‘সেনাবাহিনী আঙ্গোরে ভাঙন তুন রক্ষা কইচ্ছে’

“ইয়ানো (এলাকায়) মেঘনা নদীর ভাঙন বন্ধ করার লাই (জন্য) সরকার কয়েকবার টেঁয়া (টাকা) দিছে। কিন্তু ঠিকাদাররা নামমাত্র দুই চাইর বস্তা বালু হালাই কামের(কাজের) লাখ লাখ টেঁয়া লুডি (লুট) লই গেছে। পাঁচ বছর আগে আঁর ঘর দুয়ার সহায় সম্পত্তি নদী ভাঙি লই গেছে। হরে (পরে) ইয়ানো বাড়ি বাঁইনছি (বেঁধেছি)। এইটাও ভাঙনের মইধ্যে আছিলো। বর্তমানে সেনাবাহিনী বাঁধের কাজ করায় ভাঙন তুন রক্ষা হাইছি(পাইছি)। ৩৭ কিলোমিটার বাঁধের কাজ পুরাটা সেনাবাহিনীরে দি কইত্তে অইব; সরকারের কাছে এইটা আঙ্গো দাবি।”
শনিবার নদী ভাঙন সর্ম্পকে জানতে চাইলে এভাবেই প্রতিক্রিয়া জানান ইসমাইল হোসেন। তিনি উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার আলেকজান্ডার এলাকার বাসিন্দা। স্বচ্ছ ও নিরলসভাবে কাজ করায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পুরো বাঁধের কাজ করানোর এমন দাবি সরকারের প্রতি অসংখ্য লক্ষ্মীপুরবাসীর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মেঘনার ভাঙ্গনরোধে লক্ষ্মীপুরের ৩৭ কিলোমিটার এলাকায় এক হাজার ৩৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন করে একনেক। গত বছর ওই প্রকল্পের সাড়ে ৫ কিলোমিটার এলাকায় বাঁধ নির্মাণের জন্য একশ’ ৯৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। পরে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে গত ১ ফেব্রুয়ািে সেনাবাহিনীর ১৯ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন এ বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু করে। প্রাথমিকভাবে রামগতিতে এক কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও মানুষের জানমালের কথা ভেবে সাড়ে ৩ কিলোমিটারের কাজ হাতে নেয় সেনাবাহিনী।
ইতিমধ্যে গত ৫ মাসে সাড়ে তিন কিলোমিটার কাজের ৫০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে এক কিলোমিটার বাঁধের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হয়। এতে করে চলতি বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে আলেকজান্ডার আ স ম আবদুর রব সরকারি কলেজ, আলিয়া মাদ্রাসা, পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, উপজেলা ভবনসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা, অসংখ্য ঘর-বাড়ি।
প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত সেনাবাহিনীর ১৯ ইসিবির সকল স্তরের ৬০ জন সৈনিক কাজ করছেন। বিভিন্ন সরকারি ছুটি ও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে তারা কাজ করে যাচ্ছেন। এ কাজে সেনাবাহিনীর নিয়োগপ্রাপ্ত ৪টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা তাদেরকে সহযোগিতা করছেন।
এদিকে ৩৭ কিলোমিটার এলাকার এখনো প্রায় ৩৩ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনরোধে প্রকল্পে দ্রুত বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রামগতি উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন হেলাল জানান, সেনাবাহিনীর সততা, আন্তরিকতা ও নিরলস পরিশ্রমের কারণে এবার রামগতি সদর আলেকজান্ডারের প্রায় এক কিলোমিটার ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। পুরো প্রকল্পে দ্রুত বরাদ্দ দিয়ে রামগতি ও কমলনগরবাসীকে রক্ষা করার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান তিনি।
আলেকজান্ডার বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি বাহার খন্দকার জানান, সেনাবাহিনীর বাঁধ নির্মাণের কারণে এবার বর্ষা মৌসুমে ভাঙন থেকে রক্ষা পেয়েছে আলেকজান্ডার বাজারসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনা। প্রকল্পে বরাদ্দ হলে অবশিষ্ট কাজ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে করানোর জন্য সরকারের কাছে তার দাবি।
প্রকল্প পরিচালক সেনাবাহিনীর ১৯ ইসিবির অধিনায়ক লে.কর্নেল তানভীর হোসেন পিএসসি জানান, বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশনা ও সার্বিক সহায়তায় ইউনিটের সকল স্তরের সেনা সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছেন। এসডব্লিউও এর পরিচালক ব্রিগ্রেডিয়ার জেনারেল আবদুল ওহাবের তত্ত্বাবধানে মাত্র ৫ মাসে সাড়ে তিন কিলোমিটার বাধের ৫০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। রামগতিতে তাদের সাড়ে ৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণের কথা রয়েছে।
লক্ষ্মীপুর-৪(কমলনগর-রামগতি) আসনের এমপি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বর্তমানে সাড়ে ৫ কিলোমিটার বাধের কাজ করা হবে। ভাঙনের কবল থেকে রামগতি-কমলনগরবাসীকে রক্ষা করতে ৩৭ কিলোমিটারের মধ্যে অবশিষ্ট অংশের কাজের বরাদ্দ পেতে তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন। বরাদ্দ পেলে জনগণের দাবি মতে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে কাজ করানো হবে।