২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দেবে এডিবি

বাংলাদেশকে এবার ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দেশের পুঁজিবাজার ও বিমা খাতের উন্নয়নে ২৬টি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চলতি ও আগামী অর্থবছরে সরকার এ ঋণ সহায়তা পাবে বলে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, এডিবি এবার ক্যাপিটাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-সিএমডিপি প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ের আওতায় ২৫ কোটি ডলার বাজেট সহায়তা দিতে রাজি হয়েছে এডিবি। তবে এ অর্থ বাজেট সহায়তার চরিত্র অনুযায়ী সরকার নিজের মতো করে যে কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বা বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করতে পারবে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইআরডির এডিবি ডেস্ক প্রধান যুগ্ম সচিব সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী ৯ ও ১০ অগাস্ট বাজেট সহায়তা নিয়ে এডিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের সমঝোতা বৈঠক রয়েছে। ওই বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর এডিবির ম্যানিলাস্থ সদর দপ্তরের বোর্ড সভায় অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। এরপর বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এডিবির চুক্তি সই হবে। সব মিলিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হবে বলে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এডিবির এ ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১০ কোটি ডলার নমনীয় ঋণ হিসেবে দেবে এডিবি। পাঁচ বছরের রেয়াতকালসহ ২৫ বছরে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। সুদ দিতে হবে ২ শতাংশ হারে। বাজেট সহায়তার বাকি ১৫ কোটি ডলার আসবে কঠিন শর্তের ঋণ হিসেবে। এ ঋণের বিপরীতে লন্ডন আন্তঃব্যাংক সুদ হারের (লাইবর) সঙ্গে দশমিক ৬ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে সব মিলিয়ে সুদের হার দাঁড়ায় ৩ শতাংশের বেশি। মাত্র ৩ বছরের রেয়াতকালসহ ১৫ বছরে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে। এডিবি এই ২৫ কোটি ডলার দেবে দুই কিস্তিতে। প্রথম দফায় ৮টি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ৮ কোটি ডলার ছাড় করবে সংস্থাটি। ঋণ চুক্তির ১৮ মাসের মধ্যে ওই শর্তগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ পেতে সরকারকে ১৮টি শর্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। এটি করতে হবে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে। তারপরই দাতা সংস্থাটি বাকি ১৭ কোটি ডলার ছাড় দেবে।

এর আগে পুঁজিবাজার উন্নয়ন কর্মসূচিতে (দ্বিতীয় পর্যায়ে) ৩০ কোটি ডলার সহায়ত দেয় এডিবি। ১৫ কোটি করে দুই দফায় ৩০ কোটি ডলার ছাড় করে সংস্থাটি। এ জন্য পুঁজিবাজার সংক্রান্ত ২৮টি শর্ত বাস্তবায়ন করতে হয় সরকারকে। সম্প্রতি এ কর্মসূচির কাজ শেষ হয়েছে। ইআরডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, এডিবির বেঁধে দেয়া শর্তের মধ্যে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত আইন-কানুন সংশোধনের বেশ কিছু প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (এসইসি) জনবল বৃদ্ধিসহ সংস্থাটি আরো শক্তিশালীকরণ এবং এসইসির সব কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয় করা। শর্তের মধ্যে আরো রয়েছে বিমা খাতের প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন।

বিমা নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ-এর জনবল কাঠামো ও মনিটরিং ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করতে হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের আইন-কানুন হালনাগাদেরও প্রস্তাব রয়েছে এডিবির শর্তে। এসব সংস্কারমূলক কাজ বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে এডিবি। এ জন্য অতিরিক্ত সাত লাখ ডলার অনুদান সহায়তা দেবে সংস্থাটি।