পটি।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে, পিপিপির আওতায় শান্তিনগর থেকে ঢাকা-মাওয়া রোড (ঝিলমিল) পর্যন্ত (ভায়া বুড়িগঙ্গা নদীর ওপর নির্মিতব্য চতুর্থ সেতু) উড়ালসেতু নির্মাণ কাজে সহায়তা করা। পরে এ উড়ালসেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা অনুভব হওয়ায় একই পরামর্শকের মাধ্যমে কাজটি করার সিদ্ধান্ত হয়। জানা যায়, এটি একটি নান্দনিক উড়ালসেতু হবে। এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- মোট দৈর্ঘ্য ১৩ দশমিক ৩২ কিলোমিটার, প্রশস্ততা ৯ দশমিক ১০ মিটার (দুই লেন)। সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য কোথাও কোথাও চার লেন হবে।

এছাড়া দুই লেনযুক্ত রাম্প থাকবে। উড়ালসেতুটি পল্টন ইন্টারসেকশন এবং ফুলবাড়িয়া ইন্টারসেকশন অতিক্রম করবে। প্রকল্পের আওতায় কদমতলী গোলচত্বর থেকে মাওয়া পর্যন্ত ১০০ ফুট প্রশস্ত সড়কও নির্মাণ করা হবে। ফ্লাইওভারটি যাত্রাবাড়ী টু গুলিস্তান মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের চেয়েও দীর্ঘ হবে। এর সঙ্গে যুক্ত করতে বাবুবাজার সেতুর পাশে চতুর্থ বুড়িগঙ্গা সেতু নির্মাণ করা হবে। বুড়িগঙ্গার নতুন সেতু অতিক্রম করেই ঝিলমিলে মিলিত হবে উড়ালসেতুটি।

এ প্রসঙ্গে রাজউকের প্রধান ডিজাইনার সাইদুর রহমান বলেন, ‘শান্তিনগর-ঝিলমিল উড়ালসেতু প্রকল্পটি পুরান ঢাকার নতুন গেটওয়েতে পরিণত হবে। এর ফলে বাবুবাজার সেতুর পাশ দিয়ে নতুন আরও একটি সেতু হবে। উড়ালসেতুটিতে পরিবহন ও মানুষ যাতায়াতের জন্য মোট ৮টি পথ থাকবে। প্রকল্পটি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হওয়ার পর পুরান ঢাকার চিত্র পাল্টে যাবে।’