দারিদ্র্যের সামাজিক অর্থনীতি

এ তো বড় রঙ্গ জাদু এ তো বড় রঙ্গ, তিন মিথ্যে দেখাতে পার, যাব তোমার সঙ্গ। এই জাতীয় একাধিক তিন সত্যি, তিন মিথ্যে, তিন তিক্ত, তিন মিঠার অসংখ্য ছড়া গানের চল আছে বাংলাদেশে। সম্প্রতি বৃদ্ধ দাদুর মিথ্যের বেসাতি নিয়ে ছড়া কাটছে কিশোর-কিশোরীরা। এত বড় রঙ্গ দাদু, এত বড় রঙ্গ। কার রঙ্গ, না, দাদুর রঙ্গ। জাদু ছিল প্রাণ ভোলানো মানস কুমার। সঙ্গ লোভীরা ছড়া কেটে মঙ্গলিমা জানত প্রাচীন বাংলায়। ভদ্রকালে জাদুর প্রতিস্থাপন হয়েছে দাদুতে। এখন দাদুর ছড়াই গাওয়া হয়, জাদুর জাদুগিরি গোপন করে। বাংলার মানুষ বড়ই দুঃখী স্মরণাতীতকাল থেকে। তারা ভাবে ভাগ্য পরিবর্তন না হলে দুঃখ যাবে না। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় তারা আল্লাহকে ডাকে কিংবা ভগবানকে। ওই ডাকাডাকির ফাঁকতালে তাদের সামনে আসে ভাগ্য ব্যবসায়ীরা। কেউ পাথর নিয়ে কপালে ঘষে কপালের লিখন খ-ন করে দেয়। কেউ জাদুকরি খেল দেখায় কেউবা ভেলকিবাজি করে গরিবকে ধনী করে দেয়ার কথা বলে। গরিবকে নিয়ে ব্যবসা আজকের নয়, অনেক দিনের। বাংলাদেশ আমলে গরিবকে নিয়ে ব্যবসা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। ব্যবসায়ীদের লাভও তুঙ্গে উঠেছে। বাংলাদেশ আমলেই সাপের মাথার মণির চেয়েও ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবসার মুনাফা বেশি প্রমাণিত হয়েছে। মুনাফার গগনচুম্বিতার কারণে অসংখ্য এনজিওওয়ালা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ঋণ ব্যবসায়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আগে কেবল মুনাফাখোররাই এ ব্যবসায়ে আগ্রহী ছিল। এখন রাজনৈতিক দলীয় লোকজনও ফান্ড সংগ্রহের আশায় গরিবকে ধনী করার লোভ দেখিয়ে গরিবের টাকা আত্মসাৎ করছে। রাজনৈতিক এনজিওগুলোর মধ্যে আবার মৌলবাদী কানেকশন যুক্তরাই বেশি এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। এদের একটা সিন্ডিকেট আছে। বিপদে পড়লে পরস্পরকে সাহায্য করে এবং টাকা-পয়সা ঘুষ দিয়ে বিপদমুক্ত হয়। বড় এনজিওওয়ালারা আজ পর্যন্ত কেউ-ই দুর্নীতির দায়ে অপরাধী হয়ে জেল খাটেনি। এ উদাহরণই তাদের উৎসাহের মূল কারণ। তারা প্রবল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে গরিবি ব্যবসায়ে মুনাফা কামিয়েই চলেছে। তাদের মুনাফার পাহাড় তাদের স্পর্ধা এতই বাড়িয়ে দিয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় নিয়মতান্ত্রিক অনুমতি ব্যতিরেকেই বিদেশের সঙ্গে, বিদেশিদের সঙ্গে প্রকাশ্য এবং গোপন যোগাযোগ করেছে। বিষয়টি প্রচলিত আইনেই অপরাধ হিসেবে আমলকৃত হতে পারে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, তাদের ‘আইন’ ধরাধরি করতে পারে না, নিতান্তই অসঙ্গত কারণে। বিষয়টি