বাংলাদেশের প্রশংসায় আফ্রিকা জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশন

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের সৈন্যদের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করে আফ্রিকার দেশ কঙ্গো এবং আইভরি কোস্টের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন প্রয়োজনে বাংলাদেশ থেকে আরও সৈন্য চাইবে। অফ্রিকার দেশ দুটিতে বাংলাদেশের যেসব সৈনিক শান্তিরক্ষী মিশনে কর্মরত তাদের কর্মদক্ষতা এবং শৃঙ্খলায় মুগ্ধ হয়ে দেশ দুটির ঊর্ধ্বতন সামরিক এবং জাতিসংঘের নিযুক্ত কর্মকর্তারা এমন আশ্বাস দিয়েছেন। সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির একটি প্রতিনিধি দল আফ্রিকার দেশ দুটিতে সফরে যায়। সফরকারী দলের সদস্যরা আমাদের সময়কে তথ্যটি জানিয়েছেন।
২৩ জুলাই কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান এমপির নেতৃত্বে ডিআর কঙ্গো এবং মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়া এমপির নেৃতত্বে আইভরি কোস্টে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির প্রতিনিধি শান্তিরক্ষী মিশনের কর্মকা- পরিদর্শনে যান। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান ফকির, মাহবুবুর রহমান, ডা. দীপু মনি, হোসনে আরা বেগম, ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ, মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরী। এছাড়া সহায়ক কর্মকর্তা হিসেবে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ছিলেন। রাষ্ট্রীয় ওই সফর শেষে গত ২ আগস্ট তারা দেশে ফেরেন।
প্রতিনিধি দলের সদস্যদের কাছে জানতে চাইলে তারা আমাদের সময়কে বলেন, কঙ্গোতে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং পুলিশের প্রায় দুই হাজার প্রতিনিধি শান্তিরক্ষী মিশনে কর্মরত। এ বিষয়ে কঙ্গোর প্রতিনিধি দলের প্রধান ফারুক খান আমাদের সময়কে বলেন, কঙ্গোতে আমরা একাধিক ক্যাম্প পরিদর্শন করেছি, কঙ্গোর রাজধানীতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের বিশেষ প্রতিনিধি মার্টিন কবলার এবং ওই দেশের শান্তিরক্ষী বাহিনীর কমান্ডার লে. জেনারেল অ্যালবার্ট সান্তোষের সঙ্গে কথা হয় আমাদের। তারা দুজনই বাংলাদেশের সৈনিকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বাংলাদেশিদের প্রতি সন্তুষ্টির কথা জানিয়ে তারা আমাদের আশ্বস্ত করেন, তাদের যদি আরও সৈন্য প্রয়োজন পড়ে তাহলে তারা প্রথমেই বাংলাদেশ থেকে সৈন্য নিতে আগ্রহী। এর কারণ জানতে চাইলে ফারুক খান বলেন, তিনটি কারণে জাতিসংঘ এবং আফ্রিকার দেশগুলো আমাদের সৈনিকদের ওপর খুশি। প্রথমত, বাংলাদেশের সৈনিকদের পেশাগত মান খুবই উঁচুমানের। দ্বিতীয়ত বাংলাদেশের সৈনিকরা খুবই সাহসী এবং তৃতীয়ত বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর কর্মীদের শৃঙ্খলাবোধ খুবই উঁচু মানের। তিনি জানান, কঙ্গোতে প্রায় ১০টি দেশের ১৮ হাজার শান্তিরক্ষী কর্মরত। ওই পুরো সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্বে আছে বাংলাদেশের সৈনিকরা। শুধু তাই নয়, আমাদের নারী পুলিশরাও সে দেশে খুবই সাহসিকতার সঙ্গে কাজ করছেন। আওয়ামী লীগের এই আর্ন্তজাতিকবিষয়ক সম্পাদক জানান, আমাদের সৈনিকরা সেখানে কাজ করার পাশাপাশি সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক কাজেও যুক্ত। কঙ্গোতে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে একটি অডিটোরিয়ামও নির্মাণ করে দিয়েছে বাংলাদেশি সৈনিকরা।
আফ্রিকার অপর দেশ আইভরি কোস্টের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দেশটির কর্মকর্তারা বাংলাদেশের সৈনিকদের প্রতি খুবই উচ্চ ধারণা পোষণ করেন এবং তারা বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে ধরে তাদের দেশের উন্নয়ন কর্মকা- এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি সূত্রে জানা যায়, পৃথিবীর ১০টি দেশে বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে সাত হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে কর্মরত। শান্তিরক্ষী হিসেবে বিশ্বে এখন প্রথম সারিতে আছে বাংলাদেশ। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের নারী শান্তিরক্ষীরাও রয়েছেন বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে এক নাম্বারে। শান্তিরক্ষী মিশন থেকে প্রতি বছর প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা যোগ হচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে।