উদ্বৃত্ত অস্ত্র রপ্তানির প্রক্রিয়া শুরু

বাংলাদেশ এবার অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানিতে আগ্রহী। বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানা (বিওএফ) কর্তৃক উৎপাদিত অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং বিস্ফোরক রপ্তানি করার বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে মতামতসহ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানায়, গত ২১ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় বিওএফ কর্তৃপক্ষ প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে, বর্তমানে যে পরিমাণ অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উৎপাদন হচ্ছে তা দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত থাকে। বিওএফ এরই মধ্যে পর্যাপ্ত অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ উৎপাদন করতে সক্ষমতা অর্জন করেছে, যা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানি করাও সম্ভব। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বিওএফের কর্মকা-ে সন্তোষ প্রকাশ করে অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ দেশের চাহিদা মেটানোর পর বিদেশে রপ্তানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনাও দেন। এরপর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অস্ত্র, বিস্ফোরক ও গোলাবারুদ রপ্তানির বিষয়ে মতামতসহ প্রক্রিয়া জানানোর অনুরোধ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চিঠি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। শিগগির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে এ বিষয়ে বৈঠক করে রপ্তানি প্রক্রিয়া ঠিক করে মতামত জানানো হবে। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রথম অস্ত্র-গোলাবারুদ রপ্তানি করেছিল। দীর্ঘ সময় পর আবারও অস্ত্র-গোলাবারুদ রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে বর্তমানে এসব বস্তু রপ্তানির কোনো আইন বা নীতিমালা নেই। পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ‘অস্ত্র ছাড়া সবকিছু (এভরিথিং বাট আর্মস)’ এই নীতি অনুসরণ করে আসছে। এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা আমাদের সময়কে বলেন, সমরাস্ত্র উদ্বৃত্ত রয়েছে। এটি রপ্তানি করার ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। বিশেষ করে এটি রপ্তানি করলে জিএসপি সুবিধায় কোনো ব্যাঘাত ঘটে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়া সমরাস্ত্র রপ্তানির পর বিশ্বের শক্তিশালী দেশ বাংলাদেশকে কীভাবে নেয় সে বিষয়টিও দেখা হচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা পরিচালক জায়েদ বখ্ত আমাদের সময়কে বলেন, এটি সম্ভব হতে পারে। প্রযুক্তির জিনিস। এখানে উৎপাদনে খরচ কম। আমাদের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্তটা রপ্তানি করতেই পারি। তবে খেয়াল রাখতে হবে কোন দেশে তা রপ্তানি করা হচ্ছে। বৈরী কোনো দেশে এটি রপ্তানি করা ঠিক হবে না। এছাড়া কোনো সন্ত্রাসীদের হাতে যেন না যায় সেদিকেও নজর দিতে হবে। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মুনসুর আমাদের সময়কে বলেন, সক্ষমতা থাকলে বাজারই তা বলে দেবে। তবে ১০ হাজার টাকার রাইফেল যেন ৫ হাজার টাকায় রপ্তানি না করা হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। সক্ষমতার বিষয়ে তিনি বলেন, ছোটখাটো অস্ত্র রপ্তানি করতেই পারে।
জানা গেছে, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রশাসন ও ব্যবস্থাপনা পরিদপ্তর ২০১৩ সালের ২৮ জুলাই বাংলাদেশ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানির ব্যাপারে প্রথম আগ্রহ দেখায়। এরপর গত বছর ২১ জানুয়ারি বিওএফ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রপ্তানির লক্ষ্যে মতামত চেয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়।