পুঁজিবাজারে টানা উত্থান : ৯শ কোটি টাকা ছাড়াল ডিএসইর লেনদেন

টানা উত্থান ধরে রেখেছে দেশের উভয় শেয়ারবাজর। মূল্যসূচকের সঙ্গে প্রতিদিন বাড়ছে লেনদেনের পরিমাণও। সপ্তাহরে তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল মঙ্গলবার প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ও অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) টানা তৃতীয় দিনের মতো মূল্যসূচক বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে ৯ পয়েন্ট। অপর শেয়ারবাজার সিএসইতে সিএসইএক্স সূচক বেড়েছে ২৪ পয়েন্ট।

অপরদিকে ডিএসইতে দিন শেষে লেনদেন হয়েছে ৯২৮ কোটি ২৭ লাখ টাকা। যা আগের দিনের তুলনায় ১১৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা বেশি। আর সিএইতে লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি ১১ লাখ টাকা। যা আগের দিনের চেয়ে ৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা বেশি।

ডিএসইতে চলতি বছরে প্রথমবারের মতো ১ জুন ১ হাজার ২ কোটি ৩৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা লেনদেন হয়েছিল। কিন্তু তারপর ধীরে ধীরে কমতে থাকে লেনদেনের পরিমাণ। এক পর্যায়ে লেনদেন নেমে এসেছিল ৩০০ কোটি টাকায়। তবে রমজানের শেষ দিকে লেনদেনের গতি ফিরতে শুরু করে এবং তারই ধারাবাহিকতায় লেনদেন ফের হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি এসে দাঁড়িয়েছে। এর আগে ডিএসইতে টানা দুদিন ৮শ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়। আর শেষ ১০ কার্যদিবসের প্রতিদিনই ডিএসইতে ৬শ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৮শ কোটি টাকার ওপরে লেনদেন আছে ৪ দিন এবং ৭শ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে ৩ দিন।

ঊর্ধ্বমুখী বাজার প্রসঙ্গে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ব্যক্তি শ্রেণির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে লেনদেন বাড়ছে। আর লেনদেন আর সূচকের পাশাপাশি পুঁজিবাজারে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বাজার মূলধন।

আর এতে বাজারকে ঘিরে আশাবাদী হয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এ ধারা বিদ্যমান থাকলে দেশের শেয়ারবাজার আবারো স্থিতিশীলতার দিকে যাবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মনে স্বস্তি ফিরে আসবে।

বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, দিন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৯ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৪ হাজার ৮৭১ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১ হাজার ২০৭ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১ হাজার ৯০৪ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ৩২৩টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫৬টির, কমেছে ১২৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৯টি কোম্পানির শেয়ারদর। টাকার অঙ্কে লেনদেন হয়েছে ৯২৮ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার টাকা। যা গত ২ মাসের সর্বোচ্চ।

এর আগের দিন সোমবার ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ৬০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ৪ হাজার ৮৬২ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১ হাজার ২০৩ পয়েন্টে এবং ডিএসই ৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করে ১ হাজার ৯০১ পয়েন্টে। ওইদিন লেনদেন হয় ৮১১ কোটি ৭১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা। সে হিসাবে গতকাল ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ১১৬ কোটি ৫৫ লাখ ৬২ হাজার টাকা বা ১৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

এদিন ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে রয়েছে ইউনাইটেড এয়ার। দিন শেষে কোম্পানিটির ৪৩ কোটি ৩৬ লাখ ৭৬ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের লেনদেন হয়েছে ৩৬ কোটি ৬৯ লাখ ৮১ হাজার টাকা। ৩২ কোটি ২২ লাখ ৭১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেনে তৃতীয় স্থানে রয়েছে লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। লেনদেনে এরপর রয়েছে যথাক্রমে- বেক্সিমকো, বিএসআরএম স্টিল, বেক্সিমকো ফার্মা, স্কয়ার ফার্মা, ফ্যামেলিটেক্স, ইউনাইটেড পাওয়ার, শাহজিবাজার পাওয়ার কোম্পানি।

এদিকে দিন শেষে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সাধারণ মূল্যসূচক ২৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৯ হাজার ১০০ পয়েন্টে। দিনভর লেনদেন হওয়া ২৬১টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৫টির, কমেছে ৯৬টির ও দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩০টির। টাকার অঙ্কে লেনদেন হয়েছে ৭০ কোটি ১১ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

এর আগের কার্যদিবস অর্থাৎ সোমবার সিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ১০৪ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৯ হাজার ৮২ পয়েন্টে। ওই দিন লেনদেন হয় ৬১ কোটি ৬২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। সে হিসাবে গতকাল সিএসইতে লেনদেন বেড়েছে ৮ কোটি ৪৯ লাখ ৫৬ হাজার টাকা বা ১৩ দশমিক ৭৯ শতাংশ।