বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে

দেশের টেকসই সার্বিক উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে সবার জন্য ন্যায্যভাবে এগিয়ে যাবার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। অর্থাৎ যখন কাউকে বাদ না দিয়ে ন্যায়নীতির ভিত্তিতে গোটা সমাজ এগিয়ে চলে, তখন সকল ব্যক্তির ও গোষ্ঠীর ন্যায্য ও টেকসই উন্নতি নিশ্চিত হতে পারে। দেশে কিছু মানুষ বা কিছু গোষ্ঠী অন্যদেরকে পেছনে রেখে বেশি দূর যেতে পারেনা। সমাজে নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়। আর্থসামাজিক বৈষম্য, সামাজিক অস্থিরতা ও রাজনীতিক অস্থিতিশীলতা বাড়তে থাকে। হানাহানি দেখা দেয়। কোনো না কোনভাবে সকলেই উদ্ভুত পরিস্থিতির শিকার হন। সকলের টেকসই অগ্রগতি ব্যাহত হয়। দেশের টেকসই অগ্রগতি স্তিমিত হয়। টেকসই উন্নয়ন হচ্ছে অর্থনৈতিক অগ্রগতি সামাজিক বিকাশ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সমন্বিত ব্যবস্থা এবং এটি বাস্তবায়িত হতে হবে মানুষকে কেন্দ্র করে। নির্ধারিত সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সময় বেধে দেওয়া হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। দারিদ্র্য দূরীকরণ, ক্ষুধা নির্মূলকরণ, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, লিঙ্গ সমস্যা এবং নারীর ক্ষমতায়ন, বিশুদ্ধ পানির সংস্থান, সকলের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানির ব্যবস্থা, টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিল্পায়ন, দেশের অভ্যন্তরে এবং আন্তর্জাতিক পরিম-লে বৈষম্য দূরীকরণ, শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন, টেকসই উৎপাদন ও ভোগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা করা। সমুদ্র সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক সম্পদের জীব বৈচিত্র্যের অবনয়ন রোধ এবং উন্নতি সাধন, মরুকরণ রোধ এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা ইত্যাদি টেকসই উন্নয়ন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশ বিশ্বে নেতৃস্থানীয়। দারিদ্র্য ও দারিদ্র্য গভীরতার হার এবং ৫ ও ১ বছর থেকে কম বয়সের শিশুমৃত্যুর হার হরাস ২০১৫ সালের অনেক আগেই বাংলাদেশ অর্জন করেছে। বর্তমানে এসব ক্ষেত্রে অধিকতর অর্জন ঘটছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় ছেলে মেয়ের অনুপাতে অনেক আগেই সমতা নিশ্চিত করা হয়েছে। শুধু সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের ক্ষেত্রে নয় বাংলাদেশের সার্বিক আর্থসামাজিক অগ্রগতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক পরিম-লে তা ব্যাপকভাবে স্বীকৃত ও প্রশংসিত।