এসডিজি অর্জনে বাংলাদেশের সামর্থ্য বেড়েছে

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো (এমডিজি) বাংলাদেশ ভালোভাবে পূরণ করতে পারায় টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে বাংলাদেশের সামর্থ্য এখন অনেক বেশি। তাই এসডিজির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।
সোমবার সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান। সচিব জানান, এসডিজি লক্ষ্য নির্ধারণে ১৭টি লক্ষ্যের মধ্যে ছয় থেকে সাতটি বিষয়ে বাংলাদেশের প্রস্তাব প্রাধান্য পেয়েছে। এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অভিবাসন, জলবায়ু পরিবর্তন, আন্তসীমান্ত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, সাগর-মহাসাগরের সম্পদ ব্যবস্থাপনা, শিল্পোন্নত দেশের অধিকার।
শহীদুল হক বলেন, এবারের উন্নয়ন এজেন্ডায় সুশাসন, ন্যায়বিচার ও সংঘাতের মতো বিষয়গুলো যুক্ত হয়েছে। কারণ, শান্তি ও স্থিতিশীলতা না থাকলে উন্নয়ন যে নিশ্চিত হবে না, এ বিষয়ে সদস্যদেশগুলো একমত পোষণ করেছে।
প্রসঙ্গত; ২০৩০ সালের মধ্যে দারিদ্র্য পুরোপুরি দূর করা এবং বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, সামাজিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সুরক্ষার জন্য নতুন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের এজেন্ডা সোমবার সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছে। জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্যদেশ দীর্ঘ তিন বছরের দর-কষাকষি শেষে ১৭টি লক্ষ্য সামনে রেখে এ এজেন্ডা গ্রহণ করেছে। আগামী ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠেয় টেকসই উন্নয়ন শীর্ষ সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৫০টি দেশের শীর্ষ নেতারা এই এজেন্ডা চূড়ান্তভাবে অনুমোদন করবেন। আগামী বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এই লক্ষ্য পূরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
সচিব আরও বলেন, এসডিজিতে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্গেট দিয়েছে। তা হচ্ছে অটিজম। অটিজম নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতেই এ টার্গেট দেয়া হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রাগুলো নির্ধারণের পর জাতিসংঘের সদস্যগুলোর মধ্যে নানা বির্তকও হয়েছে। পরে সবার সম্মতিতে তা গ্রহণ করা হয়।
শহীদুল হক বলেন, এসব লক্ষ্য ছাড়া জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলো তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিবেচনা করে নিজেরাও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে পারবে। তবে তা অবশ্যই জাতিসংঘ প্রণীত কাঠামোর মধ্যে থাকবে। এছাড়া বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক নদ-নদীর পানি বণ্টন ইস্যুর পাশাপাশি সমুদ্রের ব্যবহারের প্রসঙ্গও এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।