মাঝেমধ্যেই স্পর্শকাতর বলে বর্ণিত হয়। কেন রাষ্ট্রের অবমাননাকারীকে বিচারে সোপর্দ করা স্পর্শকাতর হবে? হয়েছে কি কোনো দেশে, কোনো কালে? পাশের দেশ ভারতে ওই জাতীয় এনজিওওয়ালারা বিচারাধীন। এটা দেখেও কি কেউ শিখবে না? ভয় কিসের? দুর্নীতি, তা যে কোনো পর্যায়েরই হোক, বিচারযোগ্য। গরিবের অসহায়ত্বের সুযোগ নেয় কে? কে ভাঙে কৃষকের ঘর? ক’দিন আগে এক এনজিওওয়ালা এক ঋণগ্রস্তের ঘরের চাল খুলে নিয়ে গেছে। ঘরের চাল খুলে নিয়ে গরিবকে ধনী করার ফর্মুলা একমাত্র বাংলাদেশেই আছে। সম্ভবত বিশ্বের আর কোথাও নেই। সেই জাতীয় এনজিওওয়ালারা এখন নতুন করে একটা তিন শূন্যের ফর্মুলা দিয়েছে। সামাজিক ব্যবসার নামে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে তারা তিন শূন্যের নামে তিন মিথ্যার বেসাতি খুলে বসেছে। শূন্য তিনটি হচ্ছে। দারিদ্র্যশূন্য, বেকারত্বশূন্য এবং কার্বন নিঃসরণশূন্য। বাংলাদেশে মেকি পীরেরা যেমন বলে এই করলে ওই হবে, এটাও তেমন ধরনের ধোকাবাজি। দারিদ্র্য কখনই শূন্য হয় না। ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থার বুর্জোয়া সমাজ মূলত ধনী-গরিবের সমাজ। যারা শূন্য দারিদ্র্যের কথা বলে, তারা মূলত মিছে কথা বলে। যদি সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠিত না হয় তবে দারিদ্র্য থাকবেই_ হয়তো বা সহনীয় মাত্রায়। যেমন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোর দারিদ্র্য। সেখানে না খেয়ে মরার হিসাব নেই। সরকারি সাহায্য ছাড়া যারা চলতে পারে না, যারা জীবনীয় পর্যায়ের ভাতা গ্রহণ করে, তারাই দরিদ্র হিসেবে চিহ্নিত। কী প্রমাণিত হয় এ উদাহরণ থেকে? দারিদ্র্যকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায় না। দুই নাম্বার মিছে কথাটা হলো শূন্য বেকারত্ব। ধনতান্ত্রিক উৎপাদন ব্যবস্থায় বেকারত্ব শূন্য হয় না। শিল্পায়িত সমাজে মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক বর্তমান। শ্রমিক আবার কয়েক প্রকার। হোয়াইট কালার শ্রমিকরা নিজেদের পেশাজীবী বলে দাবি করে। তাদের বাদ দিলে দক্ষ এবং অদক্ষ শ্রমিক পাওয়া যাবে। শ্রমিকরাই কল-কারখানার প্রাণশক্তি। তারা শ্রম বিক্রি করে মালিকের কাছে। মালিক মজুরি দিয়ে শ্রম কেনে। এ মজুরির পরিমাণ ঠিক করা হয় মালিক-শ্রমিকের মধ্যকার দরকষাকষির মাধ্যমে। সরকার মাঝেমধ্যে হস্তক্ষেপ করে, কিন্তু শ্রমিকের পক্ষে বেশি কিছু করতে পারে না। সরকার শেষ পর্যন্ত দরকষাকষির একপর্যায়ে মালিকের পক্ষেই সাফাই গায়। এ রকম পরিস্থিতিতে মালিকরা কী করে? মজুরি তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য, শ্রমিকের বার্গেন পাওয়ার কন্ট্রোল করার জন্য বেকারদের একটা দঙ্গল পোষা হয়। যে শ্রমিক বেশি বাড়াবাড়ি করবে, তাকে