বিজয়ী বাঙালিঃ ন্যানোবিজ্ঞানী রেজাউল করিম

সৌদি আরবের প্রধান বিশ্ববিদ্যালয় কিং সৌদের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর তালিকায় নাম লিখিয়েছেন বাংলাদেশি ড. রেজাউল করিম। খাবারে ফরমালিন থেকে মুক্তির উপায় বের করেছেন তিনি।

কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধীনে সেন্টার অব এক্সিলেন্স ফর রিসার্চ-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং-ইন-ম্যাটিরিয়ালস, অ্যাডভান্স ম্যানুফ্যাকচার ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম। বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাওয়ার্ড ফর সায়েন্টিফিক এক্সিলেন্সের জন্য মোট সাতটি ক্যাটাগরিতে ১৫ জনকে পদক দেওয়া হয় এ বছর। ‘ইনভেনশন অ্যান্ড টেকনোলজি লাইসেন্সিং প্রাইজ’ ক্যাটাগরিতে পদক পান ড. রেজাউল। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে শ্রেষ্ঠ ১৫ বিজ্ঞানীর হাতে পদক তুলে দেন রিয়াদের গভর্নর প্রিন্স ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ।

রেজাউল করিমের জন্ম ১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি নোয়াখালীর চাটখিলের পরানপুর গ্রামে। বাবা মোশারেফ হোসেন, মা মনোয়ারা আক্তার। বাবা ছিলেন টিঅ্যান্ডটির সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। কাজ করতেন রাঙামাটি ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে। ছেলেকে তিনি বিজ্ঞান শোনাতেন বেশি। সেই সঙ্গে নিজের অভিজ্ঞতার বিচিত্র সব গল্প। আর ছেলেও মেধাবী, প্রথম শ্রেণি থেকে কোনো দিন দ্বিতীয় হয়নি। নবম শ্রেণিতে উঠে বিজ্ঞান শাখায় নাম লেখায় রেজাউল। আদমজি ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে এইচএসসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড ক্যামিকেল টেকনোলজিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর। ২০০৭ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় বৃত্তি পেয়ে কিংগপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে ফিজিক্যাল কেমিস্ট্রির (ন্যানোটেকনোলজি) ওপর পিএইচডি করেন। রেজাউল করিম বলেন, ‘ন্যানো কী জিনিস আমি আসলে বাংলাদেশে থাকতে কিছুই জানতাম না। ওখানে গিয়ে বুঝতে পারলাম, এটা একটা বিশাল জগৎ।’ ২০০৮ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পোস্ট ডক্টরেট করেন। পরের বছর অ্যাডভান্সড ম্যাটিরিয়াল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে দ্বিতীয় পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ করেন। এরপর জাপান, আমেরিকাসহ অনেক দেশে কাজের অফার পান।

যেভাবে কিং সৌদে

কাজের ক্ষেত্র হিসেবে কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয় বেছে নেওয়ার পেছনে স্ত্রী মেহের বড় কারণ। মেহেরের জন্ম সৌদিতে। শ্বশুর মদিনায় ২০ বছরের বেশি ডাক্তারি পেশায় নিয়োজিত। এসব বিবেচনা করে ২০০৯ সালের এপ্রিলে কিং সৌদ বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন ড. রেজাউল। এ ছাড়া তিনি মালয়েশিয়ার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিজিটিং লেকচারার এবং কানাডার কুইবেক বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন লেকচারার। ২০১২ সালের মারকুইজ হুজ হু-তে অন্তর্ভূক্ত হয় তাঁর নাম। ৭৫টি আন্তর্জাতিক জার্নালে তাঁর নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে চারটি গবেষণার পেটেন্ট হয়ে গেছে। পেটেন্টের মধ্যে দুটি যুক্তরাষ্ট্রে, একটি ইউরোপে, আরেকটি সৌদি আরবে। ঝুলে আছে আরো তিনটি পেটেন্ট। ন্যানোপ্রযুক্তির ওপর একটি বইও লিখেছেন। বের হয়েছে জার্মানি থেকে। পাশাপাশি অ্যামাজনে বিক্রি হচ্ছে বইটি। এ ছাড়া ন্যানোম্যাটিরিয়ালস নিয়ে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নোভা পাবলিশার্স। স্ত্রী ও দুই মেয়ে মারজিহা ও মারলিসা।