তথ্য-অর্থনীতির পথে বাংলাদেশ

সজীব ওয়াজেদ বাংলাদেশের সরকার প্রধান শেখ হাসিনার তথ্য প্রযুক্তির প্রধান উপদেষ্টা ও ছেলে। তিনি জাপানভিত্তিক এশিয়া-প্যাসিফিক জোনের অন্যতম ম্যাগাজিন দি ডিপলোমেটে ‘বাংলাদেশ জয়েনস দি নলেজ ইকনমি’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। এতে তিনি বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তিতে কিভাবে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়েছে সে সম্পর্কে লিখেছেন। তার লেখাটি এখানে তুলে ধরা হলো :

পোশাক খাতের কল্যাণে বাংলাদেশ বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ অর্জিত হয়। তবে পোশাক খাতের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কিন্তু তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক অর্থ উপার্জন করা সম্ভব হবে।

জুনের শেষের দিকে বাংলাদেশ সরকার ভারতের বড় আইটি কোম্পানি ইনফয়েসের সঙ্গে পার্টনারশিপে তথ্যপ্রযুক্তি পার্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। তাতে ৬০ হাজার পেশাধারী তথ্য প্রযুক্তি কর্মীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এ পার্কে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা থেকে ২৫ মাইল দূরে নির্মিত হবে এ পার্কটি।

এই পার্ক দেশী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে। তাতে বাংলাদেশের তরুণরা ডিজিটাল কাজের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। বাংলাদেশের লক্ষ্য গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন ও এ্যাপ ডেভেলপমেন্টে বিশ্বের শীর্ষে অবস্থান করা। তথ্য প্রযুক্তির এই পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্মসংস্থান ও তথ্যপ্রযুক্তিতে বিদেশী বিনিয়োগ আরো বাড়বে।

বাংলাদেশ সরকারের এ উদ্যোগ সরকারের নীতিতে রাজধানী ঢাকা থেকে দেশের সর্বস্তরে বিরাট পরিবর্তন আসবে। ২০১৩ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিক্সের বাংলাদেশের সন্তান গ্রাজুয়েট ডিগ্রি নিয়ে ডুগডুগি নামের একটি মিউজিক সার্ভিস চালু করে বাংলাদেশে। এছাড়া বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের তথ্য প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করাতে লাইট ক্যাসেল নামের ব্যাংকিং ও প্রযুক্তি নিয়ে আরো একটি কোম্পানি কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেছে।

চালডালডটকম নামের একটি প্রযুক্তি সিলিকন ভ্যালির একটি কোম্পানি বাংলাদেশে ৫শ শাখা প্রতিষ্ঠা করবে। এখানে প্রযুক্তির ব্যবহার করে চাল ডালসহ প্রায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাবে অনলাইনে সহজে। ঢাকা থেকে এই কোম্পানিটির কার্যক্রম চালু করা হবে। ক্রমান্বয়ে সারা দেশে প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ উদ্যোক্তা যুক্তরাষ্ট্রের পেলসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেছেন।

বাংলাদেশের ১৬৫ মিলিয়ন মানুষের মধ্যে ১০০ মিলিয়ন মানুষ মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন। প্রতিদিন ৫০ হাজার মোবাইল ইউজার যুক্ত হচ্ছে মোবাইল ব্যবহারকারীর তালিকায়। ২৯ মিলিয়ন মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী নিজেদের জীবন ধারা পরিবর্তন করে দিচ্ছেন।

সম্প্রতি ই-কমার্স ব্যবহার করে বাংলাদেশের ৫০ শতাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী। জিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণের প্রত্যয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। একই প্রত্যয়কে সামনে রেখে তিনি দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন ২০১৪ সালের নির্বাচনে। নির্বাচনি প্রচারণায় ডিজিটাল বাংলাদেশ ভিশন ২০২১। বাংলাদেশ ২০২১ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে।

বাংলাদেশ সরকার বাংলাগভনেট নামে উচ্চগতি সম্পন্ন ফাইবার অপটিকস স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরসহ সারাদেশকে এই প্রকল্পের আওতায় আনা হচ্ছে। এ প্রযুক্তি চালু হলে বাংলাদেশে সরকারী কাজে গতিশীলতা আসবে। একই সাথে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বেড়ে দুর্নীতি রোধ হবে।

সরকারী কর্মসংক্রান্ত পরীক্ষা, অনলাইনে বইপড়া, বাসায় বসে সব ধরনের সেবা পাবে গ্রাহকরা। অন লাইনেই সকল তথ্য পাওয়া যাবে। নগদ লেনদেনের মধ্যেও এসেছে পরিবর্তন। জাতিসংঘের সমর্থনযোগ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের অধিকাংশ বড় বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ভিসা কার্ড চালু করেছে।

একযোগে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে বাংলাদেশের নাগরিকদের জীবনমান উন্নত হচ্ছে। জুনে বাংলাদেশ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্ব ব্যাংক। বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে বাংলাদেশ নিম্ম আয় থেকে নিু মধ্যবিত্ত আয়ের দেশে পদার্পণ করেছে। একই সাথে বাংলাদেশ ২০১৩ সালের পরবর্তী বছরে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বিনিয়েগে আর্কষণ করতে সমর্থ হয়েছে বলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

বাংলাদেশে বিদেশী বিনিয়োগ বেড়েছে এর মধ্যে বেশী বিনিয়োগ করেছে মার্কিন ব্যবসায়ীরা। বিশ্বের বৃহত্তম তথ্য প্রযুক্তি কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের টাই গ্লোবাল। টাই গ্লোবালের সাবেক প্রধান নির্বাহী পিকে আগরওয়াল বলেন, বাংলাদেশ ‘ নেকস্ট ইকোনোমিক জায়ান্ট ’এবং সরকার তথ্য প্রযুক্তির সুবিধা পাবে।