প্রতিস্থাপনের জন্য বেকারদের দঙ্গল থেকে শ্রমিক সংগ্রহ করা হবে। সব শিল্পায়িত সমাজেই বেকার আছে। হোয়াইট কালার শ্রমিকরা বার্গেন পাওয়ার অনুশীলন করতে পারে না। কেননা সেখানেও ছদ্মবেকারত্ব বর্তমান। তিন মিথ্যের কারণ কী? প্রশ্ন হতে পারে। সম্ভবত উত্তরটাও আপনারা জানেন। তা হচ্ছে বর্তমান সরকারকে বিশেষ করে শেখ হাসিনাকে অপদস্ত করা। শেখ হাসিনার সরকার দারিদ্র্য দূরীকরণে অনেকটা অগ্রসর হয়েছে। আগে বাংলাদেশে প্রায়ই আকাল মঙ্গা দুর্ভিক্ষ দেখা দিত। মানুষও মারা যেত না খেয়ে এবং অপুষ্টিতে। শেখ হাসিনার আগের টার্মে কেউই না খেয়ে মরেনি। আকাল আসেনি, মঙ্গা লাগেনি। দুর্ভিক্ষের তো কোনো প্রশ্নই আসে না। এবারকার সরকার একটানা ছয় বছর পার করেছে ভালোভাবেই। কেউই না খেয়ে মরেনি। আকাল আসেনি, মঙ্গা লাগেনি। রাজনৈতিক কারণে আগুনে পুড়ে নাশকতাকারীদের হাতে অনেকেই মারা গেছে। খালেদা জিয়া তিন মাস দেশকে অবরুদ্ধ করে রেখে সবাইকে না খাইয়ে মারার কুপরিকল্পনা করেছিল। ভেবেছিল উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। কৃষকরা না খেয়ে মরবে। শহরে-বন্দরে বেকার শ্রমিকরা কাজ পাবে না, মজুরিও পাবে না। মরে লাশ হয়ে থাকবে রাস্তাঘাটে। কিন্তু শেখ হাসিনা তার কুবুদ্ধির মুখে বালি বসিয়ে দিয়েছে। কৃষি উৎপাদন অব্যাহত আছে, শিল্প-কলকারখানার উৎপাদনও বন্ধ হয়নি। কিছুটা ক্ষতি হলেও মৌলিক কোনো ক্ষতি হয়নি। যদিও যারা পরিকল্পিতভাবে ক্ষতি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ক্ষতিপূরণের মামলা করেনি, তবুও বলতে হবে শেখ হাসিনা যথাযথ নাশকতা প্রতিরোধ করেছে এবং নৈরাজ্য নিরস্ত্র করেছে। এটা ছাড়া বাংলাদেশে মৌলিক কোনো জনসমস্যা দেখা দেয়নি। যারা শেখ হাসিনার দারিদ্র্য নিরসন কর্মসূচিকে ফালতু প্রমাণ করতে চায়, তারাই এসব তিন শূন্য তত্ত্ব, যা প্রকারান্তরে তিন মিথ্যে তত্ত্ব, প্রচার করে চলেছে। আসল উদ্দেশ্য সামাজিক ব্যবসার নামে ব্যবসা করা এবং দেশের কল্যাণ কর্মসূচিকে ধ্বংস করা। এরাও ওই জাতীয় নাশকদের চেয়েও কম নয়। যারা আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারে, উৎপাদন প্রক্রিয়া ধ্বংস করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে সবকিছু গ্রাস করতে চায়। বাংলাদেশের পাকিস্তানপন্থীরা এবং পাকিস্তানের নাশকরা মিলেমিশে বাংলাদেশ দখলের বিভিন্নমাত্রিক পরিকল্পনা করেছে। তারা পদে পদে শেখ হাসিনাকে বাধা দেবে। গণতন্ত্রের নামে নৈরাজ্য করে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি বিধায় এখন দেশের সামাজিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার কূটপরিকল্পনা করেছে। বাংলাদেশ সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। তার মধ্যে কৃষিতে ‘অব্যাহত মঙ্গল’ এবং