নীড় আইন-শৃংঙ্খলা ম্যাজিস্ট্রেসির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দর

ম্যাজিস্ট্রেসির ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দর

বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দেশের প্রধান করিডোর বলে পরিচিত ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বাস্তবিক অর্থে আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে যাচ্ছে। আট মাস ধরে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছে দেশের প্রধান বিমানবন্দরটি। এখন আর যাত্রী হয়রানির অভিযোগ পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় না ট্রলি ব্যবসা, লাগেজ সরঞ্জাম পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, এয়ারলাইন্সগুলোর দুর্ব্যবহার ও প্রতারণা এবং বিমানবন্দর থেকে গন্তব্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গাড়ির দালালদের দৌরাত্ম্যে হয়রানির অভিযোগও। পাওয়া যায় যাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা ভোগের খবর, হয়রানির প্রতিকার বা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার খবর।

এমন দারুণ পরিবর্তন কীভাবে? শাহজালাল বিমানবন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারী আর যাত্রীদের এক উত্তর- ম্যাজিস্ট্রেট। শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের সবক’টি বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত দু’জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বিগত আট মাসে দৃশ্যতঃ পুরো বিমানবন্দরটিকে পাল্টে দিয়েছেন।

বিমানবন্দর পাল্টে দেওয়া এ ম্যাজিস্ট্রেসিকে যাত্রীরা ‘নতুন প্রজন্মের ম্যাজিস্ট্রেসি’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। যাত্রীদের পক্ষ থেকেই বলা হচ্ছে, একসময় বিচারপ্রার্থীরা বিচারের জন্য ছুটে যেতেন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। কিন্তু বিমানবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত এ ম্যাজিস্ট্রেটরা ছোটেন ক্ষতিগ্রস্তের কাছে, প্রতিকার দিতে।

সর্বজন প্রশংসিত এ ম্যাজিস্ট্রেটদের সফলতার মূলভিত্তি কী? বিমানবন্দর সূত্র বলছে, পরিকল্পনা, অপরাধের প্রকারভেদ নির্ণয়, বিভিন্নমুখী বিশ্লেষণ, বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং তড়িত যথাযথ পদক্ষেপে এগোচ্ছেন এ ম্যাজিস্ট্রেটরা।

বিমানবন্দরের কর্মকর্তা ও যাত্রীরা বলছেন, কেবল মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক ছোটাছুটিই করছেন না ম্যাজিস্ট্রেটরা। যাত্রী সচেতনতা বাড়াতে তারা একটি ফেসবুক পেজও (https://www.facebook.com/magistrates.all.airports.bangladesh) চালাচ্ছেন। এ পেজে অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় বর্ণিত রয়েছে যাত্রীদের অধিকার এবং অন্যায়ের প্রতিকার। ছয় মাস লাগেজ না পেয়ে এই পেজে অভিযোগ করে কিছু যাত্রী মাত্র এক ঘণ্টায় প্রতিকার পেয়েছেন বলেও তথ্য রয়েছে। পেজটিতে রয়েছে চারটি মোবাইল নম্বর (০১৭৮৭৬৬১১৬৬, ০১৭৮৭৬৬১১৪৪, ০১৮৬৬৫৬৬৬৬৬, ০১৮৬৬৫৪৪৪৪৪)। পেজের ইনবক্সে মেসেজ পাঠানোর পাশাপাশি মোবাইল নম্বরগুলোতেও যাত্রীরা অভিযোগ করছেন; জেনে নিচ্ছেন তাদের অধিকার, করণীয় ও বর্জনীয়।

এ বিষয়ে নিয়োজিত এক ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমেই নাম প্রকাশ না করার শর্ত জুড়ে দেন। কারণ জানতে চাইলে ওই ম্যাজিস্ট্রেট সহাস্যে বলেন, ‘এটা সাস্টেইনেবল স্ট্র্যাটেজি। আমরা এখানে নাম দিয়ে হিরো হতে কাজ করি না, বাই ডেজিগনেশনে দেশের জন্য দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতে কাজ করি, যেন আমরা চলে গেলেও একই ডেজিগনেশনের ব্যক্তির জন্য কাজটি সহজ হয়ে যায়। আমরা কাজটাকে একটা ট্র্যাকে তুলে দিতে চাই, যেখানে পরবর্তী যে কেউ শুধু স্টিয়ারিং ধরে রাখলেই চলবে।

বর্তমান কার্যক্রমে কতটুকু সন্তুষ্ট জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখনও অনেক পথ পাড়ি দিতে হবে। কার্গো ভিলেজের অনিয়মের দিকে এখনও আমরা নজরই দিতে পারিনি। দেশের সব বিমানবন্দরের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত হলেও ঢাকার বাইরে এখনও যাওয়া হয়নি। আমাদের প্ল্যানিংয়ে ছিল প্রথমে ঢাকা এয়ারপোর্টকে একটা পর্যায়ে নিয়ে আসা এবং পরবর্তী সময়ে অন্যান্য এয়ারপোর্টে সময়ে সময়ে অভিযান পরিচালনা। কিন্তু ম্যাজিস্ট্রেটের স্বল্পতা এবং কাজের ব্যাপকতার দরুণ তা হয়ে উঠছে না।

ম্যাজিস্ট্রেটের স্বল্পতার বিষয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আমাদের কার্যক্রমে সন্তুষ্ট হয়ে এ ধারা অব্যাহত রাখতে এবং বিমানবন্দরগুলোকে পুরোপুরি যাত্রীবান্ধব ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার ম্যাজিস্ট্রেটের সংখ্যা বাড়িয়ে সারা দেশে মোট আট জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করতে যাচ্ছে বলে শুনছি। অর্গানোগ্রাম সংশোধন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এসব ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে দেশের বিমানবন্দরগুলো নিয়ে গর্ব করার মত নিশ্চিত একটা পর্ব আসবে।

‘সিঙ্গাপুর পারলে আমরা কেন নয়?’ এমন মন্তব্য করে ম্যাজিস্ট্রেট প্রবাসীদের স্বার্থে ফেসবুক পেজ ও মোবাইল নম্বরগুলোর বেশি বেশি প্রচারণা প্রত্যাশা করেন।