বে-টার্মিনালে ভিড়বে পাঁচ হাজার কন্টেইনার বহনযোগ্য জাহাজ

আগামী ১০০ বছরের সম্ভাবনাকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরেরই অনতি দূরে আধুনিক বে-টার্মিনাল নির্মাণের মহাপরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশন এরিয়ার ৬ গুণ বেশি হবে এই বে-টার্মিনাল। সক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে আধুনিক বিশ্বের সকল টার্মিনালের সমকক্ষ হবে এটি। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরের চলমান প্রবৃদ্ধিকে সামনে রেখে সম্প্রসারণ কর্মসূচির আওতায় নিজস্ব অর্থায়নে বে-টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে। এমনকি সম্প্রতি এডিবি’র সহায়তায় চট্টগ্রাম বন্দরের ৩০ বছরের মহাপরিকল্পনার যে খসড়া রিপোর্ট দেয়া হয়েছে তাতে আগামী ২০২৩ সালের মধ্যে বে-টার্মিনাল নির্মাণ সম্পন্ন করার সুস্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। আবার আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে কোন বন্দরের মোট সক্ষমতার শতকরা ৬০ ভাগ পূর্ণ হলেই নতুন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যানুযায়ী, বে-টার্মিনালের অনেক সুফল পাওয়া যাবে। বর্তমানে যেখানে একসাথে সর্বোচ্চ ১৯টি জাহাজ বার্থিং করা সম্ভব সেখানে বে-টার্মিনালে ৩০ থেকে ৩৫টি জাহাজ বার্থিং করা যাবে। এছাড়া দীর্ঘাকার ও বেশি ড্রাফটের জাহাজ ভেড়ানো যাবে। এছাড়া কন্টেইনার বহন ক্ষমতা, চ্যানেলের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ, ট্রাফিক ব্যবস্থা, নাইট নেভিগেশন, অপারেশন এরিয়া, আধুনিক কানেকটিভিটি, প্রবৃদ্ধি, কয়লা ও ক্লিংকার হ্যান্ডলিং, জ্বালানি তেল খালাস, ব্রেক ওয়াটার, জাহাজের গড় অবস্থান ইত্যাদি সূচকে বে-টার্মিনাল এগিয়ে থাকবে।

বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরে ৯ দশমিক ৫০ মিটারের বেশি ড্রাফটের জাহাজ ভিড়তে পারে না। বে-টার্মিনালে ১০ থেকে ১২ মিটার গভীরতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের আগত জাহাজ সর্বোচ্চ ১৮শ’ কন্টেইনার বহন করতে পারে। বে-টার্মিনালে ৫ হাজার কন্টেইনার বহন ক্ষমতার জাহাজ ভিড়তে পারবে। চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ চলাচল শুধু জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল। নাইট নেভিগেশন বন্ধ থাকলে কেবলমাত্র দিনের বেলায় জেটি জাহাজ বার্থিং করে এবং জেটি থেকে জাহাজ ছেড়ে যায়। এক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিদিন সর্বোচ্চ মাত্র ৪ ঘণ্টা জাহাজ চলাচল করতে পারে। এমনকি মালামাল খালাস কিংবা ভর্তির পরও পরবর্তী জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এ কারণেই জাহাজের গড় অবস্থানের সময় বৃদ্ধি পায় এবং বহির্নোঙরে জাহাজ জটের সৃষ্টি হয়। বে-টার্মিনাল হলে ২৪ ঘণ্টা জাহাজ চলাচল করতে পারবে। এতে করে জাহাজ গড় অবস্থানকাল কমে যাবে এবং আমদানিকারকদের জাহাজ মালিকদের বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হবে না। এটি বাজার মূল্যের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এদিকে, কয়লা ও ক্লিংকার খালাস করার জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের কোন জেটি নেই। উন্মুক্ত কয়লা ও ক্লিংকার খালাস পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তবে বে-টার্মিনালের মাধ্যমে কয়লা ও ক্লিংকার খালাস করার পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে। আধুনিক বিশ্বের সবুজ বন্দরের আদলে বে-টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। ফলে এই বন্দর জলবায়ু পরিবর্তনে কোন নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না। বর্তমান বিশ্বে কোন বন্দরের সক্ষমতার মূল সূচক হচ্ছে জাহাজের গড় অবস্থান কাল। চট্টগ্রাম বন্দরে অনেক প্রচেষ্টার পর জাহাজের গড় অবস্থানকাল আড়াই দিনে নেমে এসেছে। বে-টার্মিনাল হলে তা একদিনে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন ও প্ল্যানিং) মো. জাফর আলম জানান, বে-টার্মিনালের ব্যাপারে দ্রুত কাজ চলছে। তিনি জানান, ইতিমধ্যে এর জন্য উপদেষ্টা ফার্ম নিয়োগের টেন্ডার করা হয়েছে। তাছাড়া জমি অধিগ্রহণের জন্য পরিবেশসহ বিভিন্ন ধরনের ছাড়পত্রের আবেদন করা হয়েছে।