ধারাবাহিক উন্নয়ন একটি। বাংলাদেশের শান্তি স্বস্তি এই কৃষিতে অব্যাহত মঙ্গলের জন্যই। এই কৃষিকে খোড়া করার পরিকল্পনায় কৃষককে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য বিদেশ থেকে চাল আমদানির নামে চালবাজি করে দেশের কৃষককে মাথায় হাত দিয়ে ধানের ক্ষেতে বসতে বাধ্য করেছে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, কোনো কোনো কৃষক উৎপাদন খরচ তুলতে না পারার কারণে পরের মৌসুমে ধান চাষ বা অন্য অর্থকরী ফসল চাষ করার জন্য ঋণ করতে বাধ্য হবে। খুব সহজে ঋণ পাওয়া যায় এনজিও থেকে। তাদের এজেন্টরা আমলাদের প্ররোচিত করে কৃষিপণ্য নিয়ে মাঝেমধ্যেই তেলেশমাতি করায়। আপনারা তো জানেনই, সবকটি এনজিও কৃষকদেরই টার্গেট করেছে। এমনও প্রমাণ পাওয়া গেছে যে, কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণের সঙ্গে অসৎভাবে সম্পর্কিত মধ্যস্বত্বভোগীদের সঙ্গেও এনজিও জড়িত। কৃষক স্বাবলম্বী হলে এনজিও কাকে ঋণ দেবে? সামাজিক ব্যবসার ক্ষেত্র কোনটি? তার ভূগোল কী? কৃষকের সামান্য স্বস্তি তৈরি হয়েছে। এটি শকুনদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। তারা ওই স্বস্তিটুকু শুষে নিতে চায়। পেটে ভাত না থাকলেই কেবল কৃষকরা বিদ্রোহী হয়। তাদের সামাজিক গবেষণায় এরকমই ‘সন্ধান’ আছে। আওয়ামী লীগের বড় সমর্থন কৃষিক্ষেত্রেই। অনেক কুপরিকল্পনা করেও বাংলাদেশের পাকিস্তানিরা কৃষিক্ষেত্রে নৈরাজ্য আনতে পারেনি। এখন এনজিও লেলিয়ে দিয়েছে। এই এনজিওগুলো আবার সাম্রাজ্যবাদ সমর্থিত। তাদের হোতাগোতারা আবার তকমাপ্রাপ্ত। তাদের সরকার ভয়ও পায়। তাদের আইনের আওতায় আনার সাহসও সরকার দেখাতে পারে না। পারলে হয়তো সামাজিক ব্যবসার নামে কৃষি শোষণ বন্ধ করতে পারত এবং বিদেশে কৃষকের ‘রক্ত’ পাচার করাও বন্ধ করা যেত। কিন্তু তা সম্ভবত হবে না। অনেক উদাহরণ আছে বিচার না করার। যেমন বেশ কয়েকদিন আগে এক এনজিওর কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মিলে এক ঋণগ্রস্ত কৃষকের ঘর ভেঙে নিয়ে ঋণ উসুল করার চেষ্টা করেছে। কৃষকের ঘর ভাঙার অধিকার এনজিওওয়ালারা পায় কী করে? প্রাচীনকালে এক বোকা রাজা হুকুম জারি করেছিলেন, তার রাজ্যে বাস্তুবৃক্ষ নিধন নিষিদ্ধ। বাস্তু বলতে বসতবাটি বোঝায়। কৃষকের কুঁড়েঘরও বাস্তু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। ভাগ্যিস আমাদের দেশে রাজা নেই, তাই হুকুমও নেই। আছে এক ঠুঁটো জগন্নাথ রাষ্ট্রপতি। কৃষকের ঘর রক্ষার দায় নেই তার। রাষ্ট্রপতির হুকুম ছাড়া বৃক্ষ নিধন নিষিদ্ধ এরকম একটা আইনের কথা শুনেছিলাম। বাস্তবে তা আছে কিনা সন্দেহ। ওই রকম আর একটা আইন করা যায়। রাষ্ট্রপতির হুকুম ছাড়া বাস্তু ধ্বংস নিষিদ্ধ। তাহলে হয়তো কৃষকের কুঁড়েঘরগুলো রেহাই পাবে এনজিওওয়ালাদের