ভোটার হচ্ছেন বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দারা

বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দাদের বিশেষ ব্যবস্থায় ভোটার করার পরিকল্পনা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে ভোটার করার আগে ছিটমহল বিনিময় সংক্রান্ত সরকারি গেজেটের অপেক্ষায় রয়েছে কমিশন। এজন্য ইতিমধ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করেছেন ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মোবারক ইত্তেফাককে বলেন, সাবেক ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভোটার করার জন্য কমিশন প্রস্তুত রয়েছে। ছিটমহলগুলো কোন মৌজায় পড়েছে সেটি নিশ্চিত হওয়ার পর ভোটার করার ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। এখনো পর্যন্ত বিনিময় সংক্রান্ত ছিটমহলগুলোর কোন সীমানা নির্দিষ্ট করা হয়নি।

ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, ছিটমহলের বাসিন্দাদের ভোটার করার ব্যাপারে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। হালনাগাদে সম্ভব না হলে তাদেরকে বিশেষ ব্যবস্থায় ভোটার করার পরিকল্পনা আছে।

বাংলাদেশ-ভারত স্থলসীমান্ত চুক্তির দলিল হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে ছিলমহলবাসীর ভোটার হওয়ার দ্বার উন্মোচিত হলো। এখন চুক্তি অনুযায়ী ছিটমহলবাসীকে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একই সঙ্গে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রও দেয়া হবে।

গত ৬ জুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ঢাকা সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুই দেশের স্থলসীমান্ত চুক্তির দলিল হস্তান্তর করেন। এর মধ্য দিয়ে ছিটমহলবাসীর দীর্ঘ ৬৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটে। গত শুক্রবার মধ্যরাতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় হয়। সেখানকার অধিবাসীরা এখন ছিটবাসী নয়, বাংলাদেশ বা ভারতের নাগরিক।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে তাদের নাগরিকত্ব দিতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে কমিশন। দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল সমস্যার মীমাংসা না হওয়ায় সরকারকে বার বার চিঠি দিয়েও ছিলমহলবাসীকে ভোটার করা সম্ভব হয়নি। ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকাতে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পরিচয়পত্রও ভাগ্যে জোটেনি। জাতীয় পরিচয়পত্রধারী না হলে পাসপোর্টও মেলে না। তবে এবার আর নামে বাংলাদেশি নয়, সত্যিকারের বাংলাদেশি নাগরিক হিসাবে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পেতে যাচ্ছেন সাবেক ছিটমহল বাসিন্দারা।

প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ২৫ বছর যাবত্ ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি ভারতের ভূ-খণ্ডে অবস্থিত বাংলাদেশের ছিটমহলসমূহের বাসিন্দাদের। সর্বশেষ ১৯৯০ সালে ৪০ হাজার ছিটবাসীর নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এরপর যতবারই ভোটার তালিকা তৈরি হয়েছে ততবারই আইনি জটিলতার কারণে তাদেরকে ভোটার করা হয়নি।

১৯৯৭ সালের যৌথ জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে ছিটমহল ছিল ১৬২টি। ভারতের অভ্যন্তরে ছিটমহলের সংখ্যা ৫১টি। এসব ছিটমহলে ১৪ হাজার মানুষের বসবাস। অন্যদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছিটমহল ছিল ১১১টি। এসব ছিটমহলে ৩৭ হাজার ৩৮৬ জন মানুষের বাস।