শুধু টি-শার্টেই রপ্তানি আয় ৪৮ হাজার কোটি টাকা!

জাতীয় রপ্তানিতে অবদান ২০ শতাংশ

শুধু টি-শার্ট রপ্তানি থেকেই সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশের আয় হয়েছে ছয় বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা। দীর্ঘদিন ধরেই তৈরি পোশাকশিল্পে টি-শার্টই দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য। এর ফলে গত অর্থবছরে দেশের মোট জাতীয় রপ্তানি ৩১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে টি-শার্টের অবদান প্রায় ২০ শতাংশ।

টি-শার্টের পরেই দ্বিতীয় প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে যথারীতি ট্রাউজার বা প্যান্টের অবস্থান। গত অর্থবছরে তৈরি প্যান্ট রপ্তানি করে বাংলাদেশের আয় হয়েছিল ৫.৬৯৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৪৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। রপ্তানি পণ্য হিসেবে এরপরেই আছে জ্যাকেট, স্যুয়েটার এবং শার্ট। গত অর্থবছরে তৈরি পোশাক খাতের এই তিনটি পণ্য রপ্তানি হয়েছে যথাক্রমে ৩.১৮, ২.৮৩ এবং ২.২৭ বিলিয়ন ডলার।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৩১.১৯ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পের অবদান প্রায় সাড়ে ২৫ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের প্রধান পণ্য হয়ে উঠেছে মানুষের নিত্য ব্যবহার্য টি-শার্ট আর প্যান্ট। কর্মসংস্থান এবং বিনিয়োগে যেমন এগিয়ে তেমনি রপ্তানি খাতকেও সামনে থেকে পথ দেখাচ্ছে এ দুটি পণ্য।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ২০০২-০৩ সাল পর্যন্ত শার্টই ছিল বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের প্রধান রপ্তানি পণ্য। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এবং বায়ারদের ব্যাপক চাহিদার কারণে বর্তমানে প্যান্ট (ট্রাউজার) ও টি-শার্টই (পোলো শার্ট এবং টি-শার্ট) সেই জায়গা দখল করে নিয়েছে।

পোশাক খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সস্তা শ্রম আর কম উৎপাদন খরচের কারণে এইচঅ্যান্ডএম, গ্যাপ, ওয়ালমার্ট, জারার মতো বিশ্বখ্যাত চেইনশপগুলো যেমন আছে, তেমনি বিশ্বের নামি পোশাক ব্র্যান্ড জর্জিও আরমানি, পোলো রাল্ফ লরেন, হুগো বস, টমি হিলফিগার, বেন হিউসেন ও কেলভিন ক্লেইনও বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তৈরি পোশাক আমদানি করে।

রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং তাজরীন ও রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর কমপ্লায়েন্স নিয়ে বায়ারদের কড়াকড়ির কারণে গত বছর দেশের রপ্তানি খাত এমনিতেই বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় টি-শার্ট রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় এক হাজার ৬০০ কোটি টাকা।

চট্টগ্রামে পোলো ও টি-শার্ট উৎপাদনের অন্যতম বৃহৎ কারখানা বেস টেক্সটাইল। চট্টগ্রামের কালুরঘাট শিল্প এলাকায় ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত কারখানাটির বর্তমান প্রতিদিন উৎপাদন ক্ষমতা ৫০ হাজার পিস। বিশ্বব্যাপী টি-শার্টের জনপ্রিয়তা ও চাহিদা বাড়ার কারণ প্রসঙ্গে বেস টেক্সটাইলের নির্বাহী পরিচালক শাকিল মঞ্জুর কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বিশ্বব্যাপী জীবনধারা পরিবর্তন হয়েছে। একটা সময় ফ্যাশনকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতো। আর এখন ফ্যাশনের পাশাপাশি আরামদায়ক পোশাকের প্রতিই বেশি ঝোঁক। এ কারণে টি-শার্টের চাহিদা ও জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে।’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে মূলত তিন ধরনের টি-শার্ট তৈরি হয়। যেমন-রিটেইল স্টোরের জন্য, ক্যাটালগ কাস্টমার এবং প্রোমোশনাল আইটেমের টি-শার্ট। এর চেয়ে প্রিমিয়াম ক্যাটাগরির ফ্যাশন প্রোডাক্ট বাংলাদেশে কেউ করছে বলে জানা নেই।’

টি-শার্টের চাহিদা ও জনপ্রিয়তার উদাহরণ দিতে গিয়ে শাকিল মঞ্জুর জানান, গত অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক স্থবিরতার মধ্যেও এই কারখানার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ শতাংশ। যা কারখানা প্রতিষ্ঠার পর গত ১৯ বছরে সর্বোচ্চ। চলতি অর্থবছরেও টি-শার্টের যথেষ্ট অর্ডার রয়েছে বলে তিনি জানান।

গত অর্থবছরের প্রথমার্ধে গার্মেন্ট পণ্য অর্ডারের যে সংকট ছিল এখন তা অনেকটাই কাটিয়ে উঠেছে। টি-শার্টের মতো প্যান্টের অর্ডারও আসছে প্রচুর। চট্টগ্রাম ইপিজেডের বিদেশি মালিকানাধীন ডেনিম প্লাস (বিডি) লিমিটেডের সিনিয়র মহাব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ হোসাইন বলেন, ‘আগের বছরের মতো এবারও আমাদের যথেষ্ট অর্ডার রয়েছে। গার্মেন্টশিল্পে গত বছর যে আশঙ্কার কালো মেঘ দেখা গিয়েছিল সেটা এখন নেই বললেই চলে।’