হাত থেকে। ঋণ পালিশের ব্যাপারটেপার অনেক আগে থেকেই বাংলাদেশে আছে। এনজিওওয়ালারা ঋণ আদায়ের জন্য কোন আইন অনুসরণ করে? আইন থাক না থাক প্রশ্ন থাকে কৃষকের ঘর ভেঙে নিয়ে যায় শেখ মুজিবের বাংলায়, কে? সরকার যথেষ্ট অগ্রসর হয়েছে। এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে যদি গুপ্তঘাতকরা সক্রিয় না হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতির গুপ্তঘাতকরা সমাজের মধ্যেই লুকিয়ে আছে। এরা সমাজের আর্থিক শাঁস খায় এবং পাচারও করে। এদের অনেকেই আবার দেশবৈরী হিসেবে চিহ্নিত। অস্ত্র ব্যবসায়ী থেকে সামাজিক ব্যবসায়ী সবাই কোনো কোনোভাবে এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই আবার পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসায় করে যাতায়াতও করে। কার কার সঙ্গে কোথায় কোন পাকির সঙ্গে কথা হয়েছে কী কথা হয়েছে তা অনুসন্ধানের দাবি রাখে। আশা করি সরকার অর্থনীতির গুপ্তঘাতকদের ব্যাপারে সচেতন হবে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসবে। নইলে হয়তো দেখা যাবে এই এনজিওওয়ালারাই মৌলবাদীদের সহায়তায় কৃষকের ঘর ভাঙার মতোই বাংলাদেশ ভাঙবে। শুরুতেই বলেছি, দুঃখ সুখের আলোছায়ায় গ্রাম বাংলায় তিন সত্যি, তিন মিথ্যে বা তিন তিতা তিন মিঠা নিয়ে অসংখ্যক ছড়া গান আছে। নিম্ন কোটির মানুষজনরা ঢঙের নৃত্যসহ এসব ছড়া গানের আসর বসায়। এ রকম একটা তিন সত্যির গান নিম্নরূপ_ যুবতী কন্যা ঢঙসহকারে নেচে নেচে প্রশ্ন করে, এত বড় রঙ্গ জাদু, এত বড় রঙ্গ, তিন সত্যি দেখাতে পার? যাব তোমার সঙ্গ। যুবক মাথায় গুড়ের ভাঁড় নিয়ে নৃত্য ভঙ্গিতেই জবাব দেয়। ‘দিনে সত্যি সুরুজ গো, রাতে সত্যি চাঁদ। তার চেয়েও অধিক সত্যি তোমার প্রেমের ফাঁদ, পায়ে ধরি রূপসী গো ছাড় আমার সঙ্গ। নাচের শেষ দৃশ্যে গুড়ের ভাঁড় মাথা থেকে ফেলে যুবক পালিয়ে রেহাই পায়। সখিরা খিল খিল করে হাসে। বাংলাদেশের ভেলকিবাজরা যেভাবে তিন সত্যি কিংবা তিন মিথ্যের ঢঙের নৃত্য শুরু করছে। তাতে মনে হয় গরিব বাঙালিদের চাল চুলো ছেড়ে দ্বীপান্তরে যেতে হবে নইলে এদের ফাঁদে পড়ে একদিন প্রাণটাও যাবে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রত্যক্ষ প্রতিপক্ষ মনে হয় ওই তিন শূন্য তত্ত্ব। যদি সময় মতো একটা এনকাউন্টার না করা যায় তবে তারাই তাদের কূটকৌশলে সব উন্নয়ন কর্মকা- নস্যাৎ করে দেবে এবং অপপ্রচার করে আবদুল মালের মুখে ‘মাল’ ঘষে দেবে। কলসির ফুটো বন্ধ না করে যেমন পানি ঘরে আনা যায় না তেমনই অর্থনীতির পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অনুশীলন কৌশলী নিশ্ছিদ্র না হলে উন্নয়নের সুফল ঘরে তোলা যায় না। শিয়ালে, কুকুরে, ইঁদুরে, বান্দরে খেয়ে ফেলে। সাবধান হতে হবে যথাসময